অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতেও গত কয়েক বছরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে উপজেলা বা জেলা স্তরের সরকারি-বেসরকারি কিছু হাসপাতালে ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে মোবাইল ফোন বা ভিডিও কনফারেনসিং-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা  ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এই তথ্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা, এবং এর উদ্যোক্তারা পরিকল্পনা করছেন ভবিষ্যতে একে আরো সম্প্রসারিত করার।  টেলিমেডিসিনের মূল কথা হলো তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের কাছে পৌছে দেয়া।

কীভাবে কাজ করছে টেলিমেডিসিনঃ হাসপাতালে দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোন, যা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে, এবং তার সাথে রয়েছেন একজন ডাক্তার দিনে-রাতে যে কোন সময় ওই অঞ্চলের লোকেরা ডাক্তারের কাছ থেকে জরুরি চিকিৎসা সেবা বা পরামর্শ নিতে পারেন। টেলিমিডিসিন ব্যাখ্যা করছেন ডাক্তার কিভাবে কাজ করছে তা দেখার জন্য ঢাকার নিকটবর্তী সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, হাসপাতালের দেয়ালে বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন সেঁটে দেয়া হয়েছে, তাতে মোবাইল নম্বরসহ এই সেবার কথা জানানো হয়েছে  তবে হাসপাতালে আসা চিকিৎসাপ্রার্থীদের সাথে কথা বলে দেখা গেল, অনেকেই ঐ সেবার কথা এখনো জানেন না।  হাসপাতালের ডাক্তার জানালেন, এই কর্মসুচি নতুন হওয়ায় এখনো সবাই সচেতন হননি, তবে নানা ভাবে এই সেবার খবর ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এখন তারা প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত ফোন পাচ্ছেন, এবং এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।  এ ছাড়া আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়াও শুরু হচ্ছে এই উপজেলায়। বাংলাদেশের ৪১৮টি উপজেলায় এখন এই মোবাইল চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা কাঠামোকে আরো সম্প্রসারিত করার

মোবাইলে রোগীর খোঁজখবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদ বলছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত হাসপাতালগুলোকে একটি সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।  এখনো সবাই সচেতন হননি, তবে নানা ভাবে এই সেবার খবর ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি পর্যায়েও একটি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে টেলিমেডিসিন সেবা। ফরিদপুর জেলা শহরের ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে সেখানকার রোগীরা ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা পাচ্ছেন। ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আবদুস সামাদ এই পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলছেন, রোগী থাকেন ফরিদপুরের টেলিমেডিসিন কক্ষে, আর ঢাকার ডায়াবেটিক হাসপাতালে থাকেন ডাক্তার উভয়েই ওয়েবক্যামেরার মাধ্যমে পরস্পরকে দেখতে পান, ডাক্তার প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করেন, এবং রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট ইত্যাদি এই ক্যামেরার মাধ্যমে বা আগেই পাঠিয়ে দেয়া ইমেইলের মাধ্যমে অপর প্রান্তের ডাক্তার দেখতে পারেন।

অধ্যাপক সামাদ বলছেন, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ৬০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি প্যানেল তৈরি করেছেন এই টেলিমেডিসিন সেবার জন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর জন্য রোগীদের সময় ও অর্থব্যয় করে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে না। অধ্যাপক শেখ আবদুস সামাদ বলেন এর ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর জন্য রোগীদের আর সময় ও অর্থব্যয় করে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতি চিকিৎসাপ্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে এবং আগামীতে এই সেবাকে আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে । টেলিমেডিসিন বাংলাদেশে এখনো একটি নতুন ধারণা তবে সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যেভাবে এই সেবা সম্প্রসারিত করার কথা বলা হচ্ছে তাতে হয়তো বড় শহরগুলোর বাইরের লোকের কাছে এটি অচিরেই একটি পরিচিত শব্দ হয়ে উঠবে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।