অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ হেপাটাইটিস এ (ইংরেজি: ) এক প্রকারের সংক্রমণ যা প্রধানত যকৃৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।হেপাটাইটিস এ  মল-মুখ মাধ্যমে (feco-oral route) ছড়ায়। সাধারণত সংক্রামিত খাদ্য বা জল-এর মাধ্যমে এই রোগ এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি-তে ছড়িয়ে পড়ে।

হেপাটাইটিস এ কি ?  হেপাটাইটিস ভাইরাস গুলোর মধ্যে হেপাটাইটিস এ ভাইরাস অন্যতম যা প্রদাহ সৃষ্টি করায় যকৃতের কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সংস্পর্শে আসলে এই রোগ হয়।

কি করে বুঝবেন  হেপাটাইটিস এ হয়েছে?  হেপাটাইটিস এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার এক মাস পর পর্যন্ত এর কোন লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয় না।

এক্ষেত্রে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়:

  • অবসাদ অনুভব করা

  • বমি বমি ভাব হওয়া এবং বমি করা

  • পেট ব্যথা

  • ক্ষুদা মন্দা

  • হাল্কা জ্বর

  • গাঢ় রংয়ের প্রস্রাব

  • মাংসপেশীতে ব্যথা

  • চুলকানি

  • চোখ এবং শরীরের চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়া

কখন ডাক্তার দেখাবেন?     হেপাটাইটিস এ’র লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

 কোথায় চিকিৎসা করাবেন 

  • জেলা সদর হাসপাতাল

  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

  • বিশেষায়িত সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল

 কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে 

  • রক্ত পরীক্ষা

  • শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা

কি ধরণের চিকিৎসা আছে ? হেপাটাইটিস ‘এ’র জন্য নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। এরপরও নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত :

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেয়া

  • বমি বমি ভাবের ফলে কোন কিছু খেতে ইচ্ছে না হলে সারাদিন অল্প অল্প করে হালকা ও সহজে হজম হঢ এমন খাবার খাওয়া

  • প্রচুর পানি/তরল পান করা

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থা গ্রহণ

  • নেশা ও মদ জাতীয় দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকা

 জীবন যাপন পদ্ধতি  

  • স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

  • খাবার ভালো করে সিদ্ধ করা

  • খালি,বাসী,পঁচা খাবার এবং হোটেলের খাবার না খাওয়া

  • রান্না করার আগে হাত ধোয়া

  • খাওয়ার আগে হাত ধোয়া

  • দূষিত পানি না খাওয়া

  • পায়খানা ব্যবহারের পর হাত ভালোমত পরিষ্কার করা

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যের জন্য খাবার প্রস্তুত করা থেকে বিরত থাকা

 বিশ্রাম,পথ্য এবং বাড়তি সতর্কতা 

  • রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে

  •  রোগীকে অন্যান্য কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে

  • সুষম খাদ্য যেমন- শাক সবজি ও ফলমূল খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

 হেপাটাইটিস এ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

  •  হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রতিরোধ করার জন্য হেপাটাইটিস ‘এ’ টিকা (ভ্যাকসিন) দিতে হবে

  •  হেপাটাইটিস ‘এ’ যেসব এলাকায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে সে সমস্ত এলাকায় বেড়ানোর ক্ষেত্রে ফল, সবজি এবং অন্যান্য খাবার পরিষ্কার রাখতে হবে

  • বারে বারে হাত ভালোমত পরিষ্কার করতে হবে

 প্রশ্ন .১ . হেপাটাইটিস ‘এ’ কেন হয় ? 

উত্তর. বিশেষ এক ধরণের জীবাণু (হেপাটাইটিস ‘এ’) দ্বারা যকৃতে সংক্রমণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘এ’ হয়ে থাকে।

 প্রশ্ন .২ . কাদের হেপাটাইটিস ‘এ’ হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে ? 

উত্তর . যাদের হেপাটাইটিস ‘এ’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তারা হলেন-

  • দূষিত পানি পান করলে এবং দূষিত খাবার খেলে

  • আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবেশন করা (যদি সে হাত ভালোমত না পরিষ্কার করে) খাবার খেলে

  • হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রবণ এলাকায় ভ্রমণ করলে

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকলে

  •  হেপাটাইটিস ‘এ’ আক্রান্ত ব্যক্তির  রক্ত গ্রহণ করলে

  • মাদক সেবন করলে

 প্রশ্ন .৩ . হেপাটাইটিস ‘এ’ হলে কি ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে? 

  • কোন কোন রুগীর ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ‘এ’র লক্ষণ ও উপসর্গ  স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী স্থায়ী হয়

  • আবার কারো কারো ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ ভালো হয়ে যাওয়ার তা পর পুনরায় ফিরে আসে

  • কখনো কখনো যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় ও যকৃত অকার্যকর হয়ে পড়ে

সুত্রঃ www.mayoclinic.com

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।