অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম যেকোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, কার্যকর এবং দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি নেপালের ভূমিকম্প এবং গত বছরের ইবোলা বিস্তার বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। স্বাস্থ্য কর্মীর স্বল্পতা, দুর্বল ভৌত অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত নজরদারির কারণে বিভিন্ন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়, এমনকি অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিও ঘটে।  এজন্য নতুন রোগের দ্রুত বিস্তার অথবা যেকোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ, কার্যকর এবং দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন করে তোলার দাবী জানান নাসিম।  একই সাথে তিনি দীর্ঘ মেয়াদী কৌশল প্রণয়ন করে এখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবার দাবী জানান।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬৮তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্লেনারী অধিবেশনে বক্তৃতায় এই আহবান জানান। এবারের সম্মেলনের সভাপতি ও ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এর সভাপতিত্বে সম্মেলনে ডাব্লুএইচও এর মহাসচিব মার্গারেট চ্যানসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের টিকা দান কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন টিকাদানের মধ্যদিয়ে আজ পোলিও মুক্ত হয়েছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে নেতৃবৃন্দ ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশের কার্যকরি ভূমিকার প্রশংসা করেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনসংখ্যার চাপ, অপ্রতুল সম্পদ এবং সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যেখানে মানসম্মত প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।  তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ‘বাংলাদেশ মডেল’ হিসাবে পরিচিত আমাদের গ্রামের ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক আজ তৃণমূল জনগণের কাছে মৌলিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দিতে সক্ষম হয়েছে। এই ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা ব্যাপক বেড়েছে। জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃবৃন্দ, গ্যাভী অ্যালায়েন্স, কমনওয়েলথসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আজ স্বীকার করছেন যে, স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জন কোনো অলৌকিক বিষয় নয়। এই অর্জন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও আন্তরিক সদিচ্ছার কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে গ্রাম থেকে জেলা পর্যন্ত চার স্তরের হাসপাতাল ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের নাগালে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে গেছে। মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ পাচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো অত্যাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এখন মানুষের কাছে সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।  স্বাস্থ্যমন্ত্রী বক্তৃতার শুরুতে নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে সেদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

সুত্রঃ বাসস 

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।