অধ্যাপক ডাঃ একেএম ফজলুল হক:  যে সব ক্যান্সারের কারনে মানুষ মারা যায় তন্মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সার অন্যতম। তবে আশার কথা হল এই যে – এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে এবং অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সারের আক্রান্ত স্থান ফেলে দিলে রোগী সম্পূর্ণ রূপে ভাল থাকতে পারেন।প্রাথমিক অবস্থায় হজম ক্রিয়ার গোলযোগ বা সচরাচর খাদ্য গ্রহনের পাকাশয়ের প্রান্তভাগে অস্বস্তি অনুভুতি  ছাড়া তেমন কোন উপসর্গ দেখা যায় না। এর ফলে রোগী তেমন কোন গুরুত্ব দেন না, অনেকে মনে করেন গ্যাষ্ট্রিক হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেয়ে অনেকে সাময়িক আরাম অনুভব করেন। ফলে ক্যান্সার পাকস্থলী থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পরার সুযোগ পায়। রোগটি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায় –

১. অল্প খেলেই তৃপ্তি চলে আসে;
২. পেট ফেপে থাকে;
৩. পেট ফুলে যায়;
৪. বমি হয়;
৫. রক্ত শূণ্যতা দেখা যায়;
৬. খাদ্য গ্রহনে অন্ননালীতে ব্যাথা অনুভব হয়;
৭. শরীরের ওজন কমে যায়;
৮. বমির সাথে রক্ত যায় কিংবা কালো পায়খানা হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে অপারেশন করিয়েও রোগীর আয়ুষ্কাল খুব বেশী বাড়ানো যায় না।
এ রোগটি সাধাণত চলি¬শোর্ধ বয়সেই বেশী হয়ে থাকে। নারীদের চেয়ে পুরুষেরা এ রোগে বেশী আক্রান্ত হন।

যে সমস্ত কারণে পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয় তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে –

১. হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামক এক প্রকার জীবানুর আক্রমন;
২. প্রচুর পরিমানে মদ্যপান;
৩. যে সমস্ত খাবারে অত্যধিক লবণ রয়েছে যেমন ঃ কিছু কিছু সামুদ্রিক মাছ দীর্ঘ দিন যাবৎ সংরক্ষিত টিনজাত খাবার;
৪. যে সমস্ত খাবারে এন্টি অক্সিডেন্ট এর অভাব রয়েছে।

ধুমপায়ী লোক এবং যে পরিবেশে ডাস্ট বা ধুলাবালী বেশী সেখানে বসবাসকারীদের মধ্যে এ রোগ হতে পারে। কেউ কেউ মনে করে বংশগত কারণেও পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে। পূর্বে জাপানে পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণে বহুলোক মারা যেত। কিন্তু বর্তমানে চলি-শোর্ধ বয়সের যে লোক হজম ক্রিয়ার গোলযোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপি করে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে ক্যান্সার অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় এবং রোগী বাকী জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে রোগীরা যখন ডাক্তারের শরনাপন্ন হন – তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার পাকস্থলীর বাইরে ছড়িয়ে পরে। প্রাথমিক অবস্থায় পাকস্থলীর ক্যান্সার নির্ণয় করা গেলে অপারেশনের মাধ্যমে এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়া যায়।

অধ্যাপক ডাঃ একেএম ফজলুল হক
এমবিবিএস, এফসিপিএস, এফআইসিএস
বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারী বিশেষজ্ঞ
ফেলো, কলোরেকটাল সার্জারী (সিংগাপুর)
ইন্টারন্যশনাল স্কলার, কলোরেকটাল সার্জারী (যুক্তরাষ্ট্র)
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (অবঃ), কলোরেকটাল সার্জারী বিভাগ, বিএসএমএমইউ, ঢাকা।
চেম্বারঃ জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।