অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ সোনালু বাংলাদেশের বিভিন্ন  নামে পরিচিত। কোথাও এটি সোনালু, আবার কোথাও সোঁদাল বা সোনালি নামে পরিচিত। উদ্ভিদটির আদিনিবাস মূলত পূর্ব এশিয়া। মানবদেহের নানা রোগ নিরাময়ের মহৌষধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সোনালুর ফলের ভেতরে জমানো আঠা জাতীয় পদার্থ যে ভেষজ ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে, তেমনি এ গাছের পাতাও নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর। শরীরের কোথাও ক্ষত সৃষ্টি হলে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হৃদরোগ সংক্রান্ত রোগ নিরাময়ে সোনালু গাছের পাতা ও আঠা জাতীয় পদার্থ খুবই উপকারী। ডালে ডালে যখন সোনালুর ফুলগুলো গুচ্ছ আকারে ঝুলে থাকে, তখন তা নিতান্ত বেরসিক মনেও দোলা দেবে। ছন্দ হারানো কবি এর সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হয়ে খুঁজে পেতে পারেন কাব্য সাধনার অনুরাগ

বাংলা নাম সোনালু হলেও এর লম্বা লম্বা ফলের কারণে সাধারণের কাছে এটি বানরলাঠি নামে পরিচিত। এটি একদিকে যেমন বেশ শক্তিধর ভেষজ, অন্যদিকে সুন্দর সোনালি হলুদ রঙের ফুল প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে এক অপূর্ব বৈচিত্র্য। কবিরাজি চিকিত্সায় এর মূল পাতা-বীজ থেকে শুরু করে সবই গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ তৈরিতে এর মূলের ছাল, কচি পাতা, ফলের মজ্জা ও বীজের গুঁড়া ব্যবহার হয়। কবিরাজি ভাষায় সোনালু তিক্তরস ও উষ্ণতাবর্ধক ভেষজ। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রে এর অনেক গুণের কথা উল্লেখ আছে। ডালে ডালে যখন সোনালুর ফুলগুলো গুচ্ছ আকারে ঝুলে থাকে, তখন তা নিতান্ত বেরসিক মনেও দোলা দেবে।

অনেকটা কৃষ্ণচূড়ার মতো গুচ্ছ আকারে ফুটলেও সোনালুর ফুলের গঠন ও রঙে রয়েছে বৈচিত্র্য। কৃষ্ণচূড়ার আগুনঝরা লাল রঙ যেমন প্রকৃতিতে এনেছে ঐশ্বর্য, তেমনি সোনালু ফুলের এই সোনারঙ প্রকৃতিতে এনেছে স্নিগ্ধতার মায়াবী পরশ। ওই কৃষ্ণচূড়ার লালে বিমোহিত হয়ে আপনার ভাবনাগুলো যখন ভাষা খুঁজতে চাইবে আকাশপানে, থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সোনালুর কারণেই হয়তো আবার নিম্নমুখী হবে আপনার দৃষ্টিপট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ এক অনুপম বৈপরীত্য যার মায়াবী আবেশ মোহাচ্ছন্ন করে দিয়েছে চারপাশের বৈশাখী করিডোর।  প্রকৃতির বদলের সঙ্গে এ ফুলের রঙ ও গঠন বদলে যায়। প্রথমে হালকা হলুদ, তারপর সোনালি হলুদ থেকে গাঢ় হলুদ। এর পর পরিণত ফুলগুলো ঝরে গিয়ে সুতার মতো সোনালুর কচি ফল সেখানে স্থান করে নেয়। ক্যামেরা হাতে রিচার্ড প্রস্তুত ছিলেন অনেক দিন আগে থেকেই। অপেক্ষা বৃষ্টি নামবে কবে, আর এই হালকা রঙের ফুলগুলো হয়ে উঠবে সোনালি থেকে গাঢ় হলুদ। তারপর ক্যামেরা হাতে, ক্লিক ক্লিক !!

সোনালু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ, যা প্রাকৃতিক, বৈকৃতিক বা পরিবর্তনজনিত ও নৈমিত্তিক রোগ সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কবিরাজি শাস্ত্রমতে, সোনালুর ফলকে বলা হয় উত্কৃষ্ট জোলাপ, যা বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। আয়ুর্বেদীয় রীতি অনুযায়ী প্রাকৃতিক, বৈকৃতিক, নৈমিত্তিক রোগগুলো হয় ভিন্ন ভিন্ন কারণে। তাই এর চিকিত্সা পদ্ধতিও ভিন্ন। তবে এসব ক্ষেত্রে সোনালুর তৈরি জোলাপই একমাত্র ওষুধ, যা এসব রোগে টনিকের মতো কাজে করে। আয়ুর্বেদিক চিকিত্সকরা পদ্ধতি অনুসরণ করে সোনালু ফলের মধ্যকার মজ্জা ৩-৪ গ্রাম নিয়ে জোলাপ তৈরি করেন। এর জন্য তার সঙ্গে একটু গরম দুধ বা গরম পানি মেশাতে হয়। তার পর ওই জোলাপ ছেঁকে নিয়ে সকালের দিকে পান করতে হয়। জানা গেছে জ্বর, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা এমনকি পাইলসের মতো রোগেও জোলাপ অনেক কার্যকর।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।