অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ প্রসবস্থলেই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে মা ও নবজাতক। ‘ওয়াশ অ্যান্ড ক্লিন ইন দ্য লেবার ওয়ার্ড: অ্যা সিচুয়েশন এনালিসিস ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রতিবেদনে থেকে এ তথ্য পাওয়া  গেছে। ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ, গান্ধীনগর, ব্র্যাক বাংলাদেশ ও সোপবক্স কোলাবরোটিভের সদস্যদের নিয়ে গঠিত গবেষণা দলটি  বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে দেখেন।

হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যাচাইয়ে ৩৬টি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে গবেষক দল। তবে তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত আটটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে করা গবেষণা প্রতিবেদন পুরো দেশের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম কি না, এ নিয়ে  অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। গবেষক দলের প্রধান ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিনের অবসট্রেটিক এপিডেমিওলোজি বিভাগের শিক্ষক ওয়েন্ডি জে গ্রাহাম বলেন, তাঁরা মনে করেন গবেষণার জন্য নমুনা ছোট, তবে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তিনি ভারতে গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে প্রাসাদের মতো হাসপাতালও যথেষ্ট নিরাপদ নয়। ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ১০ জন, ১৮ জন স্বাস্থ্যসেবা দানকারী ও ২২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সাক্ষাৎকার নেন গবেষকেরা। তাঁরা সন্তান প্রসবস্থল, লাগোয়া শৌচাগার ও মাতৃত্ব ওয়ার্ড যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কি না তা খতিয়ে দেখেন। দেখা গেছে, সন্তান প্রসবস্থলের দরজার হাতল, প্রসূতি মায়ের বিছানায় ব্যাকটেরিয়া আছে। গবেষণার আওতায় আসা কেন্দ্রগুলোর চারটিতে যন্ত্রপাতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা ছিল। সাবানের ঘাটতি ছিল সব জায়গায়।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক কাওসার আফসানা বলেন, বহু বছর আগে ভারতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িতে সন্তান প্রসবের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে ২৯ শতাংশ প্রসব হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান জন্মদানে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নারীদের উৎসাহ দিচ্ছে। কেন্দ্রগুলো নিরাপদ হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) শামিউল ইসলাম বলেন, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকদের সর্বোত্তম অংশগ্রহণ ছাড়া হাসপাতালে সেবার গুণগত মান বাড়ানো সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ইফফাত আরা বলেন, হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষগুলো খুব ভালোভাবে দেখা হয়। কিন্তু সাধারণভাবে প্রসবের ক্ষেত্রে ঠিকভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি দরকার। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। কথা বলেছেন ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক রাজা চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. শাহনেওয়াজ প্রমুখ।

সুত্রঃ www.bhorerkagoj.net

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।