অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ চিরতা বৈজ্ঞানিক নাম Swertia chirayita  হিন্দীতে এর নাম “চিরায়াতা”। চিরতা বর্ষজীবি উদ্ভিদ।এ গাছটির গড় উচ্চতা প্রায় দেড় মিটার। গাছের পাতা কম-বেশী ১০ সে.মি.। পাতার অগ্রভাগ সূঁচালো। ফুল বৃন্তহীন, জোড়ায় জোড়ায় বিপরীতমুখী হয়ে ফোটে। ফুল হালকা সবুজের সঙ্গে গোলাপী মেশানো।

চিরতা গাছে ফুল অবস্থায় পুরো গাছ তুলে শুকিয়ে নিয়ে ওষুধের কাজে ব্যবহার করা হয়। চিরতা অত্যাধিক তিক্ত, জ্বর ও কৃমিনাশক শক্তি এবং পাচকতার গুণে ভরা। ঔষধী গুণে, চিরতা জেণ্টিআনা কুরুর অনুরূপ।  অতিসার এবং দুর্বলতায় চিরতা খুব উপকারী। চিরতা বেদগ্রন্থে গুহাবাসীকে বলা হতো ‘কিরাত’। মনুর মতে, কিরাত মানে নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ। এরা ছিল সদাচারভ্রষ্ট। এরা গুহাতেই খেত এবং সেখানেই মলমূত্র ত্যাগ করত। এ ছাড়া তারা সর্বদা অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকত এবং নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতো। তাদের সেসব রোগকে নিরাময় করত যে ভেষজ, তার নামই কিরাততিক্তা। কিন্তু বৌদ্ধ শ্রমণরা এই কিরাত শব্দটিকে উচ্চারণ করত ‘চিরাত’ বলে। সেই থেকে কিরাততিক্তার নাম হয়েছে ‘চিরাত’ এবং ক্রমবিবর্তনে ‘চিরতা’ নাম সর্বত্র প্রসিদ্ধ।

পৃথিবীতে প্রায় ১৮০ প্রকার চিরতাজাতীয় গুল্ম আবিষ্কার হয়েছে। তার মধ্যে ভারতবর্ষে রয়েছে ৩৭ প্রকার। প্রকৃত চিরতা উদ্ভিদ ২ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। এদের কাণ্ড গুলো গোল ও শাখাশূন্য। শরৎকালে এতে ফুল হয়। তখন এলাকাবাসী এগুলো শিকড়সহ তুলে বাজারজাত করে। ওষুধার্থে সমগ্র উদ্ভিদই ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন বিজ্ঞ বৈদ্যদের মতে, চিরতা মৃদু বিরেচক, ক্রিমিঘ্ন, জ্বরঘ্ন, অগি্নর উদ্দীপক, ক্ষুধাবর্ধক। হিন্দু চিকিৎসকরা বলেন, চিরতা বল্য, ক্রিমিনাশক, জ্বরঘ্ন। হেকিমরা বলেন, এটি সি্নগ্ধ, পিত্তজনিত জ্বর ও দাহ নিবারক। পশ্চিম ভারতীয়রা বলেন, এটি হাঁপানিতে ভালো ফলদায়ক।

আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থাগাররা নানাভাবে চিরতার ব্যবহার সমর্থন করেছেন।  স্তন্যশোধন, তৃষ্ণা নিবারণ রক্তবমি ও উদরের বিভিন্ন রোগে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। হারিত বলেন, গর্ভকালীন বমিতে চিরতা ভেজানো পানি উপযোগী। এটি চুলকানি, ক্রিমি, কুষ্ঠ, জ্বালা, গর্ভকালীন বমি, জ্বর-পরবর্তী দুর্বলতা, অ্যালার্জি, রক্তপিত্ত, স্তন্যশোধন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশিসহ হাঁপানি, প্রমেহ কোষ্ঠবদ্ধ, অগি্নমান্দ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। দেশীয় সালসায় চিরতা দেয়া হয়। কবিরাজরা পুরনো জ্বরে যে সুদর্শন চূর্ণ ব্যবস্থা করেন, তা ওই চিরতা থেকে প্রস্তুত। অ্যালোপ্যাথিক মতে, রাসায়নিক উপায়ে চিরতার বীর্য বের করে বলাকারক ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।