অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ ডায়াবেটিসের কারন হল ইনসুলিন স্বল্পতা। এই স্বল্পতা আংশিক হতে পারে, সম্পূর্নও হতে পারে। সব ডায়াবেটিস রোগীরই ইনসুলিন লাগে। কারও ২ বছর বয়সে, কারও ৭২ বছর বয়সে।

ইনসুলিনের বিবর্তনঃ ১৯২১ সালে বেনটিং ও বেস্টের ইনসুলিন আবিস্কারের পর থেকে এর রাসায়নিক পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্য হল মানুষের শরীরে যে ইনসুলিন সৃষ্টি হয় তা হুবহু না হলেও যতদূর সম্ভব একই রকমের ও একইভাবে কাজ করে এমন ইনসুলিন তৈরি করা। প্রথমে ছিল গরু  (বোভাইন) ও শূকরের (পিগ) ইনসুলিন। বিশুদ্ধ করে বানানো হল মনোকম্পনেট (পিউরিফাইড) ইনসুলিন। এরপর এল হিউম্যান ইনসুলিন। এখন এসেছে ইনসুলিন এনালগ।

ইনসুলিনের প্রকারঃ কতক্ষন শরীরে কার্যক্ষম থাকে তা বিবেচেনা করে ইনসুলিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

১.         র‌্যাপিড অ্যাকটিং: দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করে এবং ৪ ঘন্টা কার্যক্ষম থাকে। বাজারে আসা এ নতুন ইনসুলিন হচ্ছে অ্যানালগ লিসপ্রো, গ্লুলেসিন ইনজেকশন, যা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে।

২.         শর্ট অ্যাকটিং: খাওয়ার আগে (আধা ঘন্টার মধ্যে) দিতে হয়, ২ ঘন্টা সময় সর্বাধিক কাজ করে, ৬ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে।

৩.        লং/ইন্টাারমিডিয়েট অ্যাকটিং বা বেজাল ইনসুলিন: হিউম্যান ইনসুলিন দেয়ার ২ ঘন্টা পরে কাজ শুরু হয়, ৬ ঘন্টা সর্বাধিক কাজ পাওয়া যায়; ১২ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে। এনালগগুলো ২৪ ঘন্টা কাজ করে; গ্লারজিন, লেভেমির এ ধরনের ইনসুলিন।

কাদের ইনসুলিন দিতেই হবেঃ  গর্ভবতী মহিলা, অনেক বেশি সুগার, কিটোনুরিয়া, সার্জারি ও ডায়াবেটিসের ইমার্জেন্সি থাকলে ইনসুলিনের বিকল্প নেই তবে দিনে ২-৩ বার করে সুই নেয়া সুখকর নয়। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সুগার প্যানক্রিয়াসের জন্য টক্সিন বা বিষ। গ্লুকোটক্সিটি থেকে পানক্রিয়াসকে উদ্ধার করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে ইনসুলিন ছাড়া চিকিৎসা চলে না। তাই শুরুতে ইনসুলিনই সবচেয়ে উপয়োগী চিকিৎসা।

আবার যাদের সেকেন্ডারি ফেইলুরে হয়েছে সেক্ষেত্রে রোগী যতই অনুরোধ করুক তাদের ইনসুলিনের বিকল্প নেই।  রোগী ওষুধও নিল কিন্তু ডায়াবেটিস কন্ট্রোল হল না মাঝখান থেক কিডনি নষ্ট হল এ ধরনের চিকিৎসা দেয়ার কোন অর্থ হয় না। যে চিকিৎসাই দেয়া হোক না কেন রোগীর কমপ্লায়েন্স বা নেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াবেটিস প্রতিদিনের রোগ-চিকিৎসা, সার্থক করতে হলে রোগীর সহযোগিতা ছাড়া হবে না।

কখন ইনসুলিন দেবেনঃ  আগে থেকে চিকিৎসা পাচ্ছে এমন রোগীর হিমোগ-বিন এ১সি ৮.৫% হলে তার ইনসুলিন লাগবে। হিমোগ-বিন এ১সি ৯.৫% হলে ইনসুলিন ছাড়া চলবেইনা। নতুন ডায়াবেটিকসদের বেলায় অবশ্য এটা প্রযোজ্য নয়। সবকিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি শুনে ও অনেক রোগী ইনসুলিন নিতে চায় না। ইনসুলিন প্রেসক্রিপশনে লিখে মেটফরমিন, পায়োগিটাজনে, ভিলডাগিপটিনের কম্বিনেশন দিয়ে সময় বেঁধে দিলে রোগীর বাস্তবতা উপলব্ধি করা অস্বাভাবিক নয়।

দেয়ার পদ্ধতিঃ  কাচের সিরিঞ্জ এখন আর নেই। ডিজপোজেবল সিরিঞ্জই বেশির ভাগ ব্যবহার হয়। আজকাল নানা রঙে বিভিন্ন ধরনের পেন বা ডিভাইস পাওয়া যায়। খরচ বেশি হলেও এগুলোর সূচ ছোট বিধায় অনেকেই পছন্দ করেন। ৪০ ইউনিটের সিরিঞ্জ মানে এক রি(সিসি) তে ৪০ ইউনিট , ১০০ ইউনিটের সিরিঞ্জ মানে এক রি(সিসি)তে ১০০ ইউনিট ইনসুলিন থাকে। ১০০ ইউনিটের সিরিঞ্জ দিয়ে তাই ১০০ ইউনিটের ইনসুলিন দিতে হয়।ঐকিক কষে ৪০ সিরিঞ্জ দিয়ে ১০০ ইউনিটের ইনসুলিন নিলে হবে না। ইনসুলিনের জায়গা পরিষ্কার করে ইনজেকশন দিলেই হবে; সূচ দিয়ে ৪ দিন ইনজেকশন দয়া যায়, দিতে দিতে যখন ব্যাথা বোঝা যাবে তখন সূচ বদলাতে হবে।

ইনসুলিন কিভাবে কতটুকু কখন দেবেনঃ  ভেইন/ মাংসে দিলে এ্যাকশন থেকে কয়েক মিনিট; চামড়ার নিচে দিলে থাকে ঘন্টা বা দিন। ইনসুলিন খাওয়ার ০-২২ মিনিট আগে দিতে হবে; বাস্তবে খাওয়া রেডি রেখে ইনসুলিন নেয়া উচিত; ইনসুলিন নেয়ার পর খাওয়া বানানো / ওজু বা গোসল করতে যাওয়া বোকামি। তবে ইনসুলিন অ্যানালগের বেলায় এটা ঠিক নয়। নতুনত্ব বাজারে আসা অ্যনালগ ইনসুলিন ইনজেকশন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে। খাওয়ার আগে-পরে যখন-তখন দেয়া যয়।

ইনসুলিন কোথায় দেবেনঃ মোটা চামড়ায় ইনজেকশন দিতে হবে; দুই আঙ্গুলের মধ্যে পুরা চামড়া ধরে সূচ খাড়াভাবে ধরে পুরাটা চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে দিতে হবে। অনেকেই মাংসে ঢুকে যাবে এ ভেবে সূচ কাত করে দেন, যেটা যৌক্তিক নয়। কাত করে দিলে চামড়ার নিচে নয়, চামড়ার মধ্যে যায়, কার্যকারিতা কমে। একই যায়গায় বারবার ইনজেকশন দিলে চামড়া মোটা, কালো হয়ে যায়, ইনসুলিন ঢুকে না, কাজ হয় না। পাছা, উরু, উর্ধ্ব বাহু ও পেটের চামড়া ইনসুলিন নেয়ার জন্য ভালো।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।