অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ জেনে নিন পেপের ঔষধি গুনাগুনঃ-

জ্বর হলে দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রনা, শরীরে দাহ কমে যাবে। যাদের মাসিক ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় হয়নি অথচ বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা যেটুকু হয় তা না হওয়ারই মত, সেক্ষেত্রে ৫/৬ টি পাকা পেঁপের বিচি গুড়া করে রোজ সকালে ও বিকালে দু’বার পানিসহ খেতে হবে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই মাসিক স্রাব ঠিক হয়ে যাবে, তবে অন্য কোন কারনে এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। রক্ত আমাশয়ে প্রত্যেহ সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্তপড়া কমতে থাকবে। ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উঞ্চ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ বাখারি (শসা-ক্ষীরার মতো এর স্বাদ) চুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে। আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রনা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে

যকৃত বৃদ্ধিতে ৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে নেড়ে মিশ্রণটি সারাদিনে ৩ বার খেতে হবে। ৪/৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধিটা কমতে থাকবে, তবে ৫/৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালো। এভাবে ১ মাস খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। ক্ষুধা ও হজম শক্তি বারাতে প্রত্যেক দিন সকালে ২/৩ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা ক্ষুধাও বেড়ে যাবে এবং হজমও ঠিকভাবে হবে। পেট ফাঁপায় কয়েক টুকরো পাকা পেঁপের শাঁষ, আর সামান্য লবন এবং একটু গোলমরিচের গুড়ো একসংগে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা পেট ফাঁপার উপশম হবে।

সে যে কোনো প্রকারের দাদ হোক না কেন, কাঁচা পেঁপের/গাছের আঠা ঐ দাদে লাগিয়ে দিতে হবে, একদিন লাগিয়ে পরের দিন লাগাতে হবে না, এরপরের দিন আবার লাগাতে হবে, এইভাবে ৩/৪ দিন লাগালে দাদ মিলিয়ে যাবে।যে একজিমা শুকনা অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালেচামড়া উঠতে উঠতে পাতলা হয়ে যায়। উকুন তারাতে ১ চামচ পেঁপের আঠা, তার সঙ্গে ৭/৮ চামচ পানি মিশিয়ে ফেটিয়ে নিতে হয়। তারপর ওই পানি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে ফেলতে হয়। এইভাবে একদিন অন্তর আর একদিন বা ২ দিন লাগালে উকুন মরে যায়।

হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় কাঁচা পেঁপে  দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে। আমাদের দেহে জমা থাকা সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে যা হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য দায়ী। নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যে কোনো সমস্যার সমাধান হয়।

 ওজন কমায় ও ফ্যাট দূর করতে কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ই, এ এবং ফোলাইট। ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে মাত্র ৩৯ ক্যালোরি। তাই যারা ডায়েট কএন তাদের জন্য খাদ্যতালিকায় কাঁচা পেঁপে রাখা জরুরী। এছাড়া কাঁচা পেঁপের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ক্ষতিকর ফ্যাট দূর করতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। তাই সালাদ, কিংবা তরকারীতে রাখতে পারেন কাঁচা পেঁপে। এই গরমে কাঁচা পেঁপের জুস আপনার শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার সাথে সাথে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলবে।

দ্রুত ক্ষত নিরাময় ত্বকের সমস্যা সমাধান করে প্রতিদিন কাঁচা পেঁপে খেলে দেহের যে কোনো ক্ষত এবং কাটাছেড়া দ্রুত নিরময় হয়। কাঁচা পেঁপের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ক্ষতের ইনফেকশন হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। কাঁচা পেঁপে ত্বকের জন্যও বেশ ভালো একটি খাদ্যউপাদান। বেশিরভাগ ভালো ত্বকের প্রোডাক্টে কাঁচা পেঁপের ব্যবহার হয়ে থাকে। কাঁচা পেঁপে ত্বকের ব্রণ ও নানান ধরণের চামড়ার রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। প্রতিদিন কাঁচা পেঁপে বাটা ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে উঠে উজ্জ্বল ও মসৃণ।

 

 

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।