অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ করল্লা  স্বাদে তিতা কিন্তু  স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারি। করল্লায় ভেষজ গুণ বেশি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে করল্লার তুলনা নেই  । করল্লা তরকারি বায়ুবৃদ্ধিতে, বাতে, লিভারে ও প্লীহার রোগে এবং ত্বকের অসুখে উপকার দেয়। নিয়মিত খেলে এটি জ্বর, হাম ও বসন্ত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। করলা ও উচ্ছে আকারে বড় ও ছোট হলেও গুণের দিক থেকে একই।

ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়মিত করলার রস খেলে ও খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম মেনে চললে  ডায়াবেটিস থাকবে না।  তেতো বের না করে তরকারি হিসেবে ভাজি, ভর্তা হিসেবে খাওয়া।  কচি   টুকরো করে কেটে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে মিহি করে পিষে নিতে হবে। এ গুঁড়ো সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত দুই চা চামচ করে চার মাস খেলে এ রোগ নিশ্চয় সারবে। তবে নিয়মকানুন মানতেই হবে। এতে প্রস্রাবের সাথে শর্করা বের হওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। করল্লা একটি করে শসা, টমেটো ও করলা নিয়ে রস বের করে সকালে খালি পেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বাতরক্ত  এ ক্ষেত্রে চার চা-চামচ করল্লা বা উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে সেই সাথে এক-দেড় চা চামচ বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি মিশিয়ে ভাতের সাথে খেতে হয়।

করল্লা  গুঁড়ো কৃমির  এ ক্ষেত্রে  বয়স্ক হলে ১-২ চা চামচ এবং শিশু হলে আধা চা চামচ সকালে ও বিকেলে অল্প পানি মিশিয়ে খেতে হয়।পাতার রস বয়স্ক হলে ১-২ চা চামচ এবং শিশু হলে আধা চা চামচ সকালে ও বিকেলে অল্প পানি মিশিয়ে খেতে হয়।

পিত্ত শ্লেষ্মাজনিত অনেক সময় ম্যালেরিয়া জ্বরেও পিত্ত শ্লেষ্মার বিকার হয়। এর প্রধান উপসর্গ হলো, শরীর কামড়ানি, পিপাসা ও বমি; এ ক্ষেত্রে উচ্ছে বা করল্লা পাতার রস এক চা চামচ একটু গরম করে অথবা গরম পানির সাথে মিশিয়ে সারা দিনে ২-৩ বার করে খেলে জ্বরের উপসর্গগুলো চলে যাবে ও জ্বরের প্রকোপ কমে যাবে।

প্লীহা রোগের উপক্রম হওয়া  এ রোগের লক্ষণ হলো বিকেলে চোখ-মুখ জ্বালা করা, নাক-মুখ দিয়ে গরম নিঃশ্বাস-বের হওয়া, মুখে স্বাদ না থাকা। নোনা স্বাদ ও ভাজাপোড়া জিনিসে রুচি বেশি এ ক্ষেত্রে বুঝতে হবে, রক্তবহ স্রোত দূষিত হচ্ছে এবং এর আধার প্লীহা বিকারগ্রস্থ হচ্ছে। এ সময় করল্লা বা উচ্ছে পাতার রস দুই চা চামচ একটু গরম করে সিকি কাপ পানিতে মিশিয়ে দিনে দু-তিন বার খেতে হয়। এভাবে পাঁচ-ছয় দিন খেলে অসুবিধাগুলো আস্তে আস্তে চলে যাবে।

বাত  পিত্ত শ্লেষ্মাজনিত এ বাত রোগের লক্ষণ হলো অমাবস্যা, পূর্ণিমা এবং একাদশী এলে হাত-পা-কোমর, সারা শরীরে ব্যথা যন্ত্রণা হয়; ব্যথা নিবারক বড়ি খেয়ে চলাফেরা করতে হয়; শীতকাল এলে কথাই নেই, তবে গরম বেশি পড়লে ব্যথা-বেদনা ও যন্ত্রণা একটু কম হয়। এ ক্ষেত্রে করলা বা উচ্ছে পাতার রস ৩ চা চামচ গরম করে অল্প পানিতে মিশিয়ে দিনে ২ বার করে খেতে হবে।

অরুচি দূর করতে বৈদিক শাস্ত্র মতে, পিত্ত শ্লেষ্মার বিকার না হলে অরুচি রোগ হয় না। এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ করল্লা  রস সকাল ও বিকেলে খেলে দোষটা চলে যায়।

রক্তপিত্ত  যাদের কোনো জ্বালা-যন্ত্রণা ছাড়াই পায়খানার সাথে টাটকা রক্ত পড়ে, অথচ অর্শ্বরোগ নেই এ ক্ষেত্রে রক্ত পিত্ত যে আছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। এতে করল্লা বা উচ্ছের ফুল ৮-১০টা নিয়ে দিনে ৩ বার খেতে হয়।

অগ্নিমান্দ্য  করল্লার বীজ বাদ দিয়ে পুরো শাঁসের রস ছেঁকে একটু গরম করে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খেলে অগ্নিমান্দ্য রোগ সেরে যায়।

এলার্জির  ক্ষেত্রে করল্লা রস ২ চা চামচ করে দিনে ২ বেলা খেতে হয়।

দুষ্ট ক্ষত  যে ঘায়ে রস গড়ায় কিছুতেই শুকাতে চায় না এতে করল্লা গাছ পুরোটা শুকিয়ে গুঁড়ো করে ঘায়ের ওপর ছিটিয়ে দিলে এবং গাছ সিদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে থাকলে কয়েক দিনেই তা শুকিয়ে যাবে।
আধকপালে মাথাব্যথায় করল্লা পাতার রস রগড়ে নিয়ে একটু ন্যাকড়ায় পুরে যে দিকে যন্ত্রণা হচ্ছে সে নাকে রসটা ফোঁটায় ফেলে টানলে কয়েক মিনিটেই ব্যথা সেরে যায়।

ভিটামিনের অভাব  পাকা করল্লা বা উচ্ছের বীজ শুকিয়ে রেখে প্রতিদিন প্রায় ১ চা চামচ (৩/৪ গ্রাম) মাখনের মতো বেটে তাতে ৭/৮ চা চামচ পানি মিশিয়ে চা ছাঁকনিতে ছেঁকে সে পানি প্রতিদিন একবার করে খেতে হয়। তাতে এ অভাব পূরণ হবে।

শিশুদের বমি  তিনটি করল্লা বিচি ও তিনটি গোলমরিচের গুঁড়ো সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে শিশুর বমি বন্ধ হয়।

অর্শ্ব  করল্লা পাতা বা ফলের রস এক চা চামচ অল্প চিনিসহ খেলে অর্শ্ব ও তা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

চর্মরোগ  করল্লা পাতার রস মালিশ করলে চর্মরোগ সারে। তা ছাড়া এ রস শুকনো ত্বকের জন্য উপকারি। আগুনে পোড়া   ঘায়ে করল্লা পাতার রস লাগালে তা সারে।

রক্তদুষ্টি  করল্লা  রস খেলে রক্তের দূষিত বর্জ্য বের হয়ে যায়।

করল্লা কৃমিনাশক করল্লা বা উচ্ছে অত্যন্ত পুষ্টিকর ও রোগ প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। এতে অধিকাংশ শাকসবজির চেয়ে ভিটামিন ‘সি’ বেশি আছে।ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আছে।ভিটামিন ‘এ’ এর পরিমাণ ডাঁটা,মুলা,লাউ,শশা,কাঁকরোল,বেগুন,পটোল,বরবটি,চিচিঙ্গা ও ঝিঙার চেয়ে অনেক বেশি আছে।উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফসফরাস আছে।করল্লা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য উত্তম।আয়ুর্বেদীয় মতে করোল্লা জ্বর সারায়,পিত্ত,কৃমি ও কফনাশক।বাত,গেঁটেবাত,জন্ডিস ও লিভারের রোগের জন্য উপকারী।এটা রুচি বৃদ্ধি করে।করল্লা পেটের পীড়া ও অন্যান্য অসুখ বিসুখের জন্য উপকারী। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী করল্লায় পুষ্টি থাকে- আমিষ ২.৫ গ্রাম, শর্করা ৪.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ১.৮ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন(ভিটামিন এ)১৮৫০ মাইক্রোপ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৬৮ মিলিগ্রাম,মোট খনিজ পদার্থ ০.৯ মিলিগ্রাম ও খাদ্য শক্তি ২৮ কিলোক্যালোরি।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।