কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ: বিভিন্ন করণে গুড় পরিশোধন করা কঠিন। কারণগুলো হলো- রোগ ও পোকা আক্রন্ত আখ, অপরিপক্ক বা অধিক  পরিপক্ক আখ, রসে অধিকমাত্রায় গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ, আখের জাত, রস জ্বাল দেয়ার ভুল পদ্ধতি ইত্যাদি। আর এসব কারণে উন্নতমানের দানাদার গুড় উৎপাদন সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় গুড় প্রস্তুতকারকরা গুড়ের রঙ দ্রুত পরিবর্তনের জন্য অতিমাত্রায় রাসায়নিক পরিশোধক দ্রব্য হাইড্রোজ ব্যবহার করে। হাইড্রোজ মানবদেহের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর।

তাই রস পরিশোধনের জন্য ঢেড়ঁস গাছের কান্ড বা শিমুল গাছের শিকড় বা বন ঢেঁড়সের কান্ড বা ঘৃতকুমারীর রস ব্যবহার করা হয়। ৫০০ গ্রাম বন ঢেড়ঁস গাছের কান্ডের সবুজ অংশ ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ও থেতঁলিয়ে ২ থেকে ২.৫ লিটার পানির মধ্যে দুহাতে ১০-১৫ মিনিট ঘষলে ২-৩ লিটার নির্যাস তৈরি হয়। ১৮৫-২২৫ কেজি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কড়াই বা প্যানের আখের রস পরিশোধন করার জন্য ২-৩ লিটার বন ঢেঁড়সের নির্যাস লাগে। অর্থাৎ প্রতি কেজি রসে ১৫-২৫ গ্রাম নির্যাস দিতে হয়। অথবা ঘৃতকুমারীর উপরের সবুজ খোসা ছুরি দিয়ে তুলে ভিতরের পিচ্ছিল নির্যাস বের করতে হয়। প্রতি কেজি আখের রসে ১০-১৫ গ্রাম এই নির্যাস দিতে হয়। প্যান বা কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দিলে প্রচুর গাদ উঠে। এই গাদ ছাকনা দিয়ে তুলতে হবে। এর পর বন ঢেঁড়সের রস অথবা ঘৃতকুমারীর রস কড়াইয়ে ফুটন্ত আখের রসে মিশিয়ে আশানুরূপ রস পরিশোধন করা যায়। এই ভেষজ নির্যাস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর তো নয়ই বরং উপকারী। কারণ এই নির্যাসে প্রোটিনজাতীয় পদার্থ থাকে। গাছ থেকে বাকল আলাদা করে বলের মত গোল করে পেঁচিয়েও সরাসরি ফুটন্ত আখের রসে ব্যবহার করা যায়। রস ঘনীভূত হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বাকল কড়াইয়ের উত্তপ্ত রসের মধ্যে কিছু সময় পরপর  নাড়া দিতে হবে। এতে আখের রসে বিদ্যমান ময়লা নির্যাসের সাথে জমাট হয়ে দ্বিতীয়বার গাদে পরিণত হয়ে ভেসে উঠবে যা ছাকনা দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। রস ঘনীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় রস হাতল দিয়ে ঘন ঘন নাড়তে হবে এবং চুলার আগুন কমাতে হবে। কাঁচের গ্লাসের পরিস্কার ঠান্ডা পানিতে গরম একটু রস ঢেলে দিলে যদি জমাট বাঁধে তাহলে বুঝতে হবে রস জ্বাল সম্পন্ন হয়েছে। চুলা থেকে রসের কড়াই নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে ছাঁচের বা পাত্রে ঢেলে দিলে রস জমাট বেঁধে দানাদার গুড় তৈরি হবে। এই গুড়ের রস উজ্জ্বল সোনালি হলুদ হয়। হাইড্রোজ দেয়া গুড়ে হাইড্রোজের গন্ধ থাকে এবং রঙ হালকা সাদাটে বা অনুজ্জল সোনালি হয়।স্বাস্থ্যসম্মত গুড় উৎপাদনের জন্য গুড় প্রস্তুতকারীদের কাছে ভেষজ নির্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। হাইড্রোজ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইন প্রয়োগ করতে হবে। খাদ্য ভেজাল বিরোধী অভিযানের মধ্যে গুড়ও অন্তর্ভুক্ত করা। বাজারের হাইড্রোজ মিশ্রিত গুড় বিক্রেতাদের জরিমানা করতে হবে। ভোক্তাদেরও হাইড্রোজ মিশ্রিত গুড় পরিহার করা উচিত।

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ

কৃষি প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

সহকারী অধ্যাপক, কৃষি শিক্ষা

শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।