ডা. মোহাম্মদ আলীঃ শরীর ঠিক রাখতে শারিরিক সঞ্চালন খুবই জরুরী । প্রকৃতিক নাড়াচাড়া যেমন হাটা খুবই গুরুত্বপূর্ন  শরীরের জন্য। শারিরিক শ্রম দেহের ক্যালরি ও চর্বি খরচ করে শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। মনকে করে তোলে প্রফূল্ল। কিন্তু কম্পিউটার ল্যপটপ বা ইন্টারনেট আমাদেও শারিরিক যন্ত্রটাকে স্থবির করে তুলছে। দীর্ঘসময় বসে থেকে আমরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। চল্লিশের আগেই ভুগছি ঘাড় কোমর সহ শারিরিক ব্যথায়। ভুল দেহ ভঙ্গিমা শারিরিক শ্রম না করা বা স্বাস্থ্যসম্মত খ্যাদ্যাভাস গড়ে তুলতে না পারাই শারিরিক ব্যথার মূল কারন।

পরিত্রাণের উপায় কী ?  সঠিক দেহ ভঙ্গিমা আর শারিরিক শ্রম। কিন্তু চাইলেই কি তা সম্ভব। একজন ব্যাংকারকে প্রায় ১২-১৬ ঘন্টা বসে কাজ করতে হয়। একই ভাবে পোশাক শিল্পিদের টানা দাড়িয়ে বা বসে কাজ করতে হয়। মালিক শ্রমিক সুসম্পর্কটা জরুরী। শারিরিক প্রয়োজনে কাজের ধরন বদলিয়ে শ্রমিককে সুযোগ কওে দিতে হবে। সচেতন হতে হবে রোগীকেও। যেমন; একভাবে বেশীক্ষন দড়িয়ে থাকতে হলে পায়ের নীচে ছোট চৌকি রাখা যেতে পারে। চৌকির উপর এক পা তুলে পা কে বিশ্রাম দেয়া যেতে পারে। তাছাড়া যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন তারা আরাম কেদারা ব্যবহার না করে কঠের চেয়ার ব্যবহার করূন। পিঠ সোজা রেখে বসুন। সামনে ঝুকে কাজ পরিহার করুন। এতে ঘাড় কোমর  দুটোই বাচবে। যানজটে পড়লে দীর্ঘ  সময় পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয় । তাই যানবাহন থেকে বাসা বা অফিসের  সামান্য আগেই নেমে পড়–ন এবং বাকি রাস্তাটুকু হেটে যান, দেখবেন অনেক্ষন বসে থাকার ক্লান্তিটা দূর হয়ে গেছে নিমিষেই।

চিকিৎসা কখন প্রয়োজনঃ জীবনে কোন দিন কোমর বা ঘাড় ব্যথায় ভোগেন নি এমন মানুষ মেলা ভার। সামান্য টুকটাক ঘাড় কোমর ব্যথা হতেই পারে। এগুলো এমনিতেই চলে যায়। কিন্তু ব্যথা যদি সাভাবিক কর্মকান্ডকে ব্যহত কওে তবে তা আমলে নিতেই হবে। কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক সেবন ঠিক না। হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে বিশ্রামে চলে যান। বিষেশ প্রয়োজন হলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পত্র অনুযাই ব্যবস্থা নিন। আপনার পাকস্থলি, কিডনি রোগ উচ্চরক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে কি-না তা চিকিৎসকে জানাতে ভুলবেন না। পূর্ণ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন রোগ নির্ণয়। বসার ধরন কাজের ধরন শোয়ার অভ্যাস আঘাত হাড় ক্ষয় মেরুদন্ডের অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কারনে ঘাড় কোমর হাটু কাধ  ইত্যাদি ব্যথা হতে পারে। রোগ অনুযাই চিকিৎসা আর চিকিৎসার মেয়াদ।

ফিজিওথেরাপি কখন নেবেনঃ শারিরিক ব্যথার প্রাথমিক চিকিৎসা হলো ফিজিওথেরাপি। অনেকে ফিজিওথেরাপিকে জটিল করে  তোলেন। ভাবেন, ব্যথার ঔষধ অকার্যকর হলেই ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। কিন্তু ব্যপারটি উল্টো। সাধারন কারনে ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যথা নিরাময়ই মূল শর্ত। আর ব্যথা নিরাময়ের আধুসিক অস্ত্র হলো ফিজিওথেরাপি। এটি কোন উপদেশ বা পরামর্শ নয়, পরিপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। এমন অনেক শারিরিক ব্যথাই আছে যা এক সেশন ম্যানিপুলেশন দিয়েই সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাই শারিরিক ব্যথা ফিজিওথেরাপিই প্রাথমিক চিকিৎসা। তবে শারিরিক পরীক্ষায় জটিলতার আভাস পাওয়া গেলে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, এম আর আই, এক্সরে  ইত্যাদির প্রয়োজন হতে পারে। নিতে হতে পারে শল্যবিদেও পরামর্শ বা সহায়তা।

 ডা. মোহাম্মদ আলী

পরিচালক, হাসনা হেনা পেইন এন্ড ফিজিওথেরাপি রিসার্চ সেন্টার,  বাড়ি-২১, রোড-১০/এ, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।