অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অর্থ বরাদ্দ না বাড়ালে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হয়ে যাবে। শনিবার সচিবালয়ে ঢাকার সরকারি হাসপাতালের পরিচালক, সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে প্রস্তাবিত বাজেট বেতন ভাতা বাবদই শেষ হয়ে যাবে। এই বাজেট আকারে হয়তো বড় হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ সেভাবে বাড়েনি। গত ৪জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় ৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাজেট পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হয়েছে, আশা করি পার্লামেন্ট মেম্বাররা এ বিষয়ে কথা বলবেন।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেট সে অর্থে যদি বাড়ানো না যায়, তাহলে সরকারিভাবে যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তা সীমিত হয়ে যাবে। আশা করি এ বিষয়ে কিছু একটা হতে পারে। এসময় তিনি সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে চিকিৎসাসেবা সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা ও অজুহাত সহ্য করা হবে না। সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক পরিদশনে গিয়ে কিছু অব্যবস্থাপনার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বদ্ধ পরিকর বর্তমান সরকার। সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ রয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মতবিনিময় সভায় সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদ দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। তাই জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কোন ধরণের অনিয়ম ও অবহেলা মেনে নেয়া যায় না। দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা সব সময় অব্যাহত থাকবে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

টয়লেট পরিষ্কার রাখার এবং রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের সংখ্যা কমিয়ে আনার উপায়সমূহ বের করতে হবে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবৈধ স্থাপনা গড়তে দেখলেই সেগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। অবৈধ পথে ওষুধ চালানকারী হাসপাতালের কিছু সংখ্যক কর্মীকে ইতোমধ্যে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যাকালীন রাউন্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সন্ধ্যাকালীন রাউন্ডে বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, মহাখালীর ক্যান্সার হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এ ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ক’টি সরকারি হাসপাতালে তা চালু করা হবে। এতে বিকাল ও সন্ধ্যায় ভর্তি হওয়া রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মাত্রা বাড়বে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর দু’টি হাসপাতালে সন্ধ্যাকালীন রাউন্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি গত দু’ মাসেও কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই দু’টি হাসপাতালের পরিচালকদের কাছে আমিও একই প্রশ্ন রাখছি। তবে কারণসমূহ চিহিৃত করে তা যথাযথ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রাজধানীর জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি ওই হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী দেখা পাইনি। কাগজে কলমে ২৮ জন রোগী ভর্তি দেখালেও বাস্তবে ২০ জন ভর্তি আছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বর্তমান সরকারের সময়ে এরকম সুন্দর ও অত্যাধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের গাফিলতিতে তা ভেস্তে যেতে দেয়া হবে না। তাৎক্ষণিক পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও অব্যবস্থাপনার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।