অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ বিপজ্জনক মাত্রার সীসা থাকায় ভারতের বাজারে ম্যাগি নুডলস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এদিকে এর ক্ষতিকর প্রভাবের আশংকায় শঙ্কিত বাংলাদেশের সাধারন মানুষ। অতিরিক্ত সীসা পাওয়ার অভিযোগে ভারতের উত্তর প্রদেশের সব দোকান থেকে পণ্যটি ফিরিয়ে নিতে নেসলেকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের আদালত। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বাজারে সমান জনপ্রিয় খাদ্য পণ্যটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর দেখা দিয়েছে শংকা। উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলেছে, নিয়মিত পরীক্ষায় নেসলে ইন্ডিয়ার প্রস্তুত করা দুই ডজন প্যাকেটের ইনস্ট্যান্ট নুডলসে উচ্চ মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে। এফডিএ’র দুই কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর প্রদেশের রাষ্ট্রীয় গবেষণাগারে পরীক্ষা করা সবগুলো প্যাকেটের ইনস্ট্যান্ট নুডলসে দূষণ ধরা পড়েছে। এতে ১৭ দশমিক ২ পিপিএম সীসা পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে সাতগুণ বেশি। এর মধ্যে শূন্য দশমিক শূন্য ১ পিপিএম থেকে ২ দশমিক ৫ পিপিএম পর্যন্ত সীসার উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য বলে জানান তারা। এছাড়া বিজ্ঞানীরা নুডলসে স্বাদবর্ধক মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট-এমএসজিও উচ্চমাত্রায় পেয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি এখনো পাওয়া যায়নি দাবি করে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের কাছে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি।

বিএসটিআই এ ব্যাপারটির সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। তবে ম্যাগিতে এরকম কোনো ক্ষতিকারক দ্রব্য থাকলে তার বাজারজাত অবশ্যই বন্ধ করে দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য তার। এদিকে এফডিএ’র লক্ষে্ানৗয়ের উপমহাপরিদর্শক ডি জি শ্রীবাস্তব বলেন, ম্যাগি ইনস্ট্যান্ট নুডলসে বিপজ্জনক পরিমাণে সীসা ও এমএসজি রয়েছে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দিতে হয়েছে। তবে সুইসভিত্তিক নেসলে এসএ’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেসলে ইন্ডিয়ার দাবি, ম্যাগি নুডলস তৈরিতে সব কাঁচামালের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ও গুণগত মানের দিকটি দেখা হয়ে থাকে। এক প্রতিবেদনে নেসলে বলেছে, আমরা ম্যাগি নুডলসে এমএসজি যোগ করি না এবং গ্লুটামেট থেকে থাকলে তা প্রাকৃতিক উৎসগুলো থেকে আসতে পারে। মানদন্ড ঠিক থাকছে কি না তা দেখার জন্য নিয়মিতভাবে সীসার উপস্থিতি তদারক করি বলে নমুনায় ওই সব উপাদানের উচ্চমাত্রায় উপস্থিতির খবরে আমরা বিস্মিত হয়েছি। এর আগে ২০১৪ সালের মার্চের আগে প্রস্তুত ম্যাগি নুডলস প্রত্যাহারের জন্য উত্তর প্রদেশের নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানির একজন মুখপাত্র। তবে সেগুলো হয় এরইমধ্যে খাওয়া বা বিক্রি হওয়ায় সেগুলো বাজার থেকে ফিরিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রীবাস্তব। তিনি আরো জানান, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্টোর থেকে দুই ডজনের বেশি প্যাকেট ইনস্ট্যান্ট নুডলস সংগ্রহ করেন এবং ফলাফল প্রকাশের আগে প্রতিটি প্যাকেট আলাদাভাবে পরীক্ষা করেন তারা।

নুডলস নিয়ে আরো বিস্তৃত পরিসরে তদন্ত শুরু করতে নয়া দিল্লির কেন্দ্রীয় খাদ্য পরিদর্শকদের অনুরোধ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করেছেন এবং প্রতিবারের ফলই ছিল দুঃখজনক। এ বিষয়ে স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ম্যাগী ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে শিশুদের এর প্রতি আসক্তি অধিক মাত্রায়। তাই আমি বিএসটিআই এর প্রতি অনুরোধ করব যদি এরকম ক্ষতিকারক কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ম্যাগী নুডুলসে পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই এটির বাজারজাত বন্ধের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। রাজধানীর ইস্কাটনবাসী অভিভাবক মো. বাবর আহমেদ বলেন, যদি এরকম তাহলে এটি এখনই বাজার থেকে তুলে নেয়া হোক। কারণ আমার ৫বছর বয়সী বাচ্চা ইশমামও ভাতের বদলে এটি খেতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এর মধ্যে যদি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কোনো কিছু থাকে তাহলে আমার বাচ্চার ভবিষ্যত নিয়ে আমি শঙ্কিত। একই কথা মগবাজারে বসবাসকারী দাঁতের ডাক্তার আফরার জামানের। তিনি বলেন, আমার বাচ্চাও ভাতের বদলে ম্যাগী নুডুলস খেতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এতে করে যদি তার শারিরীক কোনো সমস্যা হয় তার দায়ভার কে নেবে? এ ব্যাপারে বিএসটিআই কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন না ধরার তাদের মতামত জানা যায় নি।

সুত্রঃ bhorerkagoj.net

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।