অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ অপুষ্টির শিকার শিশুদের চিকিৎসায় দেশীয়ভাবে ‘রেডি-টু-ইউজ থেরাপিউটিক ফুড’ (আরইউটিএফ) নামের একটি শিশুখাদ্য উদ্ভাবন করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। তবে এ খাদ্য দীর্ঘ মেয়াদে শিশুস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর এম কিউ কে তালুকদার বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশে এ পণ্য উৎপাদন করে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ সরকার এ পণ্য বাজারজাত করতে সহায়তা করলে তা হবে গর্হিত কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘চুজিং দ্য রাইট ম্যনেজমেন্ট অব সিভিয়ার অ্যাকুইট ম্যালনিউট্রিশন (স্যাম) চিলড্রেন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। চলতি বছরের ৮ জুন আইসিডিডিআর,বিতে পুষ্টি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ খাদ্য সম্পর্কে জানানো হয়।

গবেষণার কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ খাদ্যে ৮০ শতাংশ শিশুর অপুষ্টি দূর হচ্ছে এবং তাদের ওজন বাড়ছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এ খাদ্য তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানী ও আইসিডিডিআরবির পুষ্টি কেন্দ্রের প্রধান তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত খাদ্যের সঙ্গে নতুন এ খাদ্যের পার্থক্য হচ্ছে, এগুলো দেশীয় উপাদানে তৈরি।’ সংবাদ সম্মেলনে এম কিউ কে তালুকদার বলেন, ‘ফ্রান্সের বাণিজ্যিক কোম্পানি নিউট্রিসেট এ আরইউটিএফ তৈরি করে বিশ্ববাজারে এ পণ্যের ব্যবসা চালু করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন ইউএন প্রতিষ্ঠান এই আরইউটিএফ উৎপাদন করে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে বাজারজাত করার চেষ্টা করছে। ভারত সরকার ২০০৯ সালে এ খাবারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।’ তিনি বলেন, ‘এই খাবারে ৬০ শতাংশ চর্বি রয়েছে, যা শিশুস্বাস্থ্যের ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাবে। এ খাবারে পানি নেই, তাই শিশুর দেহে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া এ খাবারে গুড়ো দুধ রয়েছে, যা শিশুদের ডায়রিয়াসহ সকল ধরনের জীবাণু বেশি আক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে।’ ‘এ খাবার পরিচিতি পেলে দেশের মায়েরা তাদের সন্তানকে বুকের দুধ এবং বাড়ির খাবার খাওয়ানো ছেড়ে দিবে যার ফলে শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়বে’ বলেও মনে করেন তিনি। এম কিউ কে তালুকদার বলেন, ‘ওরাল স্যালাইন যেমন জীবন বাঁচায় তেমনি আরইউটিএফ জীবন বাঁচায় বলে প্রচারণা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভুল এবং বাণিজ্যিক ধ্যান-ধারনা।’ শিশুর অপুষ্টি দূর করতে ও শিশুমৃত্যু কমাতে মায়ের দুধ এবং ঘরের তৈরি খাবারই সর্বোৎকৃষ্ট বলে উল্লেখ করেন তালুকদার। আইসিডিডিআর,বির সাবেক পুষ্টিবিজ্ঞানী ও ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এস কে রায় বলেন, ‘অপুষ্টি ব্যবস্থাপনায় বাড়ির বা পরিবারের খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে খাদ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক অপুষ্টি দূর করা সম্ভব বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আরইউটিএফের পথে গেলে মায়েদের পুষ্টি সচেতনতা কমবে।’ এ খাবার বাজারজাত না করতে তাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্সস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) এর ডা. তাহেরুল ইসলাম খান, ডা. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

সুত্রঃ www.bhorerkagoj.net

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।