অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০১৫ উপলক্ষে ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করে। রাজধানীর পান্থপথের “ক্লাউড বিস্ট্রো রেঁস্তোরায়” ৭ মে বৃহস্পতিবার উক্ত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল, বিশেষ অতিথি, ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিস্ট ডা. সায়মা আখতার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব জনাব শেখ রুহুল আমিন জয়।  সভায় পুর্বে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জন্ম হয়েছে এবং পরবর্তীতে মায়ের গর্ভেই শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়েছেন এমন মায়েদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। তারা সংসারে থ্যালাসেমিয়া শিশু থাকার দুর্দশা বর্ননা করেন।

ডা. রেজাউল করিম কাজল বলেন মারাতত্নক  বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় দিন দিন দেশে থ্যালাসেমিয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বাবা-মা এ রোগের বাহক হলে তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মাতে পারে। যারা থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক তাদের কোন উপসর্গ নেই। তাই তারা বুঝতে পারেন না। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দশভাগ অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি পুরুষ-মহিলা নিজের অজান্তে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। আমাদের দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মায়। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে বিশাল রক্তের ভান্ডার প্রয়োজন হচ্ছে। আনুসাঙ্গিক খরচ বহন করতে গিয়ে আর্থিক দৈন্যতা ও মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছে লাখো বাবা-মা। শুধু তাই নয়, বাবা মায়ের সামনেই ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে বেশীরভাগ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। আমাদের দেশে থ্যালাসেমিয়া এখন এক নিরব মহামারী যাতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে বাবা-মায়ের স্বপ্ন।
বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী বা বাচ্চা নেয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কিনা আছে তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সাইপ্রাস, ইরান, সৌদি আরব এমনকি পাকিস্তানেও বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা তা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বামী এবং স্ত্রী দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হন তবে সন্তান গ্রহনের ক্ষেত্রে মাতৃজঠরে ১১ সপ্তাহেই বাচ্চার ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বাবা-মা গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। শুধু চিকিৎসার কথা বলে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিস্তার সম্ভব নয়। প্রতিরোধের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে শিশুর জন্ম রোধ করতে হবে।

ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিষ্ট ডা. সায়মা আখতার চৌধুরী বলেন বর্তমানে অত্যাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাফীর সাহায্যে গর্ভে শিশুর ডিএনএ সংগ্রহ একটি নিরাপদ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া সহ যাবতীয় জেনেটিক রোগ নির্নয় করা যায়। ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন দেশে এরকম রোগ নির্নয় পদ্ধতি চালু করেছে যা দেশের জন্য মাইল ফলক। গর্ভবতী মাকে এজন্য আর বিদেশ যেতে হচ্ছেনা।  ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব শেখ রুহুল আমিন জয় বলেন- থ্যালাসেমিয়ামুক্ত শিশুর জন্ম আমাদের কাম্য। ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন দেশে প্রথম মায়ের গর্ভে মাত্র ১১ সপ্তাহে থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্নয় শুরু করে। গত চার বছরে এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় তিনশত সুস্থ্য শিশুর জন্ম হয়েছে, অনেক মা নিশ্চিত হয়ে সন্তান জন্মদানের অপেক্ষায় আছেন। থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা ও মায়ের গর্ভে থ্যালাসেমিয়া নির্নয় এর মাধ্যমে মেধাদীপ্ত শিশুর জন্ম নিশ্চিত করে সুখি পরিবার গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।