অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ বুকে ব্যথা সাধারণত নানা কারণে হয়। অত্যন্ত গুরুতর কারণ থেকে অত্যন্ত জটিল কারণে বুকে ব্যথা হয়। এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের পরামর্শক ডা. ফরহাদ নেওয়াজ।

প্রশ্ন :  বুকে ব্যথার সাধারণ থেকে গুরুতর কারণগুলো কী?

উত্তর : বুকে ব্যথা বলতে প্রথমে আমরা মনে করি হৃৎপিণ্ডের ব্যথা অথবা হৃদরোগের কারণ। এগুলো গুরুতর কারণ। এ ছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে থাকতে পারে আঘাতজনিত কারণ। অথবা হাড় বা পেশির কারণেও অনেক সময় বুকে ব্যথা করে। আরো অনেক কারণ রয়েছে। যেমন, ফুসফুসের যদি কোনো প্রদাহ হয়। যেটাকে আমরা বলি নিউমোনিয়া, সে কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হয়ে থাকে। আরেকটি প্রধান বিষয় হলো এসিডিটি। এই কারণেও বুকে ব্যথা হয়ে থাকে।

প্রশ্ন : বুকে ব্যথা নিয়ে কোনো রোগী আসার পর আপনারা কীভাবে নির্ণয় করে থাকেন এটি কিসের ব্যথা?

 ডা. ফরহাদ নেওয়াজ

উত্তর : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি প্রথমে দেখব হার্টের কোনো সমস্যা আছে কি না। বুকের ব্যথা যদি হার্টের কারণে হয় তাহলে চাপা ব্যথা হবে। মনে হবে বুকের ওপর অনেক ওজন। ব্যথার সঙ্গে শরীর ঘেমে যাবে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হবে। এই ব্যথা অনেক সময় হাতে ছড়িয়ে যেতে পারে। খুব একটি অস্বস্তি অনুভব হবে। এই ধরনের উপসর্গ যদি থাকে, তবে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করে নেই  হৃদরোগের কারণে এই ব্যথা হচ্ছে।

প্রশ্ন : অনেক সময় কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়, হাঁটার সময় বুকের ব্যথা করছে। তখন সে হয়তো আর হাঁটতে পারে না, বসে পড়ে। আবার কিছুক্ষণ পর হাঁটতে পারে। এটা কেন হয়?

উত্তর : এই ব্যথাটি হৃদরোগের কারণে বেশির ভাগ সময় হয়ে থাকে। যখন আমাদের শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়বে, তখনই বুকে ব্যথা হয়। আবার বিশ্রাম নিলে, অক্সিজেনের চাহিদা কমে গেলে বুকে ব্যথা হয়। এটাকে আমরা বলি ক্রনিক স্ট্যাবল এনজাইনা।

প্রশ্ন : ক্রনিক স্ট্যাবল এনজাইনা হোক অথবা হার্টের অ্যাটাকের কারণে হোক, বুকে ব্যথা নিয়ে হয়তো আপনাদের কাছে এলো। তখন আপনারা কী করেন?

উত্তর : বুকে ব্যথা হলে আমরা প্রথমে দেখি এটি হার্টের সমস্যা কি না। যদি দেখি হৃদরোগজনিত ব্যথা, সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটি ইসিজি করি জরুরি ভিত্তিতে। ইসিজি করে আমরা সিদ্ধান্ত নিই এটা কী ধরনের ব্যথা। এটা কি গুরুতর হার্ট অ্যাটাক। নাকি স্ট্যাবল এনজাইনা। তখন সেভাবেই আমরা চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন : আপনাদের কাছে আসার আগে রোগীর কী কিছু করণীয় আছে?

উত্তর : যদি রোগী বুঝতে পারে হার্টের কারণেই ব্যথা হচ্ছে তবে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে নিতে হবে। একসঙ্গে চারটি ৭৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট খেয়ে ফেলতে হবে। সঙ্গে একটি গ্যাসের ওষুধও খেয়ে নেবে। এটা খেয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

প্রশ্ন : আসার পরে তার অবস্থা বুঝে আপনারা চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করেন। সেই ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের রক্ষণশীল ব্যবস্থাপনা (কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট) আছে। আবার সার্জিক্যাল ব্যবস্থাপনা আছে। সেটি নির্ধারণ করেন কীভাবে?

উত্তর : হার্ট অ্যাটাক নিয়ে কোনো রোগী এলে এটা নির্ভর করে একিউট এমআই কি না, যেটাকে আমরা মাইয়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন বলি। এটি আমরা যেখি, এখন এনজিওগ্রাম করে স্ট্যানটিং করা সম্ভব কি না। যদি সম্ভব হয় এবং রোগী যদি মত দেয় তখন প্রথমে এনজিওগ্রাম করতে বলি। পরে স্ট্যানটিং করতে বলি।

যদি দেখি রোগী অনেক পরে এসেছে এবং আমাদের ওই ধরনের ব্যবস্থা নেই, তখন ইসিজি করে রক্ত পাতলা রাখার ইনজেকশন দিই।

প্রশ্ন : একজন মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ কী?

উত্তর : কারণ হলো আমাদের খাদ্যাভ্যাস। আমরা যদি রিচ ফুড খাই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়বে। বাড়লে এটি গিয়ে রক্তনালিতে জমা হবে এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। হার্ট অ্যাটাক হবে।

প্রশ্ন : খাদ্যাভ্যাসের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য কী হতে পারে?

উত্তর : হ্যাঁ আছে। আমরা রোগীকে বলি নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করবেন। ব্যায়াম করা বলতে আমরা বলি, হাঁটা, সাঁতার কাটা । সপ্তাহে দেড়শ মিনিট করতে হবে। হাঁটাটা হবে একটু দ্রুত। যেন শরীর ঘামে এবং বুক ধড়ফড় করে।

প্রশ্ন : খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে, পাশাপাশি ব্যায়ামও করল। কিন্তু যদি ধূমপায়ী হয় বা অন্য কোনো অভ্যাস থাকে…

উত্তর : বাজে অভ্যাস থাকলে সেগুলো ত্যাগ করতে হবে। যেমন : ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন। অনেকে পানের সঙ্গে জর্দা খায় সেটিও এড়িয়ে যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো প্রতিরোধ করা যাবে।

প্রশ্ন : আবার চিকিৎসার কথায় আসি। কোন পর্যায়ে গেলে আপনারা ধরে নেন রক্ষণশীল ব্যবস্থাপনায় (কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট) আর চিকিৎসায় হচ্ছে না, একে ওপেন হার্ট সার্জারি, বাইপাস, স্ট্যানটিং এগুলো করতে হবে?

উত্তর : সাধারণ চিকিৎসা দেওয়ার পরও যদি তার বুকে অস্বস্তি বোধ হয়,  হাঁটলে শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা অনুভব হচ্ছে তখন আমরা এনজিওগ্রাম করে দেখতে চাই ভেতরে কী অবস্থা। ব্লকের পরিমাণটা কেমন। যদি দেখি ৭০ ভাগের ওপরে তার ব্লক আছে তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্ট্যানটিং বা বাইপাস করার জন্য।

প্রশ্ন : ব্লকের বিষয়ে আমরা শুনি যে এত শতাংশ ব্লক। এই বিষয়টি কী?

উত্তর : ৭০ বা তার ওপরে যদি ব্লক হয়, তখন আমরা স্ট্যানটিংয়ের কথা বলি। এর কম হলে আমরা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে সেটাকে ওই অবস্থায় ধরে রাখার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন : এই যে অনেক সময় দুটি ব্লক, চারটি ব্লক এগুলো বলা হয়। এর মানে কী?

উত্তর : এর মানে হলো হার্টের রক্ত চলাচল, দুটি থেকে তিনটি যে আর্টারি থাকে, সেখানে কয়টা ব্লক আছে। এই ব্লক যদি তিনটির বেশি হয়, তখন আমরা বাইপাস করতে বলি। আর যদি একটি বা দুটি হয় তখন স্ট্যানটিংয়ের  কথা বলি। এটি নির্ভর করবে এনজিওগ্রামের  ওপর।

প্রশ্ন : এনজিওগ্রামের মতো আপনারা আরেকটি শব্দ বলেন এনজিওপ্লাস্টি, এটা কী?

উত্তর : এটি হলে যে জায়গাটা ব্লক হয়ে গেছে, ওই জায়গাটা বেলুন দিয়ে প্রসারিত করে দেওয়া; যেন রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তার এই সমস্যাটি আর হওয়ার আশঙ্কা থাকছে না। তবে ভবিষ্যতে আবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রশ্ন : চিকিৎসা করার পরে রোগী যদি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো অব্যাহত রাখে তখন তো আবার হবে। সেই ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর : এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। দৈনিক ৩০ মিনিট অন্তত ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন-যাপন করতে হবে। আর যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে, তাদের ভালোভাবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

সুত্রঃ ntvbd.com

 

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।