অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ দেশের অর্ধেক নারীই গর্ভাবস্থায় ভয়াবহ রক্তস্বল্পতার শিকার হন। আর প্রসূতি মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর নেপথ্যে এটাই   এক নম্বর কারণ৷  সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় দেশের ৫৯ শতাংশ মহিলাই প্রবল রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন৷ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কৃমিই  এর একমাত্র কারন। কৃমি মায়ের শরীর থেকে শুষে নিচ্ছে জরুরি আয়রন৷ ফলে আয়রন বড়ি খেলেও তা কাজে লাগছে না তেমন, দূর করা যাচ্ছে না অ্যানিমিয়া৷ আর এর  একারনেই  প্রসূতি কিংবা শিশুর অকালমৃত্যু৷ প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি প্রসূতিই এই সমস্যার শিকার৷  ‘গর্ভাবস্থায় যাঁরা প্রবল রক্তস্বল্পতায় ভোগেন, তাঁদের ৪১ শতাংশ মহিলার ক্ষেত্রেই শরীরে মিলেছে কৃমির অস্তিত্ব৷  শরীরে আয়রন শোষিত হয় যে অঙ্গের মাধ্যমে, সেই অন্ত্রতেই কৃমি বাসা বেঁধে থাকে আর আয়রন বড়ি কিংবা অন্যান্য খাবারদাবার থেকে আয়রন শুষে নিয়ে নিজের পুষ্টির ব্যবস্থা করে৷ নিট ফল, আয়রন সমৃদ্ধ খাবার কিংবা আয়রন বড়ি খেয়েও লাভ হয় না৷ ‘এবার তাই গর্ভাবস্থার তিন মাসের মাথায় সব প্রসূতিকে কৃমিনাশক অ্যালবেন্ডাজোল ট্যাবলেট দেওয়ার  নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে ভারতের সরকারি চিকিৎসকদের জন্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন , শুধু হুক-ওয়ার্ম নয়, গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতার নেপথ্যে রয়েছে রাউন্ড-ওয়ার্ম, হুইপ-ওয়ার্মের মতো কৃমিও৷ এবং এই সংক্রমণ তৃতীয় বিশ্বের আর্থসামাজিক পটভূমিকায় অপুষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ৷ তা হলে শুধুমাত্র প্রসূতিকালীন চিকিৎসায় কেন জোর দেওয়া হচ্ছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা সবচেয়ে বিপজ্জনক৷ কারণ তা মা ও শিশুর জন্য প্রাণঘাতী৷ যদি প্রাণে বেঁচেও যায়, তা হলেও সেই অপুষ্টি নবজাতকের গোটা জীবন রুগ্ণ করে দিতে পারে৷ তাই শুধু গর্ভাবস্থাতেই নয়, শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময়েও আয়রন অপরিহার্য৷ তাই গর্ভাবস্থায়  মাজাতে এই ভয়াবহ রক্তস্বল্পতার শিকার না হন সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

 

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।