অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্ক:  আলুর ইংরেজি শব্দ পটেটো এসেছে স্প্যানিশ শব্দ পেটাটা থেকে। বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum আলুতে আছে শর্করা, ভিটামিন , খনিজ লবন, ও প্রোটিন। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খাদ্য তালিকায় আলু প্রথম স্থান দখল করে আছে। আলু অধিক জনপ্রিয় কারন এটি সুস্বাদু সহজলভ্য, দামের তুলনায় এর পুষ্টি গুন অনেক বেশি, সহজে রান্না করা যায় ও আলু সংরক্ষণ করাও বেশ সহজ। হাজারো রকমের খাবার তৈরি করা যায় আলু দিয়ে যা সকলের কাছেই দারুন প্রিয়। আসুন, জেনে নেই সকলের প্রিয় আলুর ইতিহাস।

আলু কন্দ জাতীয় ( TUBER) সবজী, বিশেষজ্ঞদের মতে আলুর আদি উৎস দক্ষিন আমেরিকা, আলু প্রথম ৪০০ বছর পূর্বে আন্দিজ পর্বতে দেখা যায়। সেখান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আলুর চাষ সব দেশেই হয়ে থাকে। তবে চীন ও ভারতে সব চাইতে বেশি আলুর চাষ হয়। ধান ,গম ও ভুট্টার পরে আলু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফসল। বর্তমানে একজন ব্যক্তি গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩৩ কেজি আলু খেয়ে থাকেন! আলু মানব শরীরের জন্য দারুন খুবই উপকারি। যারা ওজন কমাতে চান আর ভাত খেতে চান না , তারা অনায়াসেই আলু নিজেদের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। তবে , সেটা যেন অবশ্যই তেলে ভাজা না হয়। যারা ডায়েট করেন সিদ্ধ আলু বা বেক করা আলু হতে পারে তাদের জন্য আদর্শ খাদ্য। এছাড়া যারা অধিক পরিশ্রম করেন এবং ছোট শিশুদের জন্য আলু অত্যন্ত পুষ্টিকর ও দরকারি খাদ্য। মানবদেহের পুষ্টিগুণের দিক থেকে আলু যেমন উপকারি রুপচর্চায় ও অতুলনীয় । আলু কার্বোহাইড্রেট অর্থাৎ শর্করা প্রধান সবজি। এতে একদিকে যেমনি ভাতের মতো শর্করা আছে তেমনি সবজির মতো খাবার আঁশ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আছে। আলু শরীরের ভেতরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

আলুতে থাকা ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-বি আমাদের শরীরের দুর্বলতা সারাতে সাহায্য করে। আলুতে কোনো চর্বি বা ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ এতে আছে লোহা ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। এই দু’টি খনিজ উপাদান হার্টের অসুখ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আলু রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি একটি উপকারী খাদ্য। আবার এক ধরনের প্রোটিনেস ইনহিবিটর থাকায় এটি ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। নিয়মিত আলু খেলে প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া থাকে না। আলু থেকে প্রাপ্ত শক্তি লাইকোজেন হিসেবে মাংসপেশি ও লিভারে সঞ্চিত থাকে। তাই শারীরিক ব্যয়ামের ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য আলু একটি উত্তম খাদ্য। আলু কম মাত্রায় সোডিয়ামযুক্ত, প্রায় ফ্যাটমুক্ত ও সহজে হজমযোগ্য । আলুকে বলা হয় স্কার্ভি ও রিউমেটিক প্রতিরোধক। আলুর প্রোটিন কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী সহায়ক খাদ্য। রুপচর্চা : আলুতে জিংকসহ অন্যান্য উপাদান থাকায় তা ত্বকের যত্নে বিশেষ উপযোগী। আলুর সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখ ও শরীরে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং ত্বকের দাগও দুর করে। বিভিন্ন ধরনের ব্রণ নির্মূলেও বিশেষ সহায়ক। প্রতি ১০০ গ্রাম আলু থেকে আমরা পাই – শর্করা- ১৯ গ্রাম, খাবার আঁশ – ২.২ গ্রাম, উদ্ভিদ প্রোটিন – ২ গ্রাম, খনিজ লবন – ০.৫২ গ্রাম , যার মধ্যে পটাশিয়াম লবন – ০.৪২ গ্রাম
ভিটামিন – ০.২ গ্রাম

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।