অধ্যাপক ডাঃ এম আলমগীর চৌধুরী: কানের পর্দা যদি ফুটো হয়ে যায় তা জোড়া লাগানোর পদ্ধতির নাম মাইরিংগোপ্লাষ্টি ।  কানের পর্দায় ফুটা তৈরী হওয়ার প্রধানতম কারণ হল কানের মধ্য ভাগের মিউকো-পেরিঅষ্টিয়াম এর দীর্ঘকালব্যাপী প্রদাহ।  ডাক্তারী ভাষায় একে বলা হয় ক্রনিক সাপোরেটিভ অটাইটিস মিডিয়া। যাকে প্রচলিত ভাষায় “কান পাকা” রোগও বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে এই রোগ হতে পারে। যেমন-

১.    যদি কানের মধ্যভাগে কোন ইনফেকশন হলে তা সঠিক ভাবে সারিয় না তোলা হয়।

২.    শিশু বয়সে ডিপথেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা হাম হলে তা থেকে এই রোগ শুরু হতে পারে।

৩.    কিছু ব্যাকরেটরিয়ার সংক্রমন হলেও এই রোগ হতে পারে।

৪.    ইউষ্টেশিয়ান টিউব  – এ যদি কোন সমস্যা হয়।

৫.    যারা দীর্ঘদিন শ্বাস-তন্ত্রের ইনফেকশনে ভুগছেন তাদেরও এই রোগ দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও আরও কিছু কারণে এই রোগ হতে পারে।

এই রোগের লক্ষণসমূহঃ-

১.    কিছুদিন পর পর আক্রান্ত কান হতে পুজঁ অথবা পানি জাতীয় পদার্থের নিঃসরন।

২.    ধীরে ধীরে আক্রান্ত কানের স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া।

৩.    কখনও কখনও কানে ব্যথাও হতে পারে।

চিকিৎসাঃ যখন পুঁজ অথবা পানি জাতীয় পদার্থের নিঃসরন হতে থাকে তখন কানের পর্দা জোড়া লাগানোর অপারেশন করা সম্ভব হয় না। তাই এই নিঃসরন বন্ধ করার জন্য আগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। যখন এই নিঃসরন বন্ধ হয়ে যায়, তখন কানের পর্দা জোড়া লাগানোর অপারেশন ‘মাইরিংগোপ্লাষ্টি’ করা হয়ে থাকে।

 মাইরিংগোপ্লাষ্টি কি?

এটি হলো কানের পর্দা জোড়া লাগানোর এমন এক পদ্ধতি যেখানে, কানের পিছনে অবস্থিত টেমপোরালিস মাস্ল – এর ফাসা নিয়ে কানের পর্দায় প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি একটি আধুনিক মাইক্রোস্কোপিক অপারেশন। যা আগে আমাদের দেশে খুব বেশি হতো না। তবে এখন সরকারী এবং বিভিন্ন বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই অপারেশন অহরহই হয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকেও এই অপারেশন হয়। এই অপারেশনে সাফল্যের হার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।

 অপারেশন না করা হলে যে ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে, তা হলো-

১.    টাইপ-৩ নিউমোক্কাসসহ নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন।

২.    বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক ঔষধের মাধ্যমে কার্যকারিতার উপর প্রতিরোধ সৃষ্টি হওয়া।

৩.    ম্যাষ্টয়েড বোনের ক্ষয় বা স্কে¬রোসিস হওয়া।

৪.    কোলেসটিয়েটোমা নামক এক ধরনের পকেট কানের মধ্য ভাগে সৃষ্টি হওয়া।

 এছাড়াও আরও কিছু জটিলতা দেখা দেয়। তবে অপারেশন দ্বারা এই সব জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

অধ্যাপক ডাঃ এম আলমগীর চৌধুরী

এমবিবিএস, ডিএলও, এমএস (ইএনটি), এফআইসিএস, গোল্ড মেডালিষ্ট (ইউএসএ)

ভিজিটিং ফেলো (ইউএসএ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, হংকং এন্ড ইন্ডিয়া)

নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।