ডা. এম ইয়াছিন আলী:  আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন অনেক সুন্দরভাবে। আমাদের কাঠামো তৈরিতে প্রতিটি অস্থি-সন্ধির ক্ষয় প্রতিরোধের জন্য জয়েন্টগুলোর ভেতরে এক ধরনের পদার্থ দিয়ে রেখেছেন যাকে মেডিকেল ভাষায় সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গাড়ির চাকার মধ্যে যেমন গ্রিজ থাকে যা গাড়ির চাকা ঘোরাতে সাহায্য করে, তেমনি সাইনোভিয়াল ফ্লুইড আমাদের অস্থি-সন্ধিগুলোয় গ্রিজের ভূমিকা পালন করে। আমাদের বয়স চলি্লশের ওপর হলে যেমন আস্তে আস্তে আমাদের বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় শুরু হয় তেমনি অস্থি-সন্ধির অভ্যন্তরীণ ফ্লুইডও কমতে থাকে। বিশেষ করে মানবদেহের সোল্ডার জয়েন্ট বা কাঁধ ও হাঁটুতে এ সমস্যাটি বেশি দেখা যায়।সোল্ডার জয়েন্ট বা কাঁধে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড কমে গেলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত নাড়াতে কষ্ট হয়, হাত ওপরে ওঠাতে পারেন না, পিঠের দিকে হাত নিতে পারেন না, কাপড়-চোপড় পরতে কষ্ট হয়। হাঁটুতে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড কমে গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিচে বসতে পারেন না, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন না, নামাজে বসতে পারেন না, টয়লেটে বসতে কষ্ট হয় ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

রোগ নির্ণয় : চিকিৎসা শুরুর আগে প্রয়োজন হয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন আক্রান্ত জয়েন্টের এক্স-রে ও কিছু প্যাথলজিক্যাল টেস্টের প্রয়োজন হয়, যার মাধ্যমে জয়েন্টের ভেতরের সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের অবস্থা বোঝা যায়।

চিকিৎসা : চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বাড়ানোর জন্য ইন্ট্রাআর্টিকুলার ইনজেকশন দেয়ার প্রয়োজন হয়, পাশাপাশি আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও থেরাপিউটিক ব্যায়ামের মাধ্যমে জয়েন্টের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ডা. এম ইয়াছিন আলী

বাত, ব্যথা, পারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি , ঢাকা।

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।