‘গল্প’ শব্দটিকে আমরা সময় এবং স্থান ভেদে নানা নাম দিয়ে থাকি। যেমন- খোসগল্প, আড্ডা, পরচর্চা, প্রশংসা এমনকি আলোচনাও বলে থাকি। যদি অলস আলোচনাও হয় তবে তা থেকে অনেক অর্থবহ এবং হাস্য রসের কথা উঠে আসতে পারে।

আমরা সবাই-ই গল্প করে থাকি। কিছু মানুষ আছেন যারা গল্প খুবই ভালোবাসেন। অনেকে মজা করে কৌতুক সৃষ্টি করতে পারেন। তবে অনেক ধর্মাবলম্বী আছেন যারা একে অন্যের সঙ্গে এতো গল্প করাকে পছন্দ করেন না। বিশেষ করে সময় নষ্ট বা কোন ব্যক্তি সম্মানের হানি করা নৈতিক দিক থেকে হীন বলে আক্ষায়িত করা হয়। পরচর্চাকে একদমই পাত্তা দেয়া হয় না।

মানুষের কথোপকথনের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে, জীবনের ৬০ ভাগ সময় ব্যয় হয় গল্প করে। অথচ আমরা নিজের প্রয়োজনে এমন গল্প প্রায়ই করে থাকি।

দক্ষতা টিকিয়ে রাখতে এবং অন্যকে বিচার করতে গল্পের গুরুত্ব কেমন? এ অর্থে গল্প করা সব সময় খারাপ অর্থে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

প্রথম দিকে গল্প শব্দটি ব্যবহার হতো কেউ তার পরিবারের উন্নতির কথা অন্য কারো সঙ্গে বর্ননা করা অর্থে । শেক্সপিয়রের সময়ে গল্প শব্দের ব্যবহার হতো কোন মহিলার জন্মদান, তার সম্ভাবনার কথা, তাকে ভাল সময় দেয়া ইত্যাদি অর্থে। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিগত বিষয়ে গুজব বা কোন কথা, উত্তেজনাপূর্ণ কথা, প্রাকৃতিক পরিবেশ বা অলস প্রকৃতির কথা নিয়ে আলোচনা হয় গল্পে।ladies whispering

 

আমাদের প্রযুক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তৃতি ঘটায় নানা রকম গল্পেরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ, উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যেকোন  বার্তা দ্রুত বেগে সবার কাছে পাঠানোর জন্য নানা মাধ্যম চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একটা সময় ছিলো যখন একজনের বার্তা অপরের কাছে পাঠাতে কয়েক ঘন্টা বা দিনও লেগে যেত কিন্তু বর্তমানে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফেসবুক, টুইট, ব্লগ, ইমেইল অথবা মুঠোফোনে কথা বা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব।

গল্প করি কেন?

মানুষ শুনতে এবং অপরের সম্বন্ধে কথা বলতে ভালোবাসে। মনোবিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক টি ম্যক এনড্রুর সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা গ্রন্থে উঠে এসেছে মানুষ কেন গল্প করতে ভালোবাসেন তার কারন। তার গবেষণায় বলা হয়েছে, আমাদের এই ছোট জীবনে পুর্বপুরুষদের অভিজ্ঞতা আর অত্যাধুনিক সামাজিক চাহিদার বিকাশে গল্প করতেই হয়। তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগতে এবং বর্তমান কাজে অগ্রগতি আনতে জানা প্রয়োজন। আর তাই আলোচনা করতে হয়।

বন্ধুত্ব বাড়াতে সাহায্য করে

গল্পের মাধ্যমে অপরের সঙ্গে কথা বলা, শোনা, গোপন বা যেকোন কিছু ভাগাভাগি করা যায়। অপরের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। ভিন্ন সমাজ-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি। আলোচনার মাধ্যমে খারাপ কাজকে রুখতে পারি।

উল্লেখযোগ্য মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারি। আমাদের স্বপ্ন তৈরি, ভয় দুর এবং আশা বাধতে সাহায্য করে তাদের অভিজ্ঞতাগুলো।

কিন্তু খারাপ আলোচনা বা মিথ্যা সমালোচনায় অনেক সময় ভাল বন্ধুকে দুরে সরিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় তার জীবনে ডেকে আনতে পারে দুর্দশা। তাই গল্প বা আলোচনা যাই বলুন না কেন তা হওয়া চাই অর্থবহ। অনর্থক কথা এড়িয়ে চলাই ভাল।

টিটি

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।