ডা. রেজাউল করিম কাজল: পৃথিবীতে মানুষের হাজার হাজার রোগ বালাই থাকলেও কিছু কিছু রোগ আছে যাতে শুধু ছেলে বাচ্চারই ভোগে। এই সব রোগ কে এক্স লিংকড ডিজিজ বলে। যেহেতু ছেলেদের একটি মাত্র এক্স ক্রোমোজম ও একটি ওয়াই ক্রোমোজম থাকে তাই ছেলেরাই এই রোগে ভোগে। মেয়েদের দুটি এক্স ক্রোমোজম থাকে যার মধ্যে একটি সাধারনত ভালো থাকে তাই মেয়েরা এসব রোগের বাহক হিসাবে কাজ করে। কিন্তু রোগে ভোগেনা। এরকম রোগগুলোর মধ্যে নিম্নের কয়েকটি আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়। হিমোফিলিয়া  এটি একটি জন্মগত রক্তরোগ যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্ত জমাট বাধার বিশেষ উপাদান থাকেনা। ফলে শরীরের কোন অংশে আঘাত পেলে আর রক্তক্ষরন বন্ধ হতে পারেনা। আঘাত ছাড়াও এদের হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্ট, যেমন হাঁটু, কনুই, গোড়ালী ইত্যাদির ভিতরেও রক্তক্ষরন হতে পারে।

ফ্র্যাজাইল এক্স সিনড্রোম  এই রোগে আক্রান্তশিশুরা মারাতœক মানসিক বৈকল্যে ভুগে থাকে। যেমন লেখাপড়া শিখতে না পারা, অমোনোযোগী, অতি সক্রিয়তা, শরীরের বিভিন্ন অংগ প্রত্যঙ্গ সঠিক ভাবে নড়াচড়া করতে না পারা ইত্যাদি। অটিজম এর সাথে এ রোগটির অনেক মিল রয়েছে। বিরল ক্ষেত্রে মেয়ে শিশুরাও এ রোগে ভুগতে পারে।

ডিএমডি: ডুসিন মাসকুলার ডেসট্রফি দুই থেকে পাঁচ বছর বয়স হলে এ রোগটি ধরা পড়ে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের ধীরে ধীরে মাংসপেশীগুলো শুকিয়ে যায়। শিশুরা দেরীতে দাঁড়াতে, হাঁটতে শেখে। মাংসপেশীতে কোন বল থাকেনা বলে তারা দিন দিন হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলে। সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে তারা সাধারনত হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলে। মারাতœক পরিস্থিতির সৃস্টি হয় যখন তাদের শ্বাস প্রশ্বাসের মাংসপেশীগুলো আর কাজ করেনা।

প্রতিরোধের উপায়: যেহেতু এই রোগগুলো জেনেটিক বা ডিএনএ ঘটিত তাই এসব রোগের চিকিৎসা নেই বা থাকলেও অত্যন্ত জটিল। যেহেতু ছেলে বাচ্চাদের এ সব রোগে ভোগার সম্ভাবনা বেশী তাই প্রথমেই জানা জরুরী মায়ের গর্ভের বাচ্চাটি ছেলে না মেয়ে। সাধারনত গর্ভাবস্থার আঠারো হতে বিশ সপ্তাহে আল্ট্রাসনোগ্রাফীর মাধ্যমে ছেলে মেয়ে সনাক্ত করা যায়। কিন্তু তখন বাচ্চার আকার প্রায় দশ ইঞ্চির মতো হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র এগারো হতে পনেরো সপ্তাহে অর্থাৎ বাচ্চার আকার যখন মাত্র দেড়/দুই ইঞ্চি তখনই প্রাথমিক গর্ভফুল হতে কোষ কলা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে বাচ্চার লিংগ জানা যায়। যদি জানা যায় যে গর্ভের সন্তানটি মেয়ে তাহলে আর চিন্তার কোন কারন নেই। কিন্তু যদি দেখা যায় গর্ভের সন্তানটি ছেলে তাহলে পরবর্তী কাজ হলো বাচ্চাটির উপরোক্ত জেনেটিক রোগটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা। রিপোর্টে যদি দেখা যায় ছেলে বাচ্চাটি উক্ত রোগগুলোর কোন একটি নিয়ে জন্মগ্রহন করতে যাচ্ছে তখন বাচ্চার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাবেন কিনা। এভাবেই উন্নত বিশ্বে জেনেটিক রোগকে নিয়ন্ত্রন করা গেছে।

ডা. রেজাউল করিম কাজল,

সহযোগী অধ্যাপক, বিএসএমএমইউ

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।