অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায়  নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার নবজাতকের পিতা রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে পুলিশ হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পুলিশকে এড়িয়ে যান। এখন ওই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ভাটারা থানার পুলিশ কর্মকর্তা। তবে চিকিৎসককে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ী আমিনুল হক বলেন, তিনি সপরিবারে উত্তরায় থাকেন। গত বছরের নভেম্বরে তার স্ত্রী রিংকু হক অসুস্থ্য অনুভব করলে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখনই জানা যায় তিনি গর্ভবর্তী। পরক্ষণেই তিনি এপোলো হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনোয়ারা বেগমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে এপোলোতেই চার মাস পর প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে তা দেখে তিনি বলেন সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তবে আল্টাসনোগ্রামকারী ডা. আতিয়া হুয়া জানান, বাচ্চার একটু সমস্যা আছে। চিকিৎসককে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, কোন সমস্যা নেই। চিকিৎসক ৭ জুলাই সন্তান প্রসবের দিনক্ষণ ঠিক করে দেন।

ছয় মাস পর দ্বিতীয় বার এপোলোতেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে চিকিৎসক বলেন সবকিছু ঠিক আছে। অথচ এ দফায়ও আল্ট্রাসনোগ্রামকারী জানান, বাচ্চার কিন্তু সমস্যা আছে। কিন্তু চিকিৎসক সমস্যা নেই বলাতে তারা আশ্বস্ত ছিলেন। সর্বশেষ গত ১৪ জুন তৃতীয় দফা আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসক একই কথা বলেন। তবে আল্ট্রাসনোগ্রামকারী এবার খুবই সতর্ক করে দেন। তাতেও ভ্রুক্ষেপ করেননি চিকিৎসক মনোয়ারা বেগম। সর্বশেষ ২৮ জুন আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর আল্ট্রাসনোগ্রামকারী বলেন, বাচ্চা সম্ভবত মারা গেছে। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি বলেন, একটু সমস্যা আছে, আপনারা ভর্তি হয়ে যান কোন অসুবিধা হবে না। পরক্ষণেই তিনি বলেন, বাচ্চার যেটা সমস্যা আছে তাতে মনে হচ্ছে জšে§র পরই বাচ্চাটি মারা যেতে পারে। আমিনুল হক বলেন, ডাক্তারের এমন কথা শোনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করি। চিকিৎসকের পরামর্শে এক লাখ ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে ওই দিনই রিংকুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক ব্যস্ততার কথা বলে পরের দিন দুপুর ২টায় সিজারের সময় দেন। অনেক অনুনয় বিনয় করলেও আগে সিজার করতে রাজি হননি তিনি। তারপরও ২টায় না করে ব্যস্ততা দেখিয়ে ৩টার সময় সিজার করেন। এতে মৃত বাচ্চা জš§ নেয়। এরপর আর ওই চিকিৎসক আমিনুলকে দেখা দেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, লিখিত দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২৯ জুনই তিনি লিখিত দেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গত বুধবার তিনি ভাটারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, বুধবারই তিনি হাসপাতালে তদন্তে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে চিকিৎসক কোন কথা বলেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও খুব একটা সহযোগিতা করছে না। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে। এরপরই বোঝা যাবে কি ঘটেছে। আপাতত দৃষ্টিতে চিকিৎসকের অবহেলা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর বৃহস্পতিবার অভিযোগটি মামলা (নম্বর ৫, ২ জুলাই ১৫) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। অন্য চিকিৎসকরা আমিনুলকে জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে সিজার করলে বাচ্চাটিকে বাঁচানো যেত। এ ব্যাপারে এপোলো হাসপাতালের যোগাযোগ করা হলে ডিউটি ম্যানেজার ডা. কল্লোল বিষয়টি নিয়ে জেনারেল ম্যানেজার ডা. সিমিন এম আক্তারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু ডা. সিমিনের সঙ্গে দেখা করার সময় বা ফোন নম্বরটি দেননি তিনি। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল মুত্তাকিন বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা হিসেবে সেটি নথিভুক্ত করে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হলেও পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসককে পেলেই বোঝা যাবে আসল ঘটনা কি ঘটেছে।

সুত্রঃ bhorerkagoj.net

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।