অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ:  নিয়মিত একটু হাঁটা, খালি হাতে একটু ব্যায়াম, রোদে বেরোনোর সময় রোদচশমা পরা, বেশি রাত না জাগা—এর সবই আমাদের জানা। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য, আমাদের সুস্থতার জন্য এগুলো ভালো। কিন্তু আমরা অনেকেই এসব মানি না… কীভাবে শরীর ভালো রাখতে হবে তা অনেকেই আমরা জানি। কখনো কখনো প্রয়োজনের থেকে বেশিও জানি। কিন্তু জীবনযাপনে তা মানার চেষ্টা করি না বেশির ভাগ সময়। জ্ঞান থাকলেও জ্ঞানের প্রয়োগ দেখা যায় না। ঠিকমতো খাওয়া, ঘুমানো, ব্যায়াম করা—নিজেকে সুস্থ রাখতে এসবের বিকল্প নেই। যতটুকু জানি তা-ই যদি প্রতিদিন মেনে চলি, তাহলে সুস্থ থাকা সম্ভব।

সকালে নাশতা করা চাই
অনেকেরই অভ্যাস হলো সকালবেলা তাড়াহুড়া করে নাশতা না খেয়ে বের হওয়া। ক্লাসের কিংবা অফিসের তাড়া যতই থাকুক, শত ব্যস্ততার মধ্যেও সকালবেলা নাশতা খেয়ে বাসা থেকে বের হওয়া উচিত। সারা দিনের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সকালবেলা পেট ভরে পুষ্টিকর, সহজে হজম হয় এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতা খেতে হবে। ওজন কমানোর জন্য সকালের নাশতা এড়িয়ে যাবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতা খেলে সারা দিন অন্যান্য জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে। ফলে ওজন কমাতে সুবিধা হয়।

একটু হলেও ব্যায়াম করুন
আমরা জানি, প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে। কজনই বা এই কথাটা মানি? খুব অল্পসংখ্যক মানুষ নিয়মিত ব্যায়াম করেন সকালবেলা। আর কিছুসংখ্যক মানুষ আছেন যাঁরা মাঝেমধ্যে সকালে ব্যায়াম করেন, সব সময় করেন না। প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করলে মুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায় এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে। সকালে ব্যায়াম না করার অভ্যাস থাকলে যখনই সময় পাবেন কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে। সাঁতার বা যেকোনো ব্যায়াম করার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন।

প্রতিদিন ৮১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে
একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন বেশি ঘামলে বা শরীরে পানিশূন্যতা হলে বেশি পানি পান করতে হয়। সাঁতার বা যেকোনো ব্যায়ামের পর পর্যাপ্ত পানি বা ফলের রস পান করতে হবে।

খাবার খেয়েই ঘুমাতে যাবেন না
খাবার খাওয়ার পর পরই বিছানায় শুয়ে পড়া ঠিক নয়। এতে খাবার গলা দিয়ে উঠে আসতে পারে, এর ফলে গলা ও বুক জ্বালা করতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার পর কমপক্ষে ১৫ মিনিট পায়চারি করা উচিত। আর রাতে শোয়ার কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত।

রোদে ব্যবহার করুন রোদচশমা
রোদ থেকে ত্বকে ও চোখে নানা রকমের সমস্যা হয়। এসব তথ্য আমরা জানি। কিন্তু মানার ক্ষেত্রেই যত সমস্যা। ত্বক ও চোখ ভালো রাখতে ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন লোশন ও রোদচশমা।

রাতে চাকফি খাওয়া উচিত না
রাতে চা-কফি খাওয়া উচিত না। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এভাবে চলতে থাকলে ইনসমনিয়া হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য রোগও হতে পারে।

রাত জাগা উচিত না
রাত জাগা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। এটি জেনেও আমরা রাতের পর রাত জাগি। রাতে জাগলে সারা দিনে ঘুম পায়, শরীর দুর্বল লাগে। কাজে মন বসানো যায় না। এর ফলে উচ্চরক্তচাপসহ নানা রোগ হতে পারে।

ব্রণ হলে খোঁটানো যাবে না
ব্রণ হলে খোঁটানো যাবে না, এটা জানা থাকলেও অবাধ্য হাত তা মানে না। ব্রণ চুলকালেও তা খোঁটানো যাবে না। কারণ, এতে সংক্রমণ হতে পারে। এর ফলে মুখে দাগ পড়ে। তাই ব্রণ খোঁটানো উচিত না। ব্রণ সাধারণত এমনিতেই সেরে যায়। তা না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর
ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম কারণ। এটি পরিহার করা উচিত। ধূমপায়ীর জন্য এক দিনে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া খুব একটা সহজ না, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে ধূমপান করা ছেড়ে দিতে পারবেন।

৪০ বছরের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
যাঁদের বয়স ৪০ বছর বা এর বেশি, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চরক্তচাপ, হৃদ্রোগ সমস্যা, ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এই বয়সে কিছু অসুখ হতে পারে যা উপসর্গহীন। তবে এসব অসুখ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসা ফলাফল ভালো হয়।

লেখক: অধ্যাপক  ও ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সুত্রঃ প্রথম আলো 

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।