অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ সোরিয়াসিস ত্বকের একটি প্রদাহজনিত রোগ। এটি একটি জটিল রোগ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো বয়সীরা এ রোগে আক্তান্ত হতে পারে। তবে ত্রিশোর্ধ্বরা বেশি আক্রান্ত হয়। এটি সংক্রামক রোগ নয়, কাজেই সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না।মানুষের ত্বকের কোষস্তর প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিসে এই কোষ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। যেমন ত্বকের সবচেয়ে গভীরের স্তর থেকে নতুন কেরাটিনোসাইট কোষ ওপরের স্তরে আসতে স্বাভাবিকভাবে সময় নেয় ২৮ দিন, আর এ ক্ষেত্রে তা পাঁচ থেকে সাত দিন। কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার জায়গাজুড়ে এই সমস্যা দেখা দেয়।পৃথিবীতে ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। সোরিয়াসিস ত্বকের একটি চর্মরোগ জনিত সমস্যা। এটি ছোঁয়াচে কোন রোগ নয়। প্রতি ১০০ জনে দুই জন লোকের সোরিয়াসিস হয়। যে কোন বয়সের নারী পুরুষেরই এই রোগ হতে পারে।

সোরিয়াসিস কি?  সোরিয়াসিস রোগে ত্বকে প্রদাহযুক্ত  দাগ হয়। এটি একজন থেকে অন্যজনে এমনকি শরীরের এক অংশ থেকে অংশ থেকে অন্য অংশেও ছড়ায় না।

সোরিয়াসিস হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়  :

  • ত্বক পুরু হয়ে যায় এবং লালচে দাগ পড়ে

  • ত্বক চুলকায় অথবা ব্যথা হয়

  • কোন কোন ক্ষেত্রে মাথার ত্বক আক্রান্ত হতে পারে এবং হাতের নখের রঙ নষ্ট হয়ে যায় এবং গর্ত (Pitted) হয়ে যায়।

 কখন ডাক্তার দেখাবেন ? সোরিয়াসিসের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

 কোথায় চিকিৎসা করাবেন 

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্স

  • জেলা সদর হাসপাতাল

  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • বেসরকারী হাসপাতাল

 কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে 

  • রোগের ইতিহাস

  • শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা

  • ত্বকের পরীক্ষা

  • রক্তের পরীক্ষা

 কি ধরণের চিকিৎসা আছে 

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের ধরণ, মাত্রা এবং রুগীর বয়স অনুসারে ঔষধ সেবন, ক্রিম বা মলম লাগাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সোরিয়াসিসের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে-

  • ঔষধ সেবন

  • ইনজেকশন দিয়ে শিরা পথে  ঔষধ গ্রহণ

  • লাইট থেরাপী

 বাড়তি সতর্কতা

সোরিয়াসিসের চিকিৎসা গ্রহণ কালে কোন অবস্থাতেই গর্ভবতী হওয়া যাবে না। এমনকি কোন পুরুষ যদি সোরিয়াসিসের ঔষধ সেবন করেন তাহলে তার  সঙ্গিনীকেও গর্ভবতী হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্ন. ১.  কি কি কারণে সোরিয়াসিস হয় ? 

উত্তর. সোরিয়াসিস হওয়ার জন্য নিচের কারণগুলো দায়ী :

যাদের পারিবারিক বা ব্যক্তিগতভাবে এ রোগের ইতিহাস আছে তাদের নিম্নোক্ত কারণে সোরিয়াসিস হয়ে থাকে-

  • গলায় সংক্রমণ, ত্বক পুড়ে গেলে বা কেঁটে গেলে

  • মানসিক আঘাত

  • ধূমপান এবং মদপান

 প্রশ্ন.২. সোরিয়াসিসের কারণে কি ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে? 

উত্তর. সোরিয়াসিসে আক্রান্ত প্রতি দশজনে একজনের বাত (আর্থ্রাইটিস) হতে পারে। একে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস বলা হয়। এর ফলে হাত ও পায়ের আঙ্গুল, পিঠ, কোমর এবং হাঁটু ব্যথায় আক্রান্ত হয়।

 প্রশ্ন.৩. লাইট থেরাপীর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের কি ধরণের চিকিৎসা রয়েছে?

উত্তর. ঔষধ খেয়ে এবং ক্রিম, মলম লাগিয়ে কোন উপকার পাওয়া না গেলে নিচের থেরাপীগুলো করতে হতে পারে :

  • আল্ট্রাভায়োলেট বি লাইট থেরাপী (UVB)

  • সোরালেন (Psoralen) এবং আল্ট্রাভায়োলেট এ লাইট ট্রিটমেন্ট (PUVA)

  • UVB থেরাপীর সাথে স্টেরয়েড ক্রিম এবং আলকাতরা মিশিয়ে থেরাপী

 

 সূত্র www.mayoclinic.com

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।