অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ বিভিন্ন কারণে শিশুদের চোখ ট্যারা হতে পারে। তবে সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিহানির আশঙ্কা থাকে। এনটিভির স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিদিনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শিশু চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফরহাদ হোসেন।

প্রশ্ন :  শিশুদের ট্যারা চোখ হয় কেন? হলে ক্ষতি কী?

উত্তর :  শিশুদের ট্যারা চোখ সাধারণত জন্মগত কারণে হতে পারে। আবার অন্যান্য কারণে হতে পারে। যেমন, চোখে ছানি হলে যদি যথাসময়ে অস্ত্রোপচার না করে, চোখের ভেতর টিউমার আছে সেটা যথা সময়ে চিকিৎসা করা না হলে, মূলত যেসব কারণে দৃষ্টির পরিপূর্ণতা আসে না, সেসব কারণে চোখটা ট্যারা হয়ে যায়।

ট্যারা চোখ মানে বাঁকা চোখ। সেটা ভেতরের দিকেও হতে পারে। যদি ভেতরের দিকে হয় আমরা সাধারণত বলি উসোট্রোপিয়া। আর যদি বাইরের দিকে হয় বলি এক্সোট্রোপিয়া। এগুলো ভেতরের দিকেও হতে পারে। বাইরের দিকেও হতে পারে। এখন যথাসময়ে যদি এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে সমস্যা হতে পারে। অনেকে মনে করে আমার বাচ্চা ট্যারা হয়েছে, তার মানে এটি লক্ষ্মী ট্যারা। এটাকে অতটা গুরুত্ব দেয় না।

 প্রশ্ন : লক্ষ্মী ট্যারা কী আসলে লক্ষ্মী?

উত্তর : লক্ষ্মী ট্যারা লক্ষ্মী নয়। যার চোখ ট্যারা তাকে বুঝতে হবে ওই চোখে তার দৃষ্টি শক্তি কম। এখন আসি কেন ট্যারা চোখ হয় এ বিষয়ে। ট্যারা চোখের অন্যতম একটি কারণ চোখের পাওয়ারের সমস্যা, তার চোখের দৃষ্টি শক্তি জন্মগত কারণেই হোক, আর যে কারণেই হোক বৃদ্ধির পর্যায়ে এসে স্বল্প হয়ে গেছে। এই সমস্যাটি যথাসময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করা না হলে চোখটি ট্যারা হয়ে যাবে।

যদি শিশুর অভিভাবকরা মনে করে এত ছোট বয়সে চশমা দেব, পরে তো আর ছাড়তে পারবে না। এটি আসলে সবচেয়ে বড় ভুল। এর ফলে বাচ্চার স্থায়ী দৃষ্টিহানি ঘটে। যার চোখ ট্যারা তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে ওই চোখে তার দৃষ্টির কোনো না কোনো স্বল্পতা আছে। এই স্বল্পতার কারণেই তার এই চোখ ট্যারা হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : এই ট্যারা চোখ যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয় তখন কতটা দৃষ্টি স্বল্পতা হতে পারে?

উত্তর :  যথা সময়ে যদি  ট্যারা চোখের চিকিৎসা না দেওয়া হয় তখন এমব্লোয়োপিয়া নামক এক ধরনের রোগ হয়। এই রোগ হলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিহানি ঘটাবে। বড় হয়ে গেলে ট্যারা চোখ অস্ত্রোপচার করার পরও আবার বাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ চিকিৎসা জটিল হয়ে যাচ্ছে। অথচ যদি সঠিক সময়ে ট্যারা চোখের রোগ নির্ণয় করা যায়, যদি পাওয়ারের কারণে সমস্যা হয়, চশমা ব্যবহার করে এর চিকিৎসা করলে দেখা যাবে চোখটি আবার ঠিক হয়ে গেছে, যদি ছানির কারণে চোখ ট্যারা হয় তাহলে এই ছানিটা পরিষ্কার করে দিয়ে ল্যান্স সংযোজন করে দিলে চোখ ভালো হয়ে যাবে। যদি এমব্লোয়োপিয়া হলে চোখটিকে প্যাচিং থ্যারাপির মাধ্যমে সোজা করা সম্ভব হয়। অথচ যদি যথাযথভাবে চিকিৎসা না করা হয়,  চোখের স্থায়ীভাবে দৃষ্টিহানি ঘটবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন :  শিশুদের যদি ট্যারা চোখ হয় তাহলে কোন বয়সের মধ্যে চিকিৎসা করলে ভালো ফলাফল আসে?

উত্তর : আমাদের চোখ সাত থেকে আট বছরের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থার হয়। শুরুর পর্যায় বলতে আমরা বুঝি ছোট বেলাকে। যখন দৃষ্টিটা বৃদ্ধির পর্যায়ে থাকে। তখন যদি সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হয় অর্থাৎ যে কারণে সমস্যা হচ্ছে তার চিকিৎসা নেওয়া হয় তাহলে তার ট্যারা চোখ হবে না। সে জন্য আমরা বলি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অস্ত্রোপচার করে নেবেন। আর অস্ত্রোপচার না লাগলেও অন্য চিকিৎসা করবে।

প্রশ্ন :  আপনি যে বয়সটার কথা বলছেন আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অসচেতনতা বা ব্যথা  বা কোনো ধরনের সমস্যা না হলে তো চিকিৎসকের কাছে যাই না। সেজন্য এই শিশুদের স্ক্রিনিংয়ের জন্য কোনো পরামর্শ আছে কি না?

উত্তর :  চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ন্যাশনাল আই কেয়ারের একটি প্রোজেক্ট আছে। সেই প্রোজেক্টে আবার বিভিন্ন জেলাতে স্কুলে পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বহু এনজিও, যারা চক্ষুবিষয়ক কাজ করে, তারাও স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। তার মানে এখন সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে যে আপনার বাচ্চাকে স্কুলে দেওয়ার আগেই আপনার বাচ্চার  দৃষ্টি পরীক্ষা করে দেখেন যে আসলে তার কোনো সমস্যা আছে কি না।

প্রশ্ন : পৃথিবীর অনেক দেশেই স্কুলে শিশুদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, আমাদের দেশে এখনো হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার কোনো আহ্বান আছে কি না?

উত্তর : অবশ্যই। এটা ব্যাপকভাবে হওয়া উচিত। তাহলে বহু শিশুর চোখ রক্ষা করা সম্ভব হবে দৃষ্টিহানির সমস্যা থেকে। এটা সামগ্রিকভাবে আমাদের ব্যাপক উপকারে আসবে।

প্রশ্ন : একটি শিশুর ট্যারা চোখের চিকিৎসা যদি ঠিক সময়ে করা না হয়, তবে পরিণত বয়সে এসে কী এর চিকিৎসা করা সম্ভব?

উত্তর : পরিণত বয়সে এসে চিকিৎসা করা হলে কিছু সংখ্যক ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাই। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তার স্থায়ী দৃষ্টিহানি ঘটেছে।

প্রশ্ন : অস্ত্রোপোচার করলে কী কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে ?

উত্তর : না, তেমন কোনো অসুবিধা নেই। দৃষ্টি খুব ভালো করা না গেলেও চোখটা সোজা করা যাবে। এতে তার সামাজিকভাবে সুবিধা হবে।

প্রশ্ন : কোনো শিশু যাতে ট্যারা চোখে আক্রান্ত না হয়, আর সেটা যেন দীর্ঘায়িত না হয় তা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর : প্রতিরোধের একটাই উপায়, সচেতনতা। সচেতনতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মা-বাবাকে দেখতে হবে, সন্তান একদম কাছে গিয়ে কোনো জিনিস দেখে কি না। তাহলে বুঝতে হবে তার পাওয়ারে সমস্যা আছে। অথবা সে বাঁকা করে তাকায়। অনেক সময় বলে একটি জিনিস দুটো দেখি, চোখ চুলকায়, লাল থাকে, বমি বমি ভাব থাকে, বমি হয়। সেসব ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাহলে একে অনেকাংশে প্রতিরোধ করতে পারব।

সুত্রঃ এনটিভি অন লাইন 

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।