অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ চোখের ছানি  একটি অসুখ। পূর্ণ বয়ষ্কদের শত করা প্রায় ৮০ ভাগ অন্ধত্বের কারণ হচ্ছে এই ছানি। ইংরেজীতে ছানিকে ক্যাটার‌্যাক্ট বলা হয়। সাধারণ মানুষ ছানিকে চোখে পর্দা পড়া বলে জানে। চোখের মধ্যে কাঁচের মত একটি স্বচ্ছ বস্তু আছে যাকে লেন্স বলে। চোখের এই স্বচ্ছ লেন্স আস্তে আস্তে অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়াকেই ছানি বলে। ছানি হলে দৃষ্টি শক্তি আস্তে আস্তে  কমে যায়। ছানি যে কোন বয়সেই হতে পারে।

 ক)জন্মগত 

  • গর্ভকালীন সময়ে মায়ের হাম (জার্মান মিজেলস বা রুবেলা)

  • গর্ভকালীন সময়ে মায়ের অপুষ্টি ও ডায়বেটিস হলে

 খ)অর্জিত 

  • বয়সজনিত কারণে- শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ ছানিই বয়সজনিত  কারণে

  • আঘাতজনিত কারণে

  • র্দীর্ঘদিন ষ্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহারের কারণে

  • ডায়বেটিসে আক্রান্তদের ছানি বেশি এবং তাড়াতাড়ি হয়

 রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ 

  •  চোখের দৃষ্টি শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে

  •  চোখে আবছা/কুয়াশা/ ঝাপসা দেখবে

  •  ছানি পক্ক (মাচিউর) হলে দেখা যাবে না এবং একা একা চলা যাবে না

  • চোখের কালোমনি ধূসর/সাদা দেখা যাবে

 চিকিৎসা  

ছানির একমাত্র চিকিৎসা হল অপারেশন। সময়মত অপারেশ না করে দেরি করলে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হতে পারে। কোন ঔষধ ব্যবহার করে কারণ লাভ নেই। দেশের জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছানি অপারেশন করা হয়। এই অপারেশনের মাধ্যমে চোখের অস্বচ্ছ লেন্সটাকে ফেলে দিয়ে তার বদলে অন্য একটি কৃত্রিম লেন্স দেওয়া হয়। এই লেন্স দেওয়া হয় ৩ টি উপায়ে-

অপারেশন +চশমা

অপারেশন+কণ্টাক্ট লেন্স

অপারেশন+ ইন্ট্রাকুলার লেন্স

বর্তমানে ছানি অপারেশনের পর একটি কৃত্রিম লেন্স ভিতরে লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে রোগী পূর্বের মত দেখতে পায়। কোন কোন সময় প্রয়োজনে দৃষ্টিশক্তি পরিমাপ করে চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরামর্শের বার্তা  

  •  ছানি রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করতে হবে।

  •  দেরী করলে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  • অভিজ্ঞ ডাক্তার অপারেশন করেন এবং বেশী দেরি হয় না।

  •  কৃত্রিম লেন্স ব্যবহার করলে আগের মত দেখা যায় এবং স্বাভাবিক কাজ কর্ম ও লেখা পড়া করা যায়।

  •  অপারেশনের খরচ কম আপনার সাধ্যের মধ্যেই।

 সেবাদান কেন্দ্র 

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  • জেলা হাসপাতাল

  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • বিশেষায়িত সরকারী/বেসরকারী হাসপাতাল।

    প্রশ্ন.১.চোখের ছানি কাকে বলে? 

উত্তর. চোখের মধ্যে কাঁচের মত একটি স্বচ্ছ বস্তু আছে যাকে লেন্স বলে। চোখের এই স্বচ্ছ লেন্স আস্তে আস্তে অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়াকেই ছানি বলে।

 প্রশ্ন.২. চোখে ছানি কাদের হয়? 

উত্তর. চোখে ছানি যে কোন বয়সেই  পারে।

 প্রশ্ন.৩.চোখে ছানির লক্ষণ গুলো কি কি? 

উত্তর.

  • চোখের দৃষ্টি শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

  •  চোখে আবছা/কুয়াশা/ ঝাপসা দেখবে।

  •  ছানি পক্ক (মাচিউর) হলে দেখা যাবে না এবং একা একা চলা যাবে না।

  • চোখের কালোমনি ধূসর/সাদা দেখা যাবে।

 প্রশ্ন.৪.জন্মগত ছানির কারন গুলো কি কি? 

উত্তর.

  • গর্ভকালীন সময়ে মায়ের হাম (জার্মান মিজেলস বা রুবেলা) হলে

  • গর্ভকালীন সময়ে মায়ের অপুষ্টি ও ডায়বেটিস হলে

 প্রশ্ন.৫.চোখে ছানি পড়া দেখলে কি করতে হবে? 

উত্তর. চোখে ছানি পড়া রোগী দেখলে ছানি অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

 প্রশ্ন.৬.চোখের ছানি অপারেশন করলে রোগী পূর্বের মত দেখতে পায় কি? 

উত্তর. বর্তমানে ছানি অপারেশনের পর একটি কৃত্রিম লেন্স ভিতরে লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে রোগী পূর্বের মত দেখতে পায়। কোন কোন সময় প্রয়োজনে দৃষ্টিশক্তি পরিমাপ করে চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।

 তথ্যসূত্র : প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা প্রশিক্ষণ মডিউল, ন্যাশনাল আই কেয়ার।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।