অধ্যাপক ডা. এসএমএ এরফান:  পাইলস বা অশ্ব একটি অতি সাধারণ রোগ। জনগোষ্ঠির একটি বিশাল অংশ এ রোগে ভোগেন। কিন্তু সঙ্কোচ বা ভয়বশত প্রকাশ করেন না। যাই হোক, তখন রোগ দেখে বলি আপনার অপারেশন লাগবে। তখনই অনেক রোগী বলে, ডাক্তর সাহেব অপারেশন ছাড়া আর কিছু করা যায় না? যত খরচ হয় দেব। আমি বলি, অপারেশনেই আপনি পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবেন। তাহলে ভয় পাচ্ছেন কেন। আপনার যে অবস্থা তাতে অন্য কোনো চিকিৎসায় পুরোপুরি ভালো হবেন না। রোগী বলে, না একবার অপারেশন করলে নাকি বার বার করতে হয়। জানতে চাইলাম কে বলেছে? অনেই বলেছে। আমার স্ত্রী বলেছে, আত্মীয় স্বজন বলেছে। কিন্তু কোন ডাক্তার কি বলেছে? তারা তো ডাক্তার না। না কোন ডাক্তার বলেনি। খোঁজ করতে করতে উদঘাটন করলাম এ তথ্যের উৎস হচ্ছে কতগুলো পাইলসের চিকিৎসক, যারা মানুষকে এমনভাবে বলেছে, খবরদার কখনও অপারেশন করবেন না। তাহলে জীবন শেষ। বার বার অপারেশন করতে করতে জীবন বরবাদ হয়ে যাবে। এ জাতীয় কথা শুনে যে কোন ব্যক্তি ঘাবড়ে যাবেন সেটাই স্বাভাবিক। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, পাইলসের অপারেশন একবার করলে বার বার করতে হয়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। যথা নিয়মে একজন কোলোরেক্টাল সার্জন দ্বারা অপারেশন করলে, পাইলস আবার হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, অধিকাংশ পাইলসের অপারেশনের প্রয়োজন নেই। শুধু বিশেষ ইনজেকশন, ব্যান্ডলাইসেশন ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পাইলসের চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই শুধু থার্ড ডিগ্রি ও ফোর্থ ডিগ্রি (৩০ ডিগ্রি ও ৪০ ডিগ্রি) পাইলসের অপারেশন প্রয়োজন। আর এমন পাইলসের সময়মতো অপারেশন না করলে নানা জটিলতা তথা জীবন সংশয় হতে পারে। তাই বিভিন্ন জনের কথায় কান না দিয়ে পাইলসের দ্রুত চিকিৎসা করা প্রয়োজন নিজের স্বার্থেই।

অধ্যাপক ডাঃ এস, এম, এ, এরফান
বিভাগীয় প্রধান, সার্জারী বিভাগ
এম এইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ

 

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।