ডাঃ মোঃ অলিউল ইসলাম মারুফ:  মরণোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান আমাদের দেশে একটি নূতন ধারণা। মৃত মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লাভ করে গ্রহীতা আবার সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেন এবং নব জীবন লাভ করেন। মৃত ব্যক্তির অঙ্গ গ্রহীতার শরীরে আবার কাজ করতে থাকে। এইভাবে মৃত ব্যক্তি তার মরণোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের মাধ্যমে গ্রহীতার শরীরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেঁচে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান যা মৃত্যুর সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণ হয়েছে।

ব্রেইন ডেথ কি?  মরণোত্তর অঙ্গ দান আলোচনা বুঝার আগে চিকিৎসাশাস্ত্রে মৃত্যু কি তা জানা প্রয়োজন। প্রথাগতভাবে হৃদযন্ত্রের সংকোচন প্রসারণ এবং শরীরের অন্যান্য অতীব প্রয়োজনীয় অঙ্গসমূহের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যু বলা হয়। আমরা জানি ওপেন হার্ট সার্জারীর সময় কিছুক্ষণের জন্য হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে রাখা হয়। এই অবস্থায় হার্ট লাং মেশিনের মাধ্যমে শরীরের রক্ত প্রবাহ অক্ষুণœ রাখা হয়। আগের সংজ্ঞা অনুযায়ী এই সময় রোগীর মৃত্যুবরণ করার কথা কিন্তু শল্য চিকিৎসার পর রোগী আগের থেকে আরো ভাল জীবন-যাপন করতে পারে। যতক্ষন বিকল্প পন্থায় প্রয়োজনীয় রক্তসঞ্চালন বজায় রাখা যায় ততক্ষণ মানুষের জীবন সম্পূর্ণভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়ার উপর নির্ভর করে না। যদিও হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্রম যন্ত্রের মাধ্যমেও করা সম্ভব কিন্তু মানসিক কার্যক্রম বিকল্প পন্থায় করা সম্ভব নয়। তাই মৃত্যুর পরম মস্তিস্ক সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে তার কাজ বন্ধ করে দেয়।

মস্তিস্ক ও এর ভেতরের একটি অংশ মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছোট কিন্তু অতীব প্রয়োজনীয় অঙ্গটির নাম ব্রেইন স্টেম। ব্রেইন স্টেম আমাদের শ্বাসক্রিয়া, রক্তসঞ্চালন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটা মানসিক ও শারীরিক বিভিন্ন ক্রিয়া কলাপের জন্য অগ্রগণ্য হিসাবে পরিচিত। তাই যখন ব্রেইন স্টেমের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় তখন পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না এবং কৃত্রিমভাবে যন্ত্রের সহায়তা সত্ত্বেও সমস্ত শারীরিক কার্যক্রম অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যু তখন অনিবার্য এবং একে এড়ানোর আর কোন উপায় থাকে না। তাকেই ব্রেইন স্টেম ডেথ বা  ব্রেইন ড্ডে বলা হয়।

ব্রেইন ড্ডে রোগীর অঙ্গপ্রদানঃ  আধুনিক কৃত্রিম সহায়ক যন্ত্রের মাধ্যমে ব্রেইন স্টেমের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও শরীরের প্রয়োজনীয় অঙ্গ (হার্ট, লাঙস, কিডনি, লিভার ইত্যাদি) কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় ব্রেইন ডেথ নির্ণয় করার জন্য পূর্ব পরীক্ষিত কতগুলো শর্ত রয়েছে। এই সব ক্ষেত্রে ব্রেইন ড্ডে অবস্থায় হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কিছু ঔষধ ও যন্ত্রের সহায়তায় বাঁচিয়ে রাখা হয়। কৃত্রিম সহায়তা ব্যতিরেকে এইসব অঙ্গসমূহ অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের কর্মক্ষমতা ও কার্যকারিতা স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলে।

সম্প্রতি কালে ব্রেইন ডেথের পরেও কৃত্রিম উপায়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য এইসব অঙ্গসমূহের কার্যকারিতা সংরক্ষণ করা যায় বলেই মরণোত্তর অঙ্গপ্রদান বিষয়টি এখন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোন কোন দেশে মরনোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করা বাধ্যতামূলক। সেখানে মৃতদেহ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। মৃতের টিস্যু গ্রুপ, রক্তের গ্রুপ যদি কোন কিডনি বৈকল্য, লিভার বৈকল্য, হার্ট বৈকল্যের রোগীর সাথে মিলে যায় তবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। শুধুমাত্র রক্তের গ্রুপ মিলে গেলেও ক্রসম্যাচ টেস্ট নেগেটিব হলেই অঙ্গ সংযোজন করা যায়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কিডনি, লিভার, হৃদপিন্ড, ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা যায়। ইউরোপীয় দেশগুলোতে এই বিষয়টি বহুল প্রচলিত।

এই ব্রেইন ড্ডে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কারা অঙ্গদান করার উপযোগী তা বিবেচনা করার জন্য আরো কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ কিডনি দানের কথা ধরা যাকঃ যাদের বয়স ৬৫ বছরের নীচে, যাদের সংক্রামক ব্যাধি নেই , এইড্স ও ক্যান্সার মুক্ত  ,ডায়াবেটিস ক্যান্সার মুক্ত  যাদের উচ্চরক্তচাপ নেই তাদেরকে কিডনি দাতা হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, যে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হবে তা যেন সুস্থ্য এবং ইনফেকশন ও ক্যান্সার মুক্ত হয়।

এই সমস্ত পূর্বশর্তগুলো যখন বিবেচনা করা হয় তখন দেখা যায় মৃতদেহর মধ্যেও সম্ভাব্য অঙ্গদাতাদের সংখ্যা অনেক কমে যায়। সিঙ্গাপুরের মত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর দেশে যানবাহনের দুর্ঘটনা ও ব্রেইন ড্ডে-এর হার কম কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গদান আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। আমাদের দেশে যানবাহনের দুর্ঘটনায় বার্ষিক মৃত্যুহার দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশি। কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ব্যবস্থা বা আইন নেই।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধুমাত্র ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ৩/৪ জন রোগী মাথায় আঘাতজনিত কারনে সর্বোত্তম চিকিৎসার পরও মৃত্যুবরণ করেন। এই ৩/৪ জন রোগী যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তারা মৃত্যুর পূর্বে যদি মরণোত্তর দেহ দান করে থাকতেন তবে ব্রেইন ড্ডে অবস্থায় তাঁদের কিডনি, লিভার, হার্ট, প্যানক্রিয়াস বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলি দিয়ে বৎসরে ২০০০ কিডনি সংযোজন, ১০০০ হার্ট সংযোজন, ১০০০ লিভার সংযোজন করা সম্ভব হত। মৃতদের এই অঙ্গগুলোকে  আমাদের জাতীয় সম্পদ মনে করা যেতে পারে। এই সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পরেও প্রতিস্থাপন সক্ষম প্রচুর অঙ্গ উদ্বৃত্ত থেকে যাবে যা সারা পৃথিবীর মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে শিক্ষত ও সচেতন মানুষদের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশকে অনেকদূর এগিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও তারা তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে সচেতন করার ভূমিকাও পালন করতে পারেন।

যদি প্রতি ১০ লাখে বার্ষিক ৮০ জন কিডনি বৈকল্য (করফহবু ভধরষঁৎব) রোগের নতুন রোগীর আবির্ভাব হয় এবং ৫০% কিডনি প্রতিস্থাপন এর প্রয়োজন হয় তবে প্রতিবছর ৭০০ জন রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন পদ্ধতির দরকার হবে (৩৫০ জন অঙ্গদাতা)। অতএব অঙ্গদাতার অভাবে অঙ্গ সংযোজনের সমস্যা অন্তত আমাদের এই দেশে থাকা উচিৎ নয়। তবে এ কথাও সত্য যে, মরণোত্তর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের জন্য কোন পরিকল্পনা এর আগে নেয়া হয়নি। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি, নেফ্রোলজি, লিভার, কার্ডিয়াক এবং হেপাটোবিলিয়ারি বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইসব মাল্টি অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে।

কিডনি সংযোজনঃ  এই দেশে কিডনি বৈকল্য -এর রোগীদের জীবন খুব কষ্টের। ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে এইসব রোগীর জীবন বাঁচিয়ে রাখা যায়, তবুও কিডনি সংযোজনের দাবি দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই রোগের শেষ প্রান্তে কিডনি প্রতিস্তাপন ছাড়া আর কোন উপায় নাই। প্রতিদিন নূতন রোগীর সংখ্যা বাড়বে আর পুরনো রোগীদের বছরের পর বছর ডায়ালাইসিসের সেবা দিতে হবে। স্বতস্ফূর্ত অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এইসব রোগীদের ডায়ালাইসিস হতে অব্যাহতি দিতে না পারলে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তির প্রয়োজন বাড়তেই থাকবে, যা আমরা কখনই বহন করতে পারবো না। তদুপরি সার্থক প্রতিস্থানের পর একজন মানুষের ‘জীবন মান’ সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের থেকে অনেক ভাল। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর দীর্ঘমেয়াদী ঔষধ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ভার ডায়ালাইসিসের ব্যয়ভারের এক তৃতীয়াংশ। এই জন্য সরকার ডায়ালাইসিসের সুবিধা বড় আকারে বর্ধিতকরণে আগ্রহী নন। আমাদের দেশের বর্তমনা অবস্থা বেশি সুখকর নয়। যদিও সরকারী হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিসের সুবিধা শুধুমাত্র মুষ্টিমেয়ে রোগীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সিংহভাগ রোগীদের ব্যয়বহুল বেসরকারী ডায়ালাইসিসের জন্য বাধ্য হতে হয়। অধিকাংশ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে রোগীদেরকে মাসিক ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি ব্যয় করতে হয় যা আমাদের দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে অসম্ভব। সম্প্রতি কিছু কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছেন। এটা আশার কথা।

এই জন্য আমরা বেশিরভাগ রোগীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং তাদেরকে সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আশাবাদী। যে সব রোগী কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযোগী নন শুধুমাত্র তাদেরকেই ডায়ালাইসিসের সুবিধা দেয়া যেতে পারে এবং এবাবে ডায়ালাইসিস রোগীদের সংখ্যা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে কমিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ডায়ালাইসিস সংক্রান্ত যাবতীয় যন্ত্রপাতির আমদানী খরচ অনেকটাই কমে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু এটা করতে হলে আমাদের বর্তমান জ্ঞানের আলোকে রোগীদের মরণোত্তর অঙ্গদান বিষয়ক পরিকল্পনা ও আইন প্রণয়ন করা বিশেষ প্রয়োজন।

অঙ্গ প্রদানের পদ্ধতিঃ  পূর্বে সন্দেহ করা হতো চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জীবন বাঁচানোর চেয়ে প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গ সংগ্রহখেই বেশি প্রাধাণ্য দিয়ে থাকেন। ব্রেইন ডেথ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী এটা কখনই সম্ভব নয়, কারণ আহত রোগীকে সবধরনের উন্নত যন্ত্রের সাহায্যে বাঁচিয়ে না রাখতে পারলে ব্রেইন ডেথ-এর পূর্বে তার অঙ্গসমূহ প্রতিস্থানযোগ্য থাকবে না। তাই এ ব্যাপাওে সন্দেহের কোনই অবকাশ নাই যে, অঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আইসিইউ-তে আহতরোগীর ব্রেইন ডেথ-এর পূর্ব পর্যন্ত জীবন বাঁচিয়ে রাখার জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ এবং সন্দেহ দূর করার জন্য সাধারণত আইসিইউ-তে রোগীদের ব্রেইন ডেথ নিশ্চিত করতে কখনই অঙ্গ প্রতিস্থাপন দলের (ট্রান্সপ্লান্ট টিম) কোন সদস্যই উপস্থিত থাকতে পারেন না। অন্য শাখার বিশেষজ্ঞগণ যেমন নিউরোলজিষ্ট, এনেস্থেসিওলজিষ্ট আলাদাভাবে কমপক্ষে দুবার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পর্যবেক্ষন করে এই গুরু সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। দুই জন বিশেষজ্ঞ আলাদাভাবে কিছু অনমনীয় পূর্বশর্ত পূরণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রেইন ডেথ নির্ণয় করে থাকেন। সুনিশ্চিত ব্রেইন ডেথ নির্ণয়, নথিসংগ্রহ ও প্যাথলজিস্টের সম্মতি সাপেক্ষে অঙ্গ প্রতিস্থাপনদল (ট্রান্সপ্লান্ট টিম) তাদের কাজ শুরু করতে পারেন।

এই সংবেদনশীল সময়ে নিকটস্থ ও শোকাহত স্বজনদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি অঙ্গদানের মত মহৎ কাজের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবার-পরিজনের মতামত ও সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে সতর্কতার সাথে এর উদ্দেশ্য আলোচনা করা হয়। যদি মৃত্যুর পূর্বেই ঐ ব্যক্তি অঙ্গপ্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকেন বা তার নিকট ডোনার কার্ড পাওয়া যায় তাহলে স্বজনদের মতামত গ্রহণের কোন প্রশ্ন থাকে না। অন্যথায় মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনদের মৃত ব্যক্তির অঙ্গপ্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলা হয়। পুরো ব্যাপারটি একজন প্রশিক্ষিত পেশাজীবী, যেমন একজন চিকিৎসক অথবা প্রশিক্ষিত প্রতিস্থাপক সমন্বয়কারী সতর্কতার ও সফলতার সাথে পরিচালনা করতে পারেন।  প্রদানকৃত কিডনিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। অন্যসকল সাধারণ অপারেশনের মতই অত্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই অপারেশন করা হয়ে থাকে এবং ক্ষতস্থান মানসম্মতভাবে অত্যন্ত যতœসহকারে বন্ধ করা হয়ে থাকে।

সফল প্রতিস্থাপনের কথা অঙ্গ প্রদানকারীর আত্মীয়দের জানানো হয়। কিন্তু অঙ্গ গ্রহীতার নাম, পরিচয় গোপন রাখা হয়। সম্ভাব্য বেচাকেনা অথবা আর্থিক সুবিধা বন্ধ করার জন্যই এটা করা হয়। আমরা, চিকিৎসকেরা অঙ্গপ্রদাণের মত মহৎ কাজকে শ্রদ্ধা করি এবং মৃতের এই মহৎ কাজকে অঙ্গ কেনা-বেচার সুযোগ দানের মাধ্যমে অসম্মান করতে চাই না।

উপসংহারঃ  মরণোত্তর অঙ্গ প্রদান একটি মহৎ কাজ। এক জনের এই মহৎ দান অন্য কয়েকজন মানুষকে নূতন জীবন দান করবে। অপরদিকে এটিতে কারোরই কোন কষ্ট বা ক্ষতি হয় না বরং যে ব্যক্তি নবজীবন লাভ করবে সে এবং তার পরিবার বাকি জীবনদাতা ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

ডাঃ মোঃ অলিউল ইসলাম মারুফ

সহযোগী অধ্যাপক

ইউরোলজি বিভাগ

ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি

শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭।

সহযোগীতায়ঃ  অধ্যাপক এম. এ. সালাম

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।