অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ রাতকানা হচ্ছে ভিটামিন-এ এর অভাবের প্রথম লক্ষণ। রাতকানা শিশুরা সাধারণতঃ দিনের বেলায় ভালোভাবে দেখতে পারে কিন্তু রাতে অথবা অন্ধকার ঘরে অল্প আলোতে ঠিকমত দেখতে পায় না। সে কেবল অনুমানে চলাফেরা করে।

 রাতকানা রোগের কারণ 

  • ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত ও পরিমাণ মত না খাওয়া।

  • হাম, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ইত্যদি কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব।

 রাতকানা রোগের কারণ লক্ষণ

  • রাতে অস্পষ্ট বা একেবারে না দেখা

  • মারাত্মক ক্ষেত্রে চোখের সাদা অংশ বা চোখের মণি শুষ্ক হয়ে যাওয়া,ঘা হওয়া।

  • শরীরের চামড়া খসখসে ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।

 রাতকানা রোগের কারণ জটিলতা 

  • শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 ভিটামিন ‘এ’-র উৎস

  • প্রাণীজ উৎসঃ ডিম, দুধ, মাখন, কলিজা, মাছ, মাছের তেল, মাংস ইত্যাদি।

  • উদ্ভিজ উৎসঃ ক) মিষ্টি কুমড়া শাক, পুঁই শাক, পালং শাক, কলমী শাক, লাল শাক, কচু শাক, পাট শাক, মূলা শাক ,হেলেঞ্চা  শাক, সজিনা পাতা, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, মিষ্টি আলু, শালগম ইত্যাদি। খ) পাকা আম, পাকা পেঁপে, পাকা কাঁঠাল ইত্যাদি।

 ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব দূরীকরণে করণীয় 

  • শিশুকে জন্মের পরপরই মায়ের শাল দুধ খাওয়াতে হবে।

  • শিশুকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

  • শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়েরে দুধের পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ শাক সব্জি/ডিম/মাছ/মাংস তেল দিয়ে নরম করে রান্না করে খাওয়াতে হবে ও হলুদ ফলমূল খেতে দিতে হবে।

  • ৯ মাস বয়সে শিশুকে হামের টিকার সংগে ১টি নীল রংয়ের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসূল (১ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়াতে হবে।

  • ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে বছরে দু’বার ৬ মাস অন্তর অন্তর জাতীয় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইন/জাতীয় টিকা দিবসের সময় ১টি লাল রংয়ের ভিটামিন ‘এ’ক্যাপসূল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়াতে হবে।

  • রাতকানা,দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া, মারাত্মক অপুষ্টি ও হামের পর শিশুদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসূল দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

  • প্রসূতি মা-কে সন্তান জন্মের ৬ সপ্তাহের মধ্যে (সম্ভব হলে জন্মের পরপরই) ১টি লাল রংয়ের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসূল  (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়াতে হবে।

  • গর্ভবতী ও প্রসূতি মাকে তার পুষ্টি ও শিশুর সুস্বাস্থ্যর জন্য বেশী করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সবুজ শাক সব্জি, হলুদ ফলমূল, ডিম, মাছ, মাংস খেতে দিতে হবে।

  • বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ক্যাপসূল খাওয়ানোর জন্য যোগাযোগ 

শিশু (৯-৫৯ মাস) ও প্রসূতি মায়েদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসূল খাওয়ানোর জন্য যোগোযোগ করুন:

  • নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র

  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা ও জেলা হাসপাতাল

  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকা

  • সম্প্রসারিত টিকাদান কেন্দ্র, মহাখালী, ঢাকা

 প্রশ্ন.১.রাতকানা রোগের কারণ কি?

উত্তর.

  • ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত ও পরিমাণ মত না খাওয়া।

  • হাম, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ইত্যদি কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব।

 প্রশ্ন.২.রাতকানা রোগের লক্ষণ গুলো কি কি?

উত্তর.

  • রাতে অস্পষ্ট বা একেবারে না দেখা

  • মারাত্মক ক্ষেত্রে চোখের সাদা অংশ বা চোখের মণি শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঘা হওয়া।

  • শরীরের চামড়া খসখসে ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।

 প্রশ্ন.৩.ভিটামিন ‘এ’ এর উৎস কোনগুলো?

উত্তর.

  • প্রাণীজ উৎস: ডিম, দুধ, মাখন, কলিজা, মাছ, মাছের তেল, মাংস ইত্যাদি।

  • উদ্ভিজ উৎস: ক) মিষ্টি কুমড়া শাক, পুঁই শাক, পালং শাক, কলমী শাক, লাল শাক, কচু শাক, পাট শাক, মূলা শাক, হেলেঞ্চা  শাক, সজিনা পাতা, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, মিষ্টি আলু, শালগম ইত্যাদি। খ) পাকা আম, পাকা পেঁপে, পাকা কাঁঠাল ইত্যাদি।

সুত্রঃ  ফিল্ড সার্ভিস প্রদানকারীদের ইএসপি রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, প্রশিক্ষণার্থী গাইডবুক, পৃষ্ঠা: ২৮১, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।