অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ  মৌসুমি ফলের দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। বিভিন্ন ঋতুতে  বাংলাদেশে থাকে ফলের মহাসমারোহ। তেমনই একটি মৌসুমি ফল লিচু। শুধু পাকা লিচু নয়, লিচুর পাতা, ফুল, কাঁচা লিচু নানা । লিচুতে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য দরকার খনিজ ও ভিটামিন। খুবই সুস্বাদু ফল হিসেবে আমরা লিচুকে চিনি। এর সঙ্গে রয়েছে এর অনেক উপকারি গুণ। লিচুর রয়েছে নানা প্রজাতি। পুষ্টিগুণের দিক থেকে বলতে গেলে বলা যায়, এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’। ক্যালসিয়াম দরকার হয় হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখ ভালো রাখতে। হিসাব করে দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম লিচুতে শর্করা রয়েছে ১৩.৬ গ্রাম, ক্যালরি ৬১, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৭ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৩১ মিলিগ্রাম।

লিচুর আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি হলেও ক্যালরিও বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর ক্যালরি মূল্য ৭৯ কিলোক্যালরি। ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিতভাবে লিচু খাওয়া ভালো। ভিটামিন ‘সি’ ও খাদ্যশক্তি আছে।এতে দেহে শক্তি বাড়ে। কারণ এটা শরীরে ফ্লুইডের পরিমাণ বাড়ায়। লিচুতে ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ কমলালেবুর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।ছাড়া গাজরের তুলনায় বেশি বিটা ক্যারোটিনও আছে। আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড রয়েছে।এটি বিটা ক্যারোটিনসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে। লিচু হজমে সহায়তা করে, কারণ এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। কারণ এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম।

বয়স্ক নারী যাদের মেনোপজ হয়ে গেছে, তাদের জন্য লিচু যথেষ্ট উপকারী। কারণ এসব নারীর অতিমাত্রায় ক্যালসিয়ামের অভাব হয়। এটি মৌসুমি অসুখগুলো থেকে আপনাকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে ত্বক ও চুলের পুষ্টি জোগায়। প্রচণ্ড ক্ষতিকর আলট্র্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এতে রয়েছে নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন নামক ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স শরীরের জ্বালাপোড়া, দুর্বলতা দূর করে। লিচুর ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা কর্নিয়ার অসুখ, চোখ ওঠা, চোখের কোনা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া দূর করে। এ ছাড়া জ্বরঠোসা, জিহ্বার ঘা, জিহ্বার চামড়া ছিলে যাওয়া এসব রোগ প্রতিরোধ করে। কাশি, পেটব্যথা, টিউমার দমনে লিচু কার্যকর। চর্মরোগের ব্যথায় লিচুর বীজ ব্যবহৃত হয়।কচি লিচু শিশুদের বসন্ত রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাকল ও শিকড়ের কস্ফাথ গরম পানিসহ কুলি করলে গলার স্বর ভালো হয়। লিচুর রস চকোলেট জাতীয় খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাবধানতাঃ ‘লিচু গরম ফল’ এটি বেশি খেলে পেট গরম হয়ে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অতিরিক্ত লিচু খাওয়া ঠিক নয়। বেশি মিষ্টি লিচু অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের পরিহার করা উচিত।

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।