অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ  এ পৃথীবিতে ভালোবাসার অনুভূতি যে সম্পূর্ণ আলাদা তা কে না জানে। গভীর ভালোবাসা মনে সুখের দোলা দিয়ে যায়। আর প্রকৃতপক্ষে সুখই সুস্বাস্থ্য বয়ে আনে। সুখে থাকার জন্য ভালো থাকা প্রয়োজন। আর ভালো থাকতে হলে ভালোবাসার বিকল্প নেই। ভালোবাসা ব্যাপারটা পুরোটাই মানসিক। তবে ভালোবাসা মনের অন্তর্নিহিত সুক্ষ্ম ঘটনা হলেও তা শরীরের উপর অনেক প্রভাব ফেলে। নতুন সম্পর্কের অস্থিতিশীলতা যদিও দুশ্চিন্তার কারণ, তবে দীর্ঘদিনের মজবুত ও পরিতৃপ্ত ভালোবাসার সম্পর্ক স্বাস্থ্য রক্ষায় ভীষণ উপযোগী বলেই মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এনসাইক্লোপিডিয়া মানব সম্পর্ক বিভাগের সহ সম্পাদক হ্যারি রেইস জানান, কারও সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়া, কারও সম্মান ও মূল্য পাওয়া ব্যাপারগুলো মানুষের মনে একাত্মতাবোধের জন্ম দেয়। কাউকে ভালোবাসা ও কারও ভালোবাসা পাওয়া, দু’টোর মধ্যেই রয়েছে অনাবিল আনন্দ ও সুখানুভূতি। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ভালোবাসার প্রভাব কতটা রয়েছে তা নির্ভর করে রেইস কিছু যুক্তিও দাঁড় করিয়েছেন। চলুন দেখে নিই। হ্যারি রেইস জানান, আসলে কারও কাছেই এর সঠিক ব্যাখ্যা নেই যে, প্রেমের সম্পর্ক কেন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো! তিনি একটি গবেষণায় দেখেছেন, বিবাহিত দম্পতিদের সচরাচর ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না। রেইস বলেন, ভালো যুক্তি হিসেবে বলা যায়, মানুষ জন্মগতভাবেই আত্মিক চাহিদা নিয়ে আসে। আর যখন সেটা পূরণ হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি ভালো থাকেন। এছাড়া যত্ন ও মমতাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারও প্রিয় বা ভালোবাসার পাত্র হওয়ার অনুভূতি ব্যক্তিকে গর্বিত করে। এটি মস্তিষ্কে সুখানুভূতির জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রটার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ব্রেভারমেন জনান, যখন কেউ তার প্রিয় মানুষের ছবি দেখেন, তখন তার মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। যা তার মধ্যে মানসিক শক্তি, আনন্দ ও আশার উন্মেষ ঘটায়। ফলে ব্যক্তি সবসময় উৎফুল্ল ও প্রাণবন্ত থাকে। সুখী যুগলদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। গবেষকরা দেখেছেন, সুখী দম্পতিদের রক্তচাপের মাত্রা অবিবাহিতদের তুলনায় অনেক ভালো। যেসব অবিবিবাহিত ছেলেমেয়েরা সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভালো অবদান রাখেন, তাদের রক্তচাপ ভালো হলেও দম্পতিদের মতো এত ভালো মাত্রায় থাকে না। প্রেমের সম্পর্কে দু’জন মানুষ গভীরভাবে মিলিত থাকে বলে মানসিক দুশ্চিন্তা কমে যায় অনেকাংশেই। নিউইয়র্কের স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রেমিক-প্রেমিকাদের মস্তিষ্কে এমআরআই স্ক্যান করে পরীক্ষা চালান। সেখানে তারা নতুনদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কযুক্ত প্রেমিক-প্রেমিকাদের তুলনা করে দেখেন, দু’টি পক্ষের মধ্যেই প্রায় একই প্রগাঢ়তা রয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রিয় মানুষের হাত ধরলে বা তার সংস্পর্শে এলে ব্যথা অনেকটাই নিরসন হয়। আশ্চর্য হলেও সত্যি, প্রিয় মানুষের স্পর্শে শরীরে এক প্রকার ইলেকট্রিক্যাল শক তৈরি হয়, যার ফলে ব্যথা দূর হয়। পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো বৈবাহিক সম্পর্ক হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে ক্যান্সারও। ভালোবাসা ক্যান্সার সেলের প্রাকৃতিক প্রতিষেধক বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাহলে আর কী! ভালো থাকতে হলে সুস্থ তো থাকতেই হবে। আর সুস্থ থাকতে ভালোবাসুন প্রাণভরে।

 

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।