অধ্যাপক ডাঃ এম আলমগীর চৌধুরীঃ  আমাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও অনেকেই টনসিলের ক্রনিক ইনফেক্শনে ভোগে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজণিত কারণে টনসিলের প্রদাহ হয়। টনসিল ইনফেক্শনে শিশুরাই বেশী আক্রান্ত হয়। এই রোগে স্কুলগামী ছেলেমেয়েরাই বেশী ভুক্তভোগী। টনসিল প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলা হয়।

টনসিল প্রদাহের উপসর্গসমূহঃ টনসিল প্রদাহের উপসর্গগুলোর মধ্যে প্রধান উপসর্গ হচ্ছে গলায় ব্যথা। কেউ কেউ বছরে অনেকবার টনসিলের প্রদাহে আক্রান্ত হয়। অনেকে বছরের পর বছর টনসিল প্রদাহে ভোগে থাকেন। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে-টনসিল ও গলার লসিকাগ্রন্থি বড় হয়ে যায়, অনেক শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। ক্রনিক প্রদাহের ফলে বিশেষ করে শিশুদের বেলায় টনসিল এত বড় হয়ে যায় যে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে এবং খাওয়া-দাওয়ায় অসুবিধা হয়। দীর্ঘমেয়াদী টনসিলের প্রদাহ হলে বিভিন্ন রকম জটিলতা দেখা দেয়, যেমন- রিউমেটিক ফিভার, হার্ট এবং কিডনীতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সর্বোপরি শিশুর শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

কখন টনসিল অপারেশন করাবেন ? টনসিলের তীব্র প্রদাহ ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী টনসিল প্রদাহের, যাদের বছরে চার/পাঁচ বারের বেশী ইনফেক্শন হয় অথবা যে সকল রোগী বছরের পর বছর ভুগে থাকেন তাদের অপারেশন করে ফেলা প্রয়োজন। টনসিল অনেক বড় হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হলে, শিশুদের রাতে ঘুমের ব্যাঘাত হলে, টনসিলে ফোঁড়া হলে, হঠাৎ করে একদিকের টনসিল অনেক বড় হলে যদি ক্যান্সার সন্দেহ হয়, টনসিলে টিবি রোগ হলে এবং আরো অন্যান্য কারণে টনসিল অপারেশন করা দরকার।

 টনসিল অপারেশনের পদ্ধতিসমূহঃ টনসিল অপারেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। যেমন- ডিসেকশন ম্যাথড, ইলেকট্রকটারি, লেজার, কোবলেশন ও আলট্রাসনিক । ডিসেকশন ম্যাথড  বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এই উপায়ে অপারেশনের সময় কিছু রক্তপাত হয় এবং রক্তনালীগুলো সেলাই করে দিতে হয়। লেজার, কোবলেশন এবং আলট্রাসনিক উপায়ে টনসিল অপারেশন অনেক উন্নতমানের কিন্তু ব্যয়বহুল। এতে উপযুক্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত দক্ষ সার্জনের প্রয়োজন।আমরা বর্তমানে বাংলাদেশে একমাত্র আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাড়ী ১৭, রোড ৮, ধানমন্ডি, ঢাকায় আলট্রাসনিক পদ্ধতিতে নিয়মিত টনসিল অপারেশন করছি।

 আলট্রাসনিক টনসিল অপারেশনের সুবিধাসমূহঃ রক্তপাতহীন, নিরাপদ এবং আধুনিক, অত্যন্ত কম সময় লাগে, অপারেশনের পরেই রোগী মুখে খেতে পারবে, দ্রুত আরোগ্য লাভ এবং রোগী অতিশীঘ্রই দৈনন্দিন স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ফিরে যেতে পারে।

অধ্যাপক ডাঃ এম আলমগীর চৌধুরী

এমবিবিএস, ডিএলও, এমএস (ইএনটি), এফআইসিএস, গোল্ড মেডালিষ্ট (এবিআই – ইউএসএ)

ভিজিটিং ফেলো (ইউএসএ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, হংকং এন্ড ইন্ডিয়া)

নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি

চেম্বারঃ আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রুম ২০১, এ ব্লক, ২য় তলা, বাড়ী ১৭, রোড ৮, ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৫।

ফোনঃ ০১৯১৯ ২২২ ১৮২

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।