অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. এ – এরফান:  এপেন্ডিকস আর পেটের মধ্যে পরিপাকতন্ত্রের একটি অংশ বৃহদন্ত্র, এই বৃহদন্ত্রের শুরুতে আঙ্গুলের মত যে অংশটি থাকে তাকে এপেন্ডিকস বলে। এই এপেন্ডিকস এ ইনফেকশন হলে তাকে বলা হয় এপেন্ডিসাইটিস। এডেন্ডিসাইটিস সাধারনতঃ তরুন-তরুনীদের হয়। তাই মাতৃত্বকালীন সময়ে এপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশী। বস্তুতপক্ষে তরুন বয়সে এপেন্ডিসাইটিস হওয়ার যে সম্ভাবনা, একই বয়সের একজন প্রেগনেন্ট মহিলারও এপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা ততটুকু। এটি মাতৃত্বকালীন সবচাইতে সাধারন সার্জিক্যাল সমস্যা। যদিও মাতৃত্বকালীন সময়ে এপেন্ডিসাইটিস একটি সাধারন সমস্যা, তারপরও এই সময়ে এই রোগ নির্নয় করা একটু কঠিন। কারন অন্যসময়ে এপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষনগুলো যে ভাবে প্রকাশ পায়, প্রেগনেন্সির কারনে এক্ষেত্রে লক্ষনগুলো ভিন্ন ভাবে প্রকাশ পায়।

সাধারনত এপেন্ডিসাইটিস তলপেটের ডানদিকে ব্যাথা হয়, কিন্তু প্রেগনেন্সিতে বৃহৎ জরায়ূর কারনে এপেন্ডিসটি উপরে উঠে যায়। ফলে স্থান বদলে যায় ব্যাথার স্থানটি চিকিৎসকরা বিষয়টি খেয়াল না করলে ভূল করতে পারেন। এপেন্ডিসাইটিস এর যে সব লক্ষন যেমন তলপেট ব্যাথা, বমি হওয়া, পেট ফেঁপে যাওয়া এর সবগুলোই সাধারন প্রেগনেন্সিতে হতে পারে। ফলে রোগী নিজে এবং অনেক সময় চিকিৎসকও মনে করে প্রেগনেন্সির কারনে এইসব সমস্যা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে প্রেগনেন্সির সময় প্রায়ই এপেন্ডিসাইটিস নির্নয় করা বিলম্বিত হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বিলম্ব মারাত্বক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

পেন্ডিসাইটিস একটি আপাতঃ নীরিহ রোগ হলেও প্রেগনেন্সিতে এটি মারাত্বক। কারন বিশেষ শারিরীক গঠনের কারনে প্রেগনেন্ট মহিলাদের এপেন্ডিসাইটিস হলে সেটি দ্রুত সারা পেটে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের পেটের অভ্যন্তরের একটি অঙ্গ আছে যার নাম ওমেন্টাম , এটি পেটের ভিতর কোন ইনফেকশনকে সহজে ছড়াতে দেয়-না, দেয়াল দিয়ে রাখে। এই ওমেন্টাম বৃহৎ জরায়ুর কারনে এপেন্ডিকস থেকে দূরে সরে যায়, ফলে এপেন্ডিকস এর ইনফেকশন এটি ঘিরে রাখতে পারে না, ফলে ইনফেকশন সারা পেটে ছড়িয়ে পরতে পারে। এপেন্ডিকস এর সাধারন যে জটিলতা যেমন এপেন্ডিকস ফুটো হয়ে যাওয়া, পঁচে যাওয়া, ফোড়া হওয়া, সারা পেটে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়া, এসবই প্রেগনেন্সিতে অনেক বেশী।

প্রেগনেন্সিতে এপেন্ডিসাইটিস এসব কারনে অত্যন্ত মারাত্বক একটি রোগ। এই বিপদ মা এবং শিশু উভয়ের জন্য, এপেন্ডিকস এর ইনফেকশন হলে সহজেই তা পাশ্ববর্তী জরায়ুতে ছড়িয়ে পরতে পারে। ফলে মায়ের প্রসব ব্যাথা অনেক আগে থেকেই শুরু হতে পারে। এতে সময়ের আগে শিশুর জন্ম  হতে পারে। এসব কারনে প্রেগনেন্সিতে এপেন্ডিসাইটিস শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর অন্যতম কারন। তাই প্রেগনেন্সির সময় পেটে কোন অস্বাভাবিক ব্যাথা বা সমস্যা দেখা দিলে তাকে প্রেগনেন্সির কারনে ব্যাথা মনে করে বসে না থেকে দ্রুত একজন সার্জারী বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। তাতে মা ও শিশু উভয়ের জীবন রক্ষা হবে। আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে এসব রোগের চমৎকার চিকিৎসা আছে, যা সুন্দর আগামী তৈরী করতে পারে।

অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. এ – এরফান
বিভাগীয় প্রধান, সার্জারী বিভাগ
এম. এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ

কলোরেকটাল, হেপাটোবিলিয়ারী ও জেনারেল সার্জন
জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।