বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস ২০১৫

অনলাইন ইওর হেল্‌থ রিপোর্টঃ   বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম ২০১৫ দিবস উপলক্ষে ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করে। রাজধানীর পান্থপথের “ক্লাউড বিস্ট্রো রেঁস্তোরায়” ২০ মার্চ শুক্রবার উক্ত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ডিএনএ বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ আখতারুজ্জামান, ইন্টারভেনশনাল রেওিলজিস্ট ডা. সায়মা আখতার চৌধুরী, ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর সাধারন সম্পাদক জনাব শেখ রুহুল আমিন জয় ও ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুদিপ্ত অর্ক দাস ।

সভায় পুর্বে ডাউন শিশুর জন্ম হয়েছে এবং পরবর্তীতে মায়ের গর্ভেই শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়েছেন এমন মায়েদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। তারা সংসারে ডাউন শিশু থাকার অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন। ডা. রেজাউল করিম কাজল বলেন ডাউন সিনড্রোম সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় দিন দিন দেশে ডাউন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বেশীরভাগ ডাউন শিশুর জন্মগত হার্টের সমস্যা থাকে বলে অনেক শিশু জন্মের পর মারা যায় যা নবজাতকের মৃত্যু হার বাড়ায়। আর যারা বেঁচে থাকে তারা মানসিক প্রতিবন্ধী হিসাবে সংসার ও দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। প্রসব জনিত জটিলতায় মাতৃমৃত্যু রোধের বিষয়টি যেভাবে প্রাধান্য পেয়েছে, অনাগত শিশুর ডাউন সিনড্রোম এর মতো জেনেটিক বা জন্মগত ত্র“টির বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় কখনো আসেনি।

” আমেরিকার মতো উন্নত দেশে গর্ভবতী মায়ের সেবা দেয়ার সময় মাকে ডাউন সিনড্রোম সম্পর্কে ধারনা দেয়া চিকিৎসকের জন্য বাধ্যতামূলক হলেও আমাদের দেশে তা উপেক্ষিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে দেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় পনেরোটি ডাউন শিশুর জন্ম হয়!  নারী যত অধিক বয়সে মা হবেন, তার সন্তান ডাউন শিশু হবার সম্ভাবনাও তত বেশী হবে। যেমন ২৫ বছর বয়সের প্রতি ১২০০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের, ৩০ বছর বয়সের প্রতি ৯০০ জন মায়ের মধ্যে একজনের ডাউন শিশু হতে পারে। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকে। ৩৫ বছর বয়সের প্রতি ৩৫০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের এবং ৪০ বছর বয়সের প্রতি ১০০ জন মায়ের একজনের ডাউন শিশু হতে পারে। বর্তমানে দেশেই মায়ের গর্ভে ১১ হতে ১৪ সপ্তাহে অর্থাৎ বাচ্চার আকার যখন দেড়/দুই ইঞ্চি তখনই ডাউন শিশু কিনা তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে। সারা বিশ্বে ২১ মার্চ ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত হয়।

ড. শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন গর্ভবতী মায়ের রক্ত পরীক্ষা করে ডাউন সিনড্রোম সন্দেহ হলে গর্ভের শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করে তা শতভাগ নিশ্চিৎ হওয়া যায়। শতকরা প্রায় পাঁচ ভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মা ডাউন সিনড্রোমের বাহক হয়ে থাকেন যা আপাত দৃষ্টিতে বোঝা যায়না। যেসব মায়ের বার বার বাচ্চা নষ্ট হওয়ার ইতিহাস আছে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ তারা কোন জেনেটিক রোগের বাহক করত ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিষ্ট ডা. সায়মা আখতার চৌধুরী বলেন আল্ট্রাসনোগ্রাফী করে মায়ের পেটে ১১ হতে ১৪ সপ্তাহের শিশুর ঘাড়ের পিছনের তরলের মাত্রা , নাকের হাড়ের , উপস্থিতি, “ডাকটাস্ ভেনোসাস , নামক প্রাথমিক রক্তনালীর রক্তপ্রবাহ ইত্যাদি নির্নয়ের মাধ্যমেও ডাউন শিশু জন্ম নেয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। ডাউন শিশুর শারিরীক ত্র“টি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আল্ট্রাসনোর মাধ্যমে মায়ের গর্ভে নির্নয় করা যায়।

ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর সাধারন সম্পাদক শেখ রুহুল আমিন জয় বলেন-জন্মগত ত্র“টিমুক্ত শিশুর জন্ম আমাদের কাম্য। দেশে আমরাই প্রথম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে মায়ের গর্ভে ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহে গর্ভফুল হতে কোষকলা সংগ্রহ শুরু করেছি। যার মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম, থ্যালাসেমিয়াসহ যাবতিয় জেনেটিক রোগ নির্নয় সম্ভব করছে। ডাউন সিনড্রোম এর কারন, প্রতিরোধ ও মায়ের গর্ভে ডাউন সিনড্রোম নির্নয় ও ডাউন শিশুদের বিশেষ যতেœর ব্যপারে আমরা সচেতনতা তৈরী করার চেষ্টা করছি। সচেতনতার মাধ্যমে মেধাদীপ্ত শিশুর জন্ম নিশ্চিত করে সুখি পরিবার গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুদিপ্ত অর্ক দাস বলেন-গর্ভের শিশুর সব ধরনের ডিএনএ পরীক্ষার সকল সুযোগ সুবিধা এখন দেশেই রয়েছে। দেশে প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞগণ গর্ভের বাচ্চার চারপাশের ‘এ্যামনিওটিক ফ্লুইড’ অথবা ‘করিওনিক ভিলাস’ সংগ্রহ করে আমাদের ল্যাবরেটরীতে পাঠালে আমরা ডাউন সিনড্রোমসহ জেনেটিক রোগ নির্নয় করতে পারি। কাজেই বিদেশ না যেয়ে দেশেই ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড-এ গর্ভাবস্থায় বা শিশুর জন্মের পর ডাউন সিনড্রোম অথবা এ ধরণের জন্মগত সকল রোগের পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।