ডা. রেজাউল করিম কাজল: মহিলাদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতিকে টিউবেকটমি বা লাইগেশন বলা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে অপারেশনের মাধ্যমে মহিলাদের ডিম্ববাহী নালিটি কেটে বেঁধে দেয়া হয়। ফলে স্বামীর শুক্রানু স্ত্রীর ডিম্বানুর সাথে মিলিত হতে পারেনা এবং বাচ্চা তেরী হতে পারেনা। প্রচলিত পদ্ধতিতে নাভীর নিচে তলপেটে অপারেশনের জায়গাটুকু অবস করে দুই ইঞ্চির মতো কেটে এই পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের তিন চার ঘন্টা পর বাসায় ফিরে যাওয়া যায়। বর্তমানে সর্বাধুনিক ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে শুধূ নাভীতে একটি ছোট ছিদ্র করে ডিম্ববাহী নালিটি রাবারের একটি ব্যান্ড বা একটি ক্লিপ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে কোন কাটা-ছেঁড়া বা সেলাই এর প্রয়োজন হয়না বলে পেটে কোন দাগও থাকেনা। পদ্ধতি গ্রহন করার পর পরই বাসায় যাওয়া যায়। কোন বিশ্রামের প্রয়োজন হয়না। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এসব সুবিধার কারনে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে মহিলাদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি পৃথিবীব্যপী জনপ্রিয়। যে সব মহিলার কাংখিত সংখ্যক সন্তান আছে, ভবিষ্যতে আর মা হতে চান না তাদের জন্য এটি একটি পছন্দনীয় স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি। মনে রাখতে হবে বেশী বয়সের মায়েরা বিশেষ করে পঁয়ত্রিশোর্ধ বয়সের মায়েরা, যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস আছে অথবা বংশে এসব রোগের ইতিহাস আছে তাদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি ঝুঁকিপূর্ন। কাজেই এই ধরনের মায়েরা যদি আর বাচ্চা না নিতে চান তাহলে তাদের জন্য টিউবেকটমি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

ডা. রেজাউল করিম কাজল

টিম লিডার

পরিবার পরিকল্পনা সেবা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।