কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ: কোমল পানীয়কে সজীবতা ও অম্লস্বাদ আনয়নের জন্য সাইট্রিক এসিড, ফসফরিক এসিড এবং কদাচিৎ মেলিক এসিড ও টারটারিক এসিড ব্যবহার করা হয়। ব্রিটিশ দন্ড সংস্হা এর মতে,অতি মিষ্টি পানীয় অথবা অম্লস্বাদ যুক্ত পানীয় পান করার পর দাঁত পরিষ্কার করলেও দাঁতের ক্ষতি হয়। ব্রিটেনের এক জরিপে দেখাগেছে যে,যারা নিয়মিত কোমল পানীয় পান করে তাদের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ দাঁতের রোগে ভুগে। একটি দাঁত কোমল পানীয়তে দুদিন রেখে দিলে দাতটি নরম হয়ে যায়। ফসফরিক এসিডের ফসফরাস মানুষের পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে বদহজম,গ্যাস এবং পাকস্থলী স্ফীতির সৃষ্টি করে। অধিক চাপের কার্বন-ডাইঅক্সাইড আমরা কোমল পানীয়তে বুদবুদ সৃষ্টি করে।কার্বন-ডাইঅক্সাইড একটি বিষাক্ত দূষিত পদার্থ। বাতাসে এর পরিমান বাড়লে বাতাস দূষিত হয়। অথচ এই দূষিত কার্বন-ডাইঅক্সাইড আমরা কোমল পানীয়র সাথে খাচ্ছি। ফলে ফুসফুসের জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবণা আছে। কোমল পাণীয় মূল উপাদান ৯৯% ডিসটিলড ওয়াটার। সমীক্ষায় দেখা গেছে-যে যত বেশি ডিসটিলড ওয়াটার পান করবে তার মধ্যে ততো খনিজ পদার্থের স্বল্পতা ও এসিড অবস্থার সৃষ্টি হবে।

কোমল পানীয়ের সংরক্ষণ মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য কার্বনিক এসিড,বেনজয়িক এসিড বা সোডিয়াম বেনজয়িট ব্যবহার করা হয়। এগুলো হাঁপানী,ফুসকুড়ি এবং অতি সক্রিয়তার কারণ ঘটায়।বস্তুর বিরঞ্জনে(অর্থাৎ বস্তুর রং পরির্বতনে) কিংবা পরিষ্কার করতে যে সালফার ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হয় তা কোমলপানীয়েতে সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইহা রক্তিমাভা, মুচ্ছাভাব, ত্বক স্ফীতি,মাংসপেশী ফোলা,দুর্বলতা,বুকের টান টান ভাব এর কারণ ঘটায়।হাঁপানিগ্রস্থ রোগীর হাঁপানী বেড়ে যায়।

রঙিন কোমল পানীয় বেশি ক্ষতিকর।কারণ ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পেপসির টারট্রাজিনের রঙ কমলা-হলুদ।এই রঙ এলার্জিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে বিধায় নরওয়ে ও সুইডেনে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারক এজেন্ট মিরিন্ডা অরেঞ্জে সানসেট ইয়োলো এবং টারট্রোজিন দেয়া হয়। এটিও ক্যান্সার সৃষ্টিকারক এটিও উক্ত দেশ ও ফিনল্যান্ডে নিষিদ্ধ করেছে অন্য রঙও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

কোমল পানীয়কে ঠান্ডা রাখার জন্য ইথাইলিন গ্লাইকোল দেয়া হয়। এই রাসায়নিক পদার্থ আর্সেনিকের মতোই ধীরঘাতক।এক ঘন্টার মধ্যে কেউ ৪ লিটার কোমল পাণীয় খেলে মৃত্যুবরণ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ১২-১৫ বছর বয়সী স্কুলগামী ৫৯১ জন ছেলে এবং ৭৪৪ জন  মেয়ের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে অতিরিক্ত পরিমাণে নিয়মিত কার্বনেটেড কোমল পানীয় পান করার ফলে তাদের হাড়ে খনিজ পদার্থের পরিমাণ কমে গেছ। এতে দাতেঁর ও হাড়ের বিভিন্ন রকম রোগ হয়।

প্রতিবেদন সহকারীঃ  সীমা আক্তার মেঘলা

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ

সহকারী অধ্যাপক, কৃষি শিক্ষা

শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।