UB

অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াঃ আমরা বুকের বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণের জন্য কিছু সাধারণ উপসর্গকে প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়ে থাকি। সাধারণত উপসর্গগুলোর একটি হচ্ছে বুকে অস্বস্তি বোধ করা, যা কম-বেশি যে কোনো বয়সী পুরুষ বা মহিলা এমনকি শিশু-কিশোররাও অনুভব করে। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের কাছে এলে ধরে নেয়া হয় তিনি শ্বাসনালি, হৃদযন্ত্র বা খাদ্যনালির সমস্যাজনিত কোনো রোগে ভুগছেন; যা রোগীর বয়স, লিঙ্গ, পেশাগত ও পরিবেশগত ইতিহাসের সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ বা অন্য রোগের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা : শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি, শ্বাসনালির প্রদাহ, সিওপিডি, ফুসফুসজনিত, শ্বাসনালিতে কোনো দ্রব্য প্রবেশ।

হৃদযন্ত্রের সমস্যা :

বুক ধড়ফড় করা, অ্যানজাইনা, এমআই বা হার্ট অ্যাটাক।
ধমনি/রক্তনালির সমস্যা : অ্যাওটিক ডিসেকশন, অ্যাওটিক অ্যানুরিজম।
খাদ্যনালির সমস্যা : গলা জ্বালা, খাদ্যনালির প্রদাহ।
বুকের হাড় বা পেশাজনিত সমস্যা : অতিরিক্ত ওষুধ সেবন এমনকি দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা এবং উদ্বেগ থেকেও বুকে অস্বস্তিভাব হতে পার।

করণীয় : এ উপসর্গের রোগীর সঠিক ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয় করা যায়। সে ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ইতিহাসগুলোর তথ্য জানা প্রয়োজন

১. রোগের বিস্তারিত ইতিহাস নিতে হবে। শ্বাসতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, খাদ্যনালির কোনো উপসর্গ আছে কিনা তা ভালোভাবে জিজ্ঞাসা করতে হবে।
২. অস্বস্তিভাব বুকের মাঝখানে না পাশে অনুভব করছে তা জানতে হবে। এর সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা সঙ্গে কাশি হয় কিনা।
৩. যদি চাপ বা ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে তাহলে তা শরীরের অন্যত্র বিশেষ করে পেছনে, চোয়ালে, কাঁধে, বাহুতে ব্যথা অনুভব করে কিনা।
৪. অস্বস্তিবোধ করার সময় এমন কি হয়_ চাপবোধ করা, ব্যথা হওয়া, ভারী হওয়া, খোঁচা মেরে ধরা ইত্যাদি?
৫. সমস্যার সময়কাল স্বল্প না বেশি দিন?
৬. এ ধরনের সমস্যা বেশি হয় এবং কী করলে এটা থেকে সাময়িক নিরাময় পাওয়া যায়।
৭. খাবার গ্রহণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা।
৮. কোনো ধরনের মানসিক চাপ/দুশ্চিন্তা আক্রান্ত সমস্যা। পেশাগত ইতিহাস, পোষাপ্রাণী পালন, রোগীর ধূমপান, মদ্যপান এবং পান-সুপারির খাওয়ার ইতিহাস আছে কিনা।
৯. শ্বাসতন্ত্র, হৃদযন্ত্রের ও শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে।
১০. রোগ সুচারুভাবে নির্ণয় এবং এর জন্য উপরোক্ত রোগের ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা ছাড়া কিছু রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে।
শারীরিক পরীক্ষা, আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও যদি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব না হয় তবে রোগের ইতিহাস, বয়স, লিঙ্গ, পারিপাশ্বর্িক অবস্থা বিবেচনা করে একে সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক সমস্যা বলে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

চিকিৎসা : রোগের সঠিক ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

১. রোগীর ধূমপান বা মদ্যপানের বা পান খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দেয়ার জন্য উপদেশ দিতে হবে।
২. কোনো পোষাপ্রাণী বা পেশাগত কারণে যদি ওই সমস্যা হয়ে থাকে তা পরিবর্তন করার জন্য পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।
৩. রোগীকে উপযুক্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা দিতে হবে এবং প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসকের ও প্রয়োজনে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ বুকে অস্বস্তিভাব একটি সাধারণ উপসর্গ মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতী কোনো মারাত্মক রোগ।

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া

সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএমএ
সহকারী পরিচালক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয়
প্রধান রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,
ঢাকা।

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।