অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে একলাম্পশিয়া বা গর্ভকালীন খিঁচুনী। নবজাতকের মৃত্যুরও অন্যতম কারণ একলাম্পশিয়া। সাধারণত ৬ মাস গর্ভধারণের পর অথবা প্রসবের সময় এ উপসর্গ দেখা দেয়। কখনো কখনো প্রসব পরবর্তী অবস্থায়ও এটি দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রসবের কাছাকাছি সময়ে এ রোগ দেখা দেয়। যেসব মায়ের আগে একবার একলাম্পশিয়া হয়েছে তাদের পরবর্তী প্রসবের সময় আবারো একলাম্পশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একলাম্পশিয়া হওয়ার আগের অবস্হাকে প্রিএকলাম্পশিয়া বলা হয়, এটি একলাম্পশিয়ার পূর্ব লক্ষণ।

একলাম্পশিয়া রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ : একলাম্পশিয়া হলে রোগীর বারবার খিঁচুনী হবে। খিঁচুনীর ফলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। অনেক সময় প্রবল খিঁচুনীতে এমনিতেই প্রসব শুরু হয়ে যেতে পারে। একলাম্পশিয়া হওয়ার আগে যে অবস্থাটা তাকে বলা হয় প্রি-একলাম্পশিয়া। এটি একলাম্পশিয়ার পূর্ব লক্ষণ।

প্রিএকলাম্পশিয়া/একলাম্পশিয়া বা গর্ভকালীর খিঁচুনীর তিনটি উপসর্গ রয়েছেঃ 

১। হাতে-পায়ে পানি আসা।

২। রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া।

৩। প্রস্রাবে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া।

 একলাম্পশিয়ার জটিলতা সমূহ 

  • একলাম্পশিয়া রোগীর সন্তানের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

  • পরপর খিঁচুনির ফলে গর্ভস্থ সন্তান পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে সন্তানের শরীরের ক্ষতি হয়।

  • এছাড়া খিঁচুনি বন্ধ করার জন্য যেসব ওষুধ মাকে দেয়া হয়, তার জন্যও সন্তান মারা যেতে পারে।

  • এ রোগ কিডনিতে জটিলতা সৃষ্টি করে এবং প্রস্রাব অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়।

  • প্রথম সন্তানের বেলায় এই অসুখ বেশি দেখা দেয়। মায়ের একলাম্পশিয়ার ইতিহাস থাকলে মেয়ের গর্ভকালীন সময়েও এ রোগ হতে পারে।

 চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের স্থান 

প্রি-একলাম্পশিয়ার চিকিৎসা সময়মতো হলে একলাম্পশিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। এজন্য প্রি-একলাম্পশিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। গর্ভকালীন সেবা বা এএনসি সঠিকভাবে গ্রহন করলে প্রি –একলাম্পিশয়া বা একলাম্পশিয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

 যেখানে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে 

  • ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

  • উপজেলা /থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  • জেলা হাসপাতাল

  • মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র 

  • বেসরকারী হাসপাতাল 

 প্রতিরোধের উপায় 

একলাম্পশিয়া বা গর্ভকালীন খিঁচুনী প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজনঃ

  • নিয়মিত এন্টিনেটালা চেকআপ-প্রসব-পূর্ব বা গর্ভকালীন পরিচর্যা

  •  নিয়মিত রক্তচাপ মাপা

  • প্রসাবে প্রোটিন যায় কিনা পরীক্ষা করা

  • রক্তশূন্যতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা

  • হাতে পায়ে পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করা।

যেহেতু একলাম্পশিয়া হওয়ার আগে প্রি-একলাম্পশিয়া হয়, তাই প্রি-একলাম্পশিয়া প্রতিরোধ করা গেলেই একলাম্পশিয়া হবে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন.১. একলাম্পশিয়া বা  গর্ভকালীন খিঁচুনীর  লক্ষণগুলো কি ? 

উত্তর. একলাম্পশিয়া হলে রোগীর বারবার খিঁচুনী হবে। খিঁচুনীতে অজ্ঞান হয়ে যাবে। অনেক সময় প্রবল খিঁচুনীতে এমনিতেই প্রসব শুরু হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন.২. একলাম্পশিয়া বা গর্ভকালীর খিঁচুনীর কি কি উপসর্গ দেখা দিতে পারে? 

উত্তর.  এই রোগের ৩টি উপসর্গ রয়েছেঃ

১। হাতে-পায়ে পানি আসা।

২। রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া।

৩। প্রসাবে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া।

 প্রশ্ন.৩. একলাম্পশিয়া প্রতিরোধের উপায় কি? 

উত্তর. একলাম্পশিয়া একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। নিম্নের ব্যবস্থা গুলো গ্রহনের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়ঃ

  • নিয়মিত এন্টিনেটালা চেকআপ-প্রসব-পূর্ব বা গর্ভকালীন পরিচর্যা

  •  নিয়মিত রক্তচাপ মাপা

  • প্রস্রাবে প্রোটিন যায় কিনা পরীক্ষা করা

  • রক্তশূন্যতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা

  • হাতে পায়ে পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করা।

সুত্রঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।