অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্তের মধ্যে ২৩ ভাগই ধূমপানজনিত কারণে এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ক্যান্সার হাসপাতালে আসা ২২ হাজার ২১৫ রোগীর ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা যায়, ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৪ জন এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ২ হাজার ৪৯৭ জন। ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের বেশীর ভাগই পুরুষ। অন্যদিকে অশিক্ষিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী নয় হাজার ১৪৭ জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে আক্রান্তের হার কম অর্থাৎ ৯৬৩ জন।  জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াররফ হোসেন  বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখের মতো ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজারের মতো মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে। যার প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার মারা যায়। এর কারণ প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীই এডভান্স স্টেজে চিকিৎসা নিতে আসেন।

তথ্যানুয়াযী, ২২ হাজার ২১৫ রোগীর মধ্যে শীর্ষ-লিম্ফনডে (লসিকা গ্রন্থি ও লসিকা নালী) দুই হাজার ১৩৫ জন, ইসোফেগাসে (খাদ্যনালী) এক হাজার ১৫১ জন, পাকস্থলীতে এক হাজার ৬১ জন, সার্ভিক্সে (মহিলাদের গর্ভাশয়ের সংকার্ন অংশ) ৯৫৪ জন, লিভারে (যকৃত) ৮৭১ জন, রেক্টামে (মলনালী) ৫৩৪ জন, গলব্লাডারে (পিত্তথলি) ৫০২ জন, পা, পায়ের পাতা, উরু, পশ্চাৎ অংশ (হিপ) এবং হাঁটুতে ক্যান্সার আক্রান্ত পাওয়া গেছে ৪০৯ জন এবং রক্তে ক্যান্সার পাওয়া গেছে ৩০৮ জন। ওই জরিপে দেখা যায়, নারীদের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে স্তন, সার্ভিক্স, ফুসফুস, লসিকা গ্রন্থি, ইসোফেগাস, পাকস্থলী, গলব্লাডার, লিভার, রেক্টাম ও ওভারি (ডিম্বাশয়) এই ১০টি অঙ্গ ক্যান্সার আক্রান্তে শীর্ষে। পেশার দিক থেকে সবচেয়ে বেশী গৃহবধূ ৭ হাজার ৯১৪ জন। এরপর রয়েছেন কৃষিকাজে জড়িত ৬ হাজার ৬৩৮ জন, চাকরিজীবী ২ হাজার ৭০৪ জন, ব্যবসায়ী ২ হাজার ৩১৯ জন, ছাত্র ৮৪৮ জন, দিনমজুর ৬২৯ জন, অবসরপ্রাপ্ত বা বয়স্ক ৫৮৮ জন, শিল্প শ্রমিক ৪৯ জন এবং অন্যান্য পেশার ৫২৬ জন।

ডা. মোয়াররফ বলেন, ‘কিছু কুসংস্কার, ট্রেডিশনাল চিকিৎসা ও মানুষের দারিদ্র্যতা এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। ক্যান্সারের চিকিৎসা ১ দিনের চিকিৎসা নয়। অনেক সময় আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় থাকতে দেয় না। তারা মনে করে ক্যান্সার ছোয়াচে রোগ। হোটেলে টের পেলে থাকতে দেয় না, খেতে দেয় না। একটা মানুষ ক্যান্সারের কথা শুনে অর্ধমৃত হয়ে যায়। আমাদের আরও সহনশীল হতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতি ১ লাখে ১৮১ জন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, প্রতি ৩ জনের ১ জন কোনো না কোনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন ক্যান্সার রোগীর ৩০ জনই হেড-নেক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যার কারণ তামাক। উন্নত বিশ্বে প্রতি ১০০ জন ক্যান্সার আক্রান্তের মধ্যে ৫ জন হেড-নেক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক সল্পতা, সরঞ্জামের অপ্রতুলতা এবং কিছু সামাজিক কারণে রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারি পর্যায়ে নয়টি প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সারের চিকিৎসা হয়ে থাকে। বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। সরকারি হাসপাতালে রেডিও থেরাপি দিতে একজন রোগীর ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে বেসরকারি ক্ষেত্রে সরকারির তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় ২০ গুণ হয়ে থাকে।’ ১৯৮২ সালে ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ১৫০ বেডের এই হাসপাতালটিতে ২২টি বিভাগ রয়েছে। সরকার থেকে আরও ১৫০ বেডের অর্ডার হয়েছে। অধিকাংশ ক্যান্সারের চিকিৎসা এখানে সম্ভব। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী রেডিও থেরাপি পায়। প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজারের মতো রোগী এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। ফিজিস্ট সরকারি পর্যায়ে নেই। নার্স কম বেশী রয়েছে। তবে আধুনিক সরঞ্জামের সঙ্কট আছে।

বাংলাদেশে সাধারণত পুরুষরা ফুসফুস ক্যান্সারে বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে আগে জরায়ু ক্যান্সার বেশী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্তন ক্যান্সার আক্রান্তের পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় বিভিন্ন দাতা সংস্থার অংশগ্রহণ থাকলেও ক্যান্সার নিরাময়ের ভূমিকা বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন সময় বাইরে থেকে অভিজ্ঞদের এনে আমাদের এখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। কোনো কোনো সময় আমাদের এখান থেকে চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাইরে কোথাও পাঠায়। একই কাজ আইএইএ করে। গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর যাবৎ সরকারের সঙ্গে কথা বলেও যে ধরনের পরিস্থিতি আসছে তা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত না। গরিব দেশ হিসেবে আমাদের ক্যান্সার না হওয়ার জন্য সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। আমাদের রিসোর্স যতটুকু আছে তা দিয়ে শুধু ক্যান্সারের পিছনে ব্যয় করে ফেলি তাহলে হবে না। তামাক খাব না- এটা নিশ্চিত করতে পারলে ৩০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারব।

সুত্রঃ অনলাইন / www.bhorerkagoj.net/ http://descrier.co.uk/

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।