অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ  আরবীতে  মধুপোকা বা মৌমাছিকে ‘নাহল’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা আছে। সুরা নাহল এর আয়াত ৬৯-এ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- “ইয়াখরুজু মিমবুতুনিহা শারাবুম মুখতা লিফুন আল্ওয়া নহু ফীহি শিফাউল লিন্নাসি।”

অর্থঃ  তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। মধু হচ্ছে ঔষধ এবং খাদ্য উভয়ই। মধুকে বলা হয়- বিররে এলাহি ও তিব্বে নব্বী। অর্থাৎ খোদায়ী চিকিৎসা ও নবী করীম (সাঃ)- এর বিধানের অর্ন্তভুক্ত। সুরা মুহাম্মদ- এর ১৫ আয়াতে আল্লাহ তায়ালার এরশাদ হচ্ছে- “জান্নাতে স্বচ্ছ মধুর নহর প্রবাহিত হবে।”

মধুর গুরুত্ব উপকারিত সম্পর্কে আমার সকলেই অবগত । প্রাচীনকোল হতেই মধু বিশ্বির সর্বত্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে । আমাদের দেশে ও এর প্রচুর কদর ও চাহিদা আছে। আজ পর্যন্ত এমন কোনো তরল মিষ্টির আবিষ্কার হয় নি যা মধুর চেয়ে বেশি শুদ্ধ ও মিষ্টি । মধুর মধ্যে স্বাস্থ্যবর্ধক ও রোগ নিবারক গুণ থাকার ফলে হাজার হাজার বছর ধরে ঘরোয়া চিকিৎসার কাজে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রে ও মধর বহুল ব্যবহার হয়। যেকোনও ঔষধকে বেশি প্রভাবশালী ও কার্যকরী করার জন্য মধুর ব্যবহার হয়ে থাকে। বিভিন্ন রোগে মধ ঐষধ হিসাবে ব্যবহার করা হয় যেমস- শরীরে কোথাও পুড়ে গেলে সামান্য মধু মেহেদী পাতার সঙ্গে বেটে লাগালে এত পোড়াজনিত জ্বালা ও কষ্ট লাগর হয়।

এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চামচ লেবু এক চামচ আদার রস এবং দু’চামচ মধু মিশিয়ে খেলে অজীর্ণ রোগ দুর হয় ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রশমিত হয়। এক কাপ দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে সেবন কররে বল বৃদ্ধি হয় । ঋতু স্রাব অনিয়মিত হতে থাকলে ছোট চামচে এক চামচ তুলসীর রস সমপরিমাণে মধু ও এক চিমটি বা এক একটি গোল মরিচের গুড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ বার করে দু’মাস নিয়মিত সেবন করলে উকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে ২০ গ্রাম মধু ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে ৪/৫ মাস চুলকানি, ফুস্কুড়ি ইত্যাদি চর্ম রোগ সেরে যায় । অনিদ্রা নিয়মিত হতে থাকলে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে পানিতে মিশিয়ে সেবন করলে উপাকার পাবেন ভালো ঘুমও হবে।

হঠাৎ যদি দাঁতে ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে মধুতে তুলা ভিজিয়ে ব্যথার স্থানে রাখলে ব্যথা যাবে। দ’চামচ মধুতে এক চামচ লেবুর রস। মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে সেবন করলে রক্ত চাপ স্বাবিক হয়ে যায়। ঠান্ডা লাগলে বা সর্দি হলে নাক দিয়ে পানি পড়লে বা ভিতরে জমে থাকা বের করতে হলে মধু, মিছরি ও মেহেদী পাতার রস পরপর ৮/১০ দিন নিয়মিত সেবন করলে সর্দি কমে যায়। আদা, পান, তুলসীর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে দিনে দু’তিন বার খেলে কাশি কমে যায়।  কানের মধ্যে হঠাৎকরে পোকা বা কীট পতঙ্গ ঢুকে গেলে মধু ও তেল মিশিয়ে কয়েক ফোট কানের মধ্যে দিলে উপকার পাওয়া যায় । এছাড়া কানের মধ্যে মধু দিলে কান দিয়ে পুজ পড়া, কানের ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দূর হয়।

ছাগলের দুধের সঙ্গে আট ভাগের ১ভাগ মধু মিশিয়ে সেবন করলে রক্ত শুদ্ধ হয়। কিন্তু এটা সেবন করলে লবন ও ঝাল খাওয়া যাবে না। মুখের ঘা বা জিভের জন্য মধু  খুবই উপকারী । মধু পানিতে মিশিয়ে কুলকুচি করলে জিত বা মুখের ঘা ভালো হয়ে যায়। এছাড়া সোহাগা বা ফিটকারী আগুনে খই করে মদুর সঙ্গে মেড়ে জিভে ঘষে লাগালে লালা পড়তে শুরু হবে । বাব দু;তিনেক এভাবে লাগালে ও লালা ঝরালে ভালো হয়ে যাবে। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করলে মেদ কমে শরীর পাতলা হয়। প্রয়োজনে এতে দু’ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে নেয়া যায়। পানিতে মধু মিশিয়ে  কুলকুচি করলে টনসিলেউপকার পাওয়া যায় । মধু আল্লাহ পদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত যার উপকরিতার শেষ নেই ।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।