Rokto lady action film starring pori moni directed by malek afsari produced by jaaz multimediaযৌথ প্রযোজনার সিনেমা দেখতে বসলে এখন চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়। ঝকঝকে তকতকে নির্মাণের সিনেমা দেখব এই ভেবে।দর্শকও অার অাগের মতো নেই।ভালো লাগতেই হবে নয়তো গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়বে। কষ্টটা শেষ পর্যন্ত টাকার। যৌথ প্রযোজনার ঈদুল অাযহা-২০১৬–র সিনেমা ‘রক্ত’ কৌশলগত কারণে অাধুনিক হয়েও শেষ পর্যন্ত পেছানো সিনেমা। প্রতিশোধের গল্পে গতানুগতিক স্টেরিওটাইপে পড়া অথচ অাধুনিক সিনেমার ব্যানারটি গায়ে জড়িয়েও সম্পূর্ণ তৃপ্তি দেয় না।

‘রক্ত’ সিনেমার গল্পকে ‘the long kiss goodnight’ নামের হলিউড সিনেমা থেকে কপি করা হয়েছে। যার মূল চরিত্রে ছিল geena davis. হলিউডি সিনেমার বাঁকবদল করা সোজা না। অথচ সোজা করতে চাওয়া হয়েছে।বাংলা সিনেমা হিশেবে যখন এটিকে নির্মাণ করা হচ্ছে একটা বিস্তর স্টাডির সুযোগ থাকে। ‘রক্ত’ টিম অ্যাকশন নাকি লেডি অ্যাকশন সিনেমা নির্মাণ করবে সেদিকটি পরিষ্কার করতে হত। প্রাথমিক প্রচারণায় চাউর হয় এটি লেডি অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা হতে যাচ্ছে। প্রথম পরিচালক ঠিক হয় মালেক অাফসারী। তিনি থাকলে এ রিভিউ-র প্রয়োজন পড়ত না হয়তো। পরিচালক পরিবর্তনের পর সিনেমার গল্পের বাঁকবদল হয়েছে নাকি বাঁকবদলের প্রয়োজন মনে করা হয়নি দেখার বিষয়। ফ্রেম টু ফ্রেম কপি করা একটা রোগই বটে তাতে দুটো সিনেমার মধ্যে তফাত থাকে না।অনুপ্রাণিত হলে কথা অালাদা। এ কৌশলটি ‘রক্ত’ টিম গ্রহণ করতে পারেনি যার কারণে ‘লেডি অ্যাকশন’-এর প্রচারণা চালানো সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত অ্যাকশন সিনেমা হয়ে যায় এবং সেখানে নায়িকাপ্রধান ইমেজের দাপট থাকে না, থাকে নায়কপ্রধান হবারও দারুণ সুযোগ।

অনুপ্রেরণা থেকে ‘লেডি অ্যাকশন’ বানালেও ‘রক্ত’ টিমকে স্টাডি করতে হত।জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে এমন সিনেমা পূর্বে হয়েছে যেমন – ‘অগ্নি, অগ্নি-২’। তফাতটা ছিল সেগুলোতে নায়িকাপ্রধান ইমেজ ছিল। ‘রক্ত’-তে বিষয়টি ভাগাভাগি নায়ক-নায়িকাতে। নায়িকার অ্যাকশন ফুটিয়ে তুলতে ঢালিউডকেন্দ্রিক অনেক সিনেমা-ই অাছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি সেসব সিনেমার কোনো স্টাডির ছাপ চোখে পড়ে না অাজকের অাধুনিক অ্যাকশন সিনেমায়। ‘রক্ত’ সিনেমার পরীমণি চরিত্রটিকে ‘রক্ত’ টিম দিতি, শাবনাজ, মৌসুমী, শাবনূর, পপি তাদের লেডি অ্যাকশন ঘরানার সিনেমাগুলো থেকে কিছু শেখার সুযোগ দিয়েছিল কি? নাকি প্রয়োজনও মনে করেনি।আজকের তাড়াহুড়ো করে সিনেমা মুক্তির ট্রেন্ড দিয়ে বাজার দখলের চিন্তাই অতীতের সিনেমাকে কৌশলে পাশ কাটানোর সুযোগ করে দেয়। যদি দিতির ‘লেডি ইন্সপেক্টর’ শাবনাজের ‘অাজকের হাঙ্গামা’, মৌসুমীর ‘বিদ্রোহী বধূ, বাঘিনী কন্যা’, শাবনূরের ‘মৌমাছি’, পপির ‘কারাগার’ সিনেমাগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হত তবে লেডি অ্যাকশনের মানসম্মত কাজ হতে পারত ‘রক্ত’।

rokto-pori-moniসিনেমায় পরীমণির স্মৃতি হারানোর গানুগতিক গল্পে বিশেষ সময় অনুযায়ী পুরনো স্মৃতির জেগে ওঠা নিয়ে অতীত, বর্তমান হিশেব মেলানো হয়। পরীমণি জানতে চেষ্টা করে সে অাগে কি ছিল। অনেকটা পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করানোর মতোই। এসময় রোশান অাসে প্রেমিক এবং সাহায্যকারী হিশেবে। নিজের পরিচয় খোঁজার জন্য বের হয় পরীমণি। রেখে যায় পরিবারকে। খুঁজতে গিয়েই অমিত হাসানের মাধ্যমে আর অাশিস বিদ্যার্থীর চূড়ান্ত অাগমনে ক্লাইমেক্সে গড়ায়। এ অংশটিকে হিন্দি সিনেমা ‘তোমকো না ভুল পায়েঙ্গে’-র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবা যায়। একই গল্পে সালমান খান অতীত ভাবে অার নিজের পরিচয় উদ্ধারে শহরে যায়।

থিমটি মাথায় রাখলে পরীমণিকে মূল প্রভাব মনে হবে। কিন্তু সিনেমা দেখতে দেখতে দর্শক রোশানকে অাবিষ্কার করবে পরীমণির চেয়ে যে কোনো অংশে কম না। পরীমণির অভিনয়ের জায়গাগুলোতে রোমান্টিক সেগমেন্ট খুব স্পর্শ করে। অাবার ইমোশনাল ইমেজেও তাকে ভালো লাগে। মেয়েকে স্কেটিং করাবার সময় মেয়েটি ব্যথা পেলে নিজেকে অপরাধী ভাবে। তরকারি কাটতে গিয়ে মজা পায়। এ ধরনের সময়গুলো পরীমণি স্বচ্ছন্দ থাকে। কিন্তু অ্যাকশনের সময় তার স্বাভাবিক থেকে বাড়তি পরিশ্রমের দরকার পড়ে, বাড়তি মনোযোগের দরকার পড়ে। সেখানে পরীমণি এক্সপ্রেশনে পিছিয়ে থাকে। অাবার ঠিক ঐ একই ক্যাটাগরিতে এগিয়ে থাকে রোশান। যার ফলে রোশান অ্যাকশনের জায়গায় পরীমণির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ডমিনেটিং হয়ে ওঠে।উদাহরণ দেয়া যায়- যখন পরীমণি ও রোশান ধরা পড়ে অমিত হাসান ও অাশিস বিদ্যার্থীর কাছে সেখানে হাত বাঁধা অবস্থায় পরীমণির রক্তচক্ষু যে অ্যাকশনের অাবহ অানতে পারে না রোশান সেখানে হালকা মুচকি হাসিতে অমিতের সাথে কথা বলে যা অ্যাকশনঅ্যাবল লাগে। তবে রোশানকে বাঁচাতে পরীমণির স্কেটিং করা অবস্থায় ফায়ারিং সিকোয়েন্সটি দর্শককে বিনোদন দেয় যদিও তা সামান্যই। পরীমণির উপর ‘লেডি অ্যাকশন’-এর এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে অাদতে রোশানকে অাবিষ্কার করা একটি দুর্বল কৌশলগত সিনেমা হয়ে ওঠে ‘রক্ত’।

লিপ-লক দেখতে সিনেমাহলে যায় এমন দর্শকের অভাব নেই। পরী-রোশানের স্বল্প চুম্বনদৃশ্য বাড়তি অাকর্ষণ যোগ করেছে।দৃশ্যটিতে পরীমণির অাবেগ মারাত্মক। সমালোচিত হয়েছে দৃশ্যটি। তার সাথে গোসলের দৃশ্যটিও সমালোচিত। সমালোচনার টপিক রেখে নিত্যনতুন প্রচারণায় সিনেমাকে অালোচনায় রাখার কৌশল নতুন নয় অাজকাল। ‘রক্ত’ সুযোগটা নিয়েছে।

অভিনয়ে পরীমণি অ্যাকশন ব্যতীত রোমাঞ্চ ও স্যাড ভার্সনে চমৎকার। রোশান সব ক্যাটাগরিতেই নিউ কামার হিশেবে সম্ভাবনাময়।অমিত হাসান দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অাশিস বিদ্যার্থী নিয়ে কথা একটাই সব ইন্ডাস্ট্রিতে দাপট দেখানোর যোগ্যতা তার অাছে। সুব্রত বরাবরের মতোই ভালো। শিশুশিল্পীর অভিনয় দারুণ। অমিত হাসানের স্ত্রীর চরিত্রে থাকা গার্গীও ইম্প্রেসিভ। বিপ্লব চ্যাটার্জী পুরনো শিল্পী, যতক্ষণ ছিলেন সেরাটা দিয়েছেন। গানগুলো দর্শকপ্রিয়তার কাতারে যেতে না পারলেও প্রভাব ছিল।

‘রক্ত’ অাধুনিক নির্মাণের যৌথ সিনেমা যার কৌশলে সীমাবদ্ধতা অাছে। কপি, অনুকরণ, অনুপ্রেরণা এসব শব্দগুলোকে সঠিক প্রয়োগের একটা দুর্বলতা রয়েই গেছে। ভবিষ্যতে এমন সিনেমা নির্মাণের অাগে নিজের ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা পর্যবেক্ষণ জরুরি।

যতোই বিদেশি বিদেশি গন্ধে পাগল হও না কেন ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’ কথাটা কিন্তু স্মরণযোগ্য।

The post রক্ত : অনুকরণ গল্পের দুর্বল কৌশল appeared first on বাংলা মুভি ডেটাবেজ.

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।