অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ  সর্পগন্ধা  (বৈজ্ঞানিক নাম: Rauwolfia serpentina) একটি গুল্মজাতীয় গাছ । আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর ব্যবহার আছে। এই গুল্মটির পাতা ছোট ছোট লম্বা ও পাতার ডগা সরু । ফুল প্রথম অবস্হায় সবুজ রঙের হলেও পাকলে বেগুনী-কালো রঙের হয় । মূলের রং ধূসর ও গন্ধ কাঁচা তেঁতুলের মত সারা বছরই গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে ।

সর্পগন্ধার ভেষজ গুণের ইতিহাস শত শত বছরের প্রাচীন এবং এটির ঔষধিগুণ সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকে লোককাহিনী প্রচলিত আছে। সর্পগন্ধার বিবরণ প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে উল্লেখ আছে।কথিত আছে যে, সর্পদর্শন ও কীটপতঙ্গের হুল ফোটানো, জ্বালা পোড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সর্পগন্ধা ব্যবহৃত হতো। আরও কথিত আছে যে বেজি সাপের সাথে যুদ্ধ করার আগে সর্পগন্ধা গাছের মূল ও পাতা চিবিয়ে খেয়ে থাকে, যাতে বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা পায়। আরো উল্লেখ আছে যে, প্রাচীনকালে মানুষ সর্পসংকুল বনে জঙ্গলে চলার সময় পায়ের পাতা ও আঙ্গুলে এই উদ্ভিদের মূল ও পাতার নির্যাসের প্রলেপ দিয়ে নিত, যাতে ক্ষতিকারক প্রাণী ও কীটপতঙ্গ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক কারণও উদ্ঘাটিত হয়েছে। এখন এটি পরীক্ষিত সত্য যে, কোনো বিষাক্ত পদার্থ কিংবা যে কোনো ধরনের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষায় সর্পগন্ধা গাছের এ্যালকালয়েডসসমূহ এন্টিডোট হিসেবে কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্পগন্ধা।

সমগ্র উদ্ভিদই ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।  শুধু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, অনিদ্রা, হাইপোকন্ড্রিয়া, মানসিক বৈকল্য এবং উন্মাদ রোগের চিকিৎসায়ও এর ব্যাপক প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। সর্পগন্ধা আদিকাল থেকে উন্মত্ততার মহৌষধ হিসেবে এতটাই সমাদৃত যে ভারতে এই উদ্ভিদকে ‘পাগল কি দাওয়াই’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। হাইপারটেনশন, ইনসমনিয়া, জ্বর, বাতজ্বর এবং ব্যথা বেদনায় এর ঔষধ ফলপ্রদ। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ নিরাময়েও এর ঔষধ কার্যকর। বার্ধক্যজনিত রোগও এটি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এই গাছে স্টেরল, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড, অলিক এসিড, ফিউমারিক এসিড, গ্লুকোজ, রেজিন, খনিজ লবণ, স্টার্চ ইত্যাদি পাওয়া গেছে। যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখছে। চোখের ছানি অপসারণের ক্ষেত্রে সর্পগন্ধার পাতার নির্যাস সেবন কার্যকরী। দুধের সাথে শিকড় চূর্ণ মিশিয়ে দিনে তিনবার সেবন করলে হিস্টিরিয়া রোগীও সুস্থ হয়ে যাবে। ছাগলের দুধের সাথে (২৫০ মিলি) ১ গ্রাম শিকড় চূর্ণ মিশিয়ে খেলে পাগলামি নিরাময় হয়। এই উপকারী গাছ আমেরিকাতে বর্তমানে হাইপারটেনশনসহ অনেক রোগের কার্যকরী ঔষধ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।