ডা. মাহবুবুর রহমান শাহিন:  আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন এক যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতি। যাদের টাক মাথা অর্থাৎ যাদের মাথার পিছনে বা সাইডে চুল আছে কিন্তু কপালের উপর বা মাথার উপরিভাগে চুল নেই এবং যাদের বয়স ৩৫ ও এর উর্দ্ধে তাদের জন্য হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন-এর মাধ্যমে চুল প্রতিস্থাপন উত্তম পদ্ধতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা বর্তমানে চুল প্রতিস্থাপন করছে। হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন বলতে মাথার পিছনে বা সাইড থেকে চুল সহ চামড়া কেটে এনে সেলাই করতে হয় আবার মাথার পিছন থেকে ও সাইড থেকে ১টি করে চুল গোড়া সহ এনে টাক জায়গায় স্কিন ফুটো করে ঢুকিয়ে দিতে হয়। বর্তমানে ২টি পদ্ধতির মাধ্যমে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন করা হয়। একটি হল  মাথার পিছন ও সাইড থেকে চুল সহ কেটে এনে সেলাই করতে হয়। অপরটি হল  মাথার পিছন ও সাইড থেকে ১টি করে চুল গোড়াসহ এনে টাক জায়গায় স্কিন ফুটো করে ঢুকিয়ে দিতে হয়। প্রশ্ন থাকে একজন রোগী কোন পদ্ধতি ব্যবহার করবে। তাই এই পদ্ধতির চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী। অনেকেই মাথার চুল পড়লে বা মাথায় টাক থাকলে দুঃচিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কি করবেন ভেবে পান না। সোজা কথা হল এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। রোগী যদি মনে করেন তাহলে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন-এর দুইটি পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ ধারণা থাকা জরুরী।

পদ্ধতি :  ১ হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশনের পূর্বেই বলা হয়েছে মাথার পিছন থেকে চুলসহ স্কিন কেটে এনে সেলাই করা হয় যা শুকাতে ১০ দিন সময় লাগে। তবে মাথায় চুল কামাতে হবে না। এই পদ্ধতি দ্রুত ৪ ঘন্টায় ২০০০ চুল লাগানো যায়। এই পদ্ধতি সূক্ষ্ম কারণ অনুবিক্ষণ যন্ত্রের নীচে চুল আলাদা করা হয়। এই পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল নয়। একজন ডাক্তার ইচ্ছে করলে একদিনে ৬০০০ হাজার পর্যন্ত চুল লাগাতে পারে। সেলাই করতে হয় বলে বেশি ব্যাথা ও দাগ থাকে। তবে বড় জায়গায় ট্রান্সপ্লানটেশনের জন্য এই পদ্ধতিটি খুবই উপযোগী।

পদ্ধতি:  ২  এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাথার পিছন থেকে একটি একটি করে চুল তুলে আনা হয় ও প্রতিস্থাপন করা হয়। যা শুকাতে ২/৩ দিন লাগে। ধীর পদ্ধতিতে চুল লাগাতে হয় বা ১০ ঘন্টায় ২০০০ চুল লাগানো সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ১ দিনে সর্বোচ্চ ২০০০ চুল লাগানো সম্ভব। তবে এই পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল। সেলাই করতে খুব অল্প ব্যাথা এবং কোন দাগ থাকেনা। ছোট এরিয়ার ট্রান্সপ্লানটেশনের জন্য এই পদ্ধতি সহায়ক। এই দুই পদ্ধতিতে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন করার ফলে চুলগুলো স্বাভাবিক বড় হতে থাকে। চুল তুলে আনার পর পেছনের চুলগুলো গজাতে থাকে। তবে মূল কথা হল আপনাকে ভেবে চিন্তে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন করতে হবে। এতে ঝুকি কম ও আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।

ডা. মাহবুবুর রহমান শাহিন
সহযোগি অধ্যাপক, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ
কসমেটিক ও হেয়ার প্লানটেশন সার্জন

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।