অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ নিম পৃথিবীর সবচেয়ে উপকারী গাছ।পশ্চাত্যে নিম গাছকে‘মিরাকলট্রি’ বলে। এই গাছ ‘ভিলেজ র্ফামেসী’ হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা বিশ্বে নিমের ওপর কয়েকটি আন্তরজাতিক সম্মেলন হয়েছে।ইউএসএ টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত এক রির্পোটে বলা হয়েছে যে,পৃথিবীর প্রতিটি লোক নিম গাছ থেকে উপকৃত হতে পারে। নিম গাছের শিকড়,কান্ড,ডাল,পাতা,ফুল ও ফল-সবই মানুষের উপকারে লাগে।এটা চাষ করাও খুব সহজ।শুধু রোপন করলেই হয়।

নিমের জন্মস্থান মায়ানমার। এটি (meliaceae) পরিবারের একটি বৃক্ষ।এর বৈজ্ঞানীক নাম(melia azadirachta) ।পৃথিবীর প্রায় সব দেশে নিম গাছ জন্মে।এর বংশবিস্তার বীজ দিয়ে এবং শাখা কলমের মাধ্যমে করা যায়।নিম গাছ সারা বছর রোপন করা যায়।তবে উপযুক্ত সময় হল জুন থেকে নভেম্বর মাস পযর্ন্ত।জুন-জুলাই মাসে বীজ সংগ্রহ করে ১০-১৫ দিনের মধ্যে বীজ বপন করতে হয় চারা উৎপাদন করার জন্য।চারার বয়স ১ বছর হলে রোপন করা যায়।প্রায় সব মাটিতে নিম ভাল হয়। স্বল্পকালীন বন্যা সহ্য করতে পারে। পোকামাকড় ও রোগবালাই দ্বারা আক্রান্ত হয় না্।নিম গাছ দ্রুত বাড়ে।

নিমের পাতার রস ঘা,ফোঁড়া,চুলকানি,চমর্রোগ,গুটি বসন্ত,খোসপাঁচড়া,জলবসন্ত,হাম,ব্রন,জ্বর,সর্দি,কাশি,অরুচি,বদহজম,কৃমি,কফ বমি,কুষ্ঠ,হিক্কা,প্রমেহ রোগ সারায়। নিমের বীজের তেল মাথা ঠান্ডা রাখে,উঁকুন মারে,চুলপড়া বন্ধ করে, চুল বাড়ায়,খুসকি দূর করে। নিমের বাকল বাতরোগ ও জ্বরে খুব উপকারী।নিম গাছের ডাল দিয়ে প্রতিদিন দাঁত মাজলে দাঁতের কোন রোগ   হয় না।নিমের আঠা ও ফল থেকে শক্তিবধক টনিক তৈরি হয়।কাঁচা হলুদ ও নিম পাতা বাটা বসন্তের গুটিতে দিলে গুটি দ্রুতশুকিয়ে যায়।১০টি নিম পাতা ও ৫টিগোল মরিচ চিবিয়ে খেলে রক্তের শকর্রা কমিয়ে ডায়বেটিস রোগীর উপকার করে।ভারতের ইনিউনোলজি হাসপাতালের ডাক্তাররা নিম থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ ‘স্পার্নি সাইডাল ক্রিম’ তৈরি করেছে।এটি ব্যবহারে একশতভাগ সাফল্য পাওয়া গেছে।নিমের তেল শুক্রাণু/ডিম্বাণুর র্কাযক্ষমতা নষ্ট করে।

নিমের বীজের তেল দিয়ে প্রায় ২০০ প্রজাতির ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন করা যায়।গুদামের শস্যের মধ্যে নিমপাতা গুড়া করে দিলে পোকা আক্রমণ করে না। মশা দমনের জন্য নিমের তেল খুব র্কাযকরী।নিমগাছের কাছে মশা যায় না। নিম তেল দ্বারা তৈরী করোনিম লিকুইড ১০ মিলিলিটারে ১ লিটার পানি মিশিয়ে মশার উৎপত্তি স্থানে স্প্রে করলে মশা র্নিমূল হয়। ইউরিয়া  সারের সাথে নিম পাউডার মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করলে ২৫ ভাগ ফলন বেশি হয়।নিমের গুঁড়া উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান মাটিতে সংরক্ষণ করে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও মাটির ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় ধ্বংস করে।আন্তরজাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) পরীক্ষা করে,দেখেছেন যে, নিমের খৈল ধানের সহজলভ্য এমোনিয়াম নাইট্রোজেনকে নাইট্রেটে রৃপান্তরিত করে যা মাটিকে নাইট্রেট লবণমুক্ত করতে সাহায্য করে।নিম গাছ ভূমি ক্ষয় রোধ করে।তাপমাত্রা কমায়।নিমের তেল দিয়ে বাতি জ্বালানো যায়।বীজের মন্ড দিয়ে মিথেন তৈরি করা যায়।পাতার গুঁড়া দিয়ে ফ্রেসক্রিম এবং তেল দিয়ে বিভিন্ন কসমেটিক তৈরি হচ্ছে,যার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।নিমের তৈরি টুথ পেষ্ট,সাবান,তেল,লোশন,শ্যাম্পু বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। নিমের কাঠ খুব উন্নতমানের।ঘুন ধরে না।ঘর র্নিমাণ,আসবাবপত্র তৈরি,নৌকা ও জাহাজ র্নিমাণ করা যায়।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।