অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ  ফাইলেরিয়া বা গোদ হচ্ছে এমন এক সংক্রামক রোগ যা একপ্রকার পরজীবি জীবাণু (প্যারাসাইট) দিয়ে হয় এবং এতে শরীরের লসিকা (এক প্রকার বর্ণহীন রস) পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়। এ রোগ বিশেষ এক ধরনের (কিউলেক্স) মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে মশা প্রথমে রক্তের সংগে এই রোগের জীবাণু নিজের দেহে নিয়ে নেয় ও পরে কামড়ানোর মাধ্যমে সুস্থ লোকের দেহে ছড়ায়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সব চাইতে বেশি।

সমস্যা বা রোগের কারণ:  বাংলাদেশের উষ্ণ আবহাওয়া এই ফাইলেরিয়া রোগ বিস্তারের জন্য দায়ী কিউলেক্স মশার বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। ফাইলেরিয়া রোগ জীবাণু মানবদেহের লসিকা নালিতে আশ্রয় নেয় এবং পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্ত হয় এবং রোগের সৃষ্টি করে। প্রথমে আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে জীবাণু মশায় সংক্রমিত হয়। মশা রাতের বেলায় মানুষের দেহে কামড়ানোর মাধ্যমে জীবাণু সুস্থ্য লোকের রক্তের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে সাধারণতঃ উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি/ এবং ব্রুজিয়া ম্যালেই  জীবাণু দ্বারা ফাইলেরিয়া রোগের সৃষ্টি হয়।

ফাইলেরিয়া রোগের উপসর্গ ও লক্ষণ সমূহ:  এ রোগে আক্রান্ত হলে লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায়। পা ফুলে ভারী হয়ে যায়। যাকে গ্রাম বাংলায় ‘গোদ’ রোগ বলা হয়। এ রোগ হলে মানুষ শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে। এই রোগ শিশু অবস্থা হতে শুরু করে যে কোন বয়সে সংক্রমিত হতে পারে। তবে সাধারণতঃ দশ বছরের উপরের বয়সে এই রোগ দেখা দেয়।

 উপসর্গ/লক্ষণ 

  • শীতবোধ ও শরীরের সংকোচনসহ জ্বর

  • চামড়ায় বিশেষ করে বাহু এবং পায়ে ব্যথা হয়ে চামড়া ফুলে যায়

  • শরীরের নিম্নাংগ ফুলে যায়

  • লসিকা- গ্রন্থি ফুলে যায় এবং ব্যাথা হয়

  • পা, অন্ডকোষ এবং যৌনাংগ চিরকালের মত ফুলে যায় এবং প্রসারিত হয়।

মাইক্রো ফাইলেরিয়া রাতের ১০-২টা পর্যন্ত প্রচুর পরিমানে রক্তের মধ্যে বিস্তার করে এবং দিনের বেলায় ফুসফুসের রক্তনালীতে আশ্রয় নেয়। তাই রক্ত পরীক্ষাতে উক্ত নির্দিষ্ট সময়ে করতে হয়।

 চিকিৎসা বা আরোগ্য লাভের উপায়:  

  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করতে হবে।

  • ফুলে যাওয়া কমানোর জন্যে স্থিতিস্থাপক (ইলাষ্টিক) বেল্ট ব্যবহার করা যায়। এতে পায়ের চিরস্থায়ী ফুলে যাওয়াও রোধ করা যেতে পারে। রাতে অবশ্যই ব্যান্ডেজ খুলে রাখবে।

  • ঘা থাকলে সাবান দিয়ে ধুয়ে, মুছে বিশ্রাম ও ব্যায়াম করতে হবে।

  • রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করার পর তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা কমপ্লেক্সে প্রেরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • রোগীর রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে হবে।

  • রোগী ঠিকমত ঔষধ সেবন করছে কিনা এবং ক্রমান্বয়ে আরোগ্য লাভ করছে কিনা সে ব্যাপারে ফলো-আপ করতে হবে। প্রয়োজনে রোগীকে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রেফার করা।

 ফাইলেরিয়া হাসপাতালে সেবা সমূহ 

  • ফাইলেরিয়াসিসে আক্রান্ত বিকলাঙ্গ রোগীদের চিকিৎসা।

  • হাইড্রোসিল/একশিরা সহ বিবিধ অপারেশন।

  • প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা।

  • চিকিৎসা সরঞ্জাম-ফাইলেলিয়াসি কিট বক্স।

  • মোবাইল ক্লিনিক সার্ভিস।

  • গবেষণা কার্যক্রম।

  • সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ।

  • ফিজিওথেরাপী।

  • এক্স-রে/ইসিজি।

  • আলট্রাসনোগ্রাফী।

  • প্রশিক্ষণ সুবিধা ইত্যাদি।

প্রতিরোধের উপায় 

  • বাড়ী ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা

  • বাড়ীর আশে- পাশে ঝোপ ঝাড় কেটে ফেলা

  • খাল, ডোবা, নালা পরিষ্কার রাখা

  • ঘুমানোর সময় মশারী ব্যবহার করা

  • মশার ঔষধ ছিটানো ও ব্যবহার করা

  • পুকুর ও ড্রেন পরিষ্কার রাখা

  • বাড়ীর আশে পাশে কোন কিছুতেই ময়লা পানি জমতে না দেওয়া

  • মশার বংশ বৃদ্ধি যাতে না করতে পারে তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থাদি গ্রহণ

প্রশ্ন.১.ফাইলেরিয়া কেন হয়?

উত্তর. এ রোগের জীবাণু বিশেষ এক ধরনের (কিউলেক্স) মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে মশা প্রথমে রক্তের সংগে এই রোগের জীবাণু নিজের দেহে নিয়ে নেয় ও পরে কামড়ানোর মাধ্যমে সুস্থ লোকের দেহে ছড়ায়।

 প্রশ্ন.২.এই রোগের উপসর্গ ও  লক্ষণ গুলো কি কি?

উত্তর.

  • শীতবোধ ও শরীরের সংকোচনসহ জ্বর

  • চামড়ায় বিশেষ করে বাহু এবং পায়ে ব্যাথা হয়ে চামড়া ফুলে যায়

  • শরীরের নিম্নাংগ ফুলে যায়

  • লসিকা- গ্রন্থি ফুলে যায় এবং ব্যাথা হয়

  • পা, অন্ডকোষ এবং যৌনাংগ চিরকালের মত ফুলে যায় এবং প্রসারিত হয়।

 প্রশ্ন. ফাইলেরিয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

উত্তর.

  • বাড়ী ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা

  • বাড়ীর আশে- পাশে ঝোপ ঝাড় কেটে ফেলা

  • খাল ডোবা নালা পরিষ্কার রাখা

  • পুকুর ও ড্রেন পরিষ্কার রাখা

  • মশার ঔষধ ছিটানো ও ব্যবহার করা

  • ঘুমানোর সময় মশারী ব্যবহার করা

  • বাড়ীর আশে পাশে কোন কিছুতেই ময়লা পানি জমতে না দেওয়া

  • মশার বংশ বৃদ্ধি যাতে না করতে পারে তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থাদি গ্রহণ।

 ফাইলেরিয়া একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ভয় পাবেন না। সময়মত চিকিৎসা করালে এই রোগ ভাল হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র:  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।