অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ যারা অ্যাজমা বা হাঁপানিতে ভুগছেন তাদের অধিকাংশই দশ বছরের কম বয়সী শিশু। কিছুটা বংশগত হলেও ধুলা, ধোঁয়া, ধূমপান থেকে  হাাঁপানি হতে পারে। এছাড়া বাড়িতে পোষা কুকুর, বিড়াল বা পাখি থেকেও  হাাঁপানি হতে পারে।

অ্যাজমা বা হাঁপানি ব্যাপারটা কি? অ্যাজমা বা হাঁপানি আসলে শ্বাসনালির অসুখ। শ্বাসনালির অনেকগুলো শাখা-প্রশাখা আছে- যেমন ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, টারমিনাল ব্রঙ্কিওল ইত্যাদি। বাতাস থেকে এদের মধ্যে দিয়েই অক্সিজেন ফুসফুসে পৌঁছায় আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাইরে বেরিয়ে আনে।  যদি কোন কারনে শ্বাসনালিগুলো অতি মাত্রায় সংবেদনসশীল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনায় উদ্দীপিত হয়, তবে বাতাস চলাচলের পথে বাধার সৃষ্টি হয়। ধুলা, ধুঁয়া, ঠান্ডা বা যে কোনো কারনেই শ্বাসনালিগুলো উদ্দীপিত হয়ে পড়ে ও স্পাজম শুরু হয়।ফলে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করাতে বা বের হতে বাধা পায়। আর এই কারনেই রোগীর নিঃশ্বাসের কষ্ট ও কাশি হয়- বুকের ভেতর সাইসাই আওয়াজ করে। ঠিক চিকিৎসায় কখনওবা আপনা থেকেই রোগী ভালো হয়। কিছুদিন ভাল থাকার পর আবর হঠাৎ হাঁপানির আক্রমন হতে পারে। এটাই এই অসুখের বৈশিষ্ট্য। আসলে হাঁপানি মাঝে মাঝে হওয়ার অসুখ এবং দুটি অসুস্থতার মধ্যের সময়ে রোগী সম্পূর্ন সুস্থ থাকেন।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কাদের হয়? নবজাতক থেকে বয়োবৃদ্ধ সকলেরই হাঁপানি হতে পারে। যদিও যে কোন বয়সেই এ রোগ হতে পারে তবে বাচ্চাদের হাঁপানিতে বেশি ভুগতে দেখা যায়। মেয়েদের তুলনায় ছেলে শিশুদের এই রোগ বেশি হয়। দেখা গেছে ১০ বছর বয়সের মধ্যে হাপাঁনিতে আক্রান্ত ছেলে ও মোয়েদের অনুপাত ২:১। তবে তিরিশ বছরের পর স্ত্রী ও পুরুষের রোগের আনুপাতিক হার সমান সমান। একটা কথা মনে রাখবেন হাঁপানি কিন্তু কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। তবে এ অসুখ কিছুটা বংশ গত। যাঁদের বংশে অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমা বা অন্যান্য অ্যালার্জি আছে, তাদের হাঁপানির সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয় যাঁদেও রোগটা অ্যালার্জিজনিত নয়।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী করবেন: হাঁপানি এড়ানো কিংবা অসুস্থতার মাত্রা কমানোর জন্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অনেক সময় রোগীর জীবনযত্রার ধরান বদলানোর দরকার হয়। রোগীর এবং তার বাড়ির লোকের অ্যাজমা রোগটি সম্পর্কে সঠিক ধারনা থাকা উচিত। প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম কারা খুব জরুরী তবে একটা ব্যাপার ভুললে চলবে না। বেশি ব্যায়ামের জন্যে যেন হাপানির টান না ওঠে। হাঁটা, সতার কাটা, সাইকেল চালানো, বাগান করা এগুলো কিন্তু অ্যাজমা রোগীদের পক্ষে ভাল এক্সারসাইজ। এর সঙ্গে করা দরকার প্রাণয়ামজাতীয় গভীর শ্বস নেওয়ার আসন, তবে ভুলেও কিন্তু  জগিং করবেন না। এছাড়া মনটাকে রাখতে হবে টেনশস মুক্ত।

শুধু ব্যাম খাওয়াদাওয়াই নয়, বাড়ির পরিবেশের দিকেও নজর রাখতে হবে। বাড়িতে কুকুর বেড়াল বা কোন রকমের পাখি পোষা চলবেনা। ঘর রাখতে হবে খোলা মেলা। রোগীর বিছানা, জামা কাপর সপ্তাহে এক দিন রোদে দিন। রোগীর ঘরে যেন বেশি ধুলা বালি প্রবেশ করতে না পারে, এবং কেউ যেন ধুমপান না করে। কোন ঝাঁঝাল গন্ধ, পারফিউম যেন নাকে প্রবেশ না করে। অ্যাজমা রোগী কখোনই ধুমপান করবেননা, ন্যাসিও নেয়া চলবেনা। যারা বাইক অথবা নন এসি গাড়ি চালান তার অবশ্যই মাস্ক পরে নিবেন। যারা ড্রিঙ্কে অভ্যস্ত তাঁদের মাঝে মাঝে অল্প ড্রিঙ্ক করা যেতে পারে।  ব্যাথা নিরোধক ওষুধ কখনোই খাবেননা। বিশেষ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কোনও কোনও ব্যথা কমানো ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।