অনলাইন ইওর হেল্‌থ  ডেস্কঃ  পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতা  ইমানের অঙ্গ। খাবার শুরুতে যেমন হাত ধোয়া দরকার তেমনি খাবার তৈরিতে বা পরিবেশন করতেও হাত ধোয়া খুবই জরুরি।  আবার  খাবার শেষে হাত ধোয়া মোছাটাও পরিষ্কার থাকা উচিত। প্রতিটি ক্ষেত্রে হাত ধোয়া, হাত পরিষ্কার রাখা সুস্বাস্থ্যের অন্যতম শর্ত । এই একটি অভ্যাস আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরাট প্রভাব রাখতে পারে। সুস্থ থাকার প্রাথমিক কাজই হল খাবার আগে ভালোভাবে সাবন বা অন্য কোনো অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করে সুন্দরভাবে হাত ধোয়ে নেয়া । অনেকেই এ ব্যাপারটা জানলেও অনুসরণ করেন কম। আবার কেউ কেউ হয়তো এ ব্যাপরে একবারেই উদাসীন। শরীরে ঠান্ডা বা ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া আমাশয়, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন পানি ও খাদ্যবাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। অনেকেই আবার হাঁচি কাশি ইত্যাদি অপরিষ্কার জামা বা রুমালে মুছে ফেলেন। এ সবের মাধ্যমে রোগ ছাড়াতে পারে । বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার আরো বেশি, । ৫ বছরের কমবয়সি শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ ডায়রিয়া, যা মূলত পানিবাহিত। এ ছাড়া সঠিক নিয়মে হাত না-ধুয়ে শিশুদের কাপড় বা ডায়পার পরিবর্তন করালে রোগাক্রান্ত শিশুতে রোগ ছড়াতে পারে। হাত পরিষ্কার রাখার উপায় কম-বেশি সবারই জানা কলের পানি ছেড়ে দিয়ে পানি পড়তে থাকা অবস্থায় দুই হাত ধুতে হবে।  যেকোন সাবান দুই হাতে লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ড সময় ধরে আঙ্গুলের ফাঁকে, নখে, হাতের সামনে পিছনে ও কবজিতে ভালোভাবে ঘষা উচিত। পরে আবার পানি ঢেলে দিলেই পরিষ্কার হবে ।

 হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কী কী ভুল হতে পারে?

১০-১৫ সেকেন্ডের কম সময় হাত ধোয়া। * সাবান ব্যবহার না করে শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়া ।* হাত ঘষে সাবানের ফেনা বের না-করে ধোয়া অথবা সাবান ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলা।* হাতের পিছনের অংশ, আঙ্গুলের ফাঁকের জায়গা ও নখের অংশ পরিষ্কার না-করা। * খাবার তৈরি, পরিবেশন ও খাবার আগে হাত না -ধোয়া। * একবার ব্যবহার করা পানি দিয়ে পুনরায় হাত ধোয়া, বাটিতে পানি নিয়ে সেই পানিতে একাধিক জন হাত ধোয়া। * একই তোয়ালেতে সবার হাত মোছা। * হাত মোছার তোয়ালে মাঝে মাঝে পরিষ্কার না-করা।

করনীয়ঃ

* খাবার শুরুতে ভালোভাবে হাত ধোয়া। * খাবার শেষে হাত ধুয়ে পরিষ্কার কাপড়ে বা তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলা। * খাবার প্রস্তুতকারীদেরও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে কারণ তাদের তৈরি খাবারই মানষ খেয়ে থাকে।* বাথরুম ব্যবহারের পর ভালোভাবে হাত ধোয়া। ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য মেডিকেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাত ধোয়ার ব্যাপারে আরো সতর্কতা জরুরি। কারণ তাদের কারণে রোগীদের শরীরে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। একজন রোগী দেখার পর প্রত্যেক চিকিৎসককে দ্বিতীয় রোগী দেখার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের ডায়াপার বদলানোর পরে, বাইরের কাজ বা খেলাধুলার পরে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে  খেলাধূলার পরে হাঁচি-কাশিতে নাক ঝাড়ার পরেও হাত ধোয়া জরুরি। এছাড়া সঠিকভাবে হ্যান্ড ওয়াশিং এর জন্য আঙ্গুলের নখ ছোটো রাখা, কৃত্রিম নখ ব্যবহার না-করা, হাত ধোয়ার সময় ঘড়ি, আংটি ও ব্রেসলেট খুলে রাখা এবং জামার হাত ভিজে যাওয়ার সম্বাবনা থাকলে হাতা গুটিয়ে রাখা বাঞ্জনীয়। রোগ জীবাণুর সংক্রমণ ছড়ানো থেকে নিজেকে এবং অন্যকে বাঁচাতে হাত ধোয়া একটি উত্তম কাজ। নিজে নিয়মিত অভ্যাস করুন এবং অন্যদের ও উদ্বুদ্ধ করুন। বাড়িতে  ও স্কুলে শিশুদের কাছে এ সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞানদান করা বিশেষ করে শিক্ষকদের সচেষ্ট ভূমিকা এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। কারণ শিশুরাই অপরিচ্ছন্নতাজনিত রোগে  বেশি ভোগে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।