সাধারণত একটি নগরে ১০ লাখ মানুষের বসবাস হলে তা আশেপাশের গ্রামীণ জনপদের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশী ধারণ করে। সে হিসেবে ১ কোটি জনসংখ্যার নগরীকেতো একটি জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড বলতে হয়

imran

ম শাফিউল আল ইমরান:  শিশুদের বিনোদনের জায়গা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে। শিশুরা  বিনোদন গদবাধা ধারায় চলে যাচ্ছে। খেলার মাঠের অভাবের আমাদের শিশুরা ঘর মুখো বিনোদনে অভ্যস্ত হচ্ছে। খেলাধুলা নিয়ে একটু বলে নেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক স্থাপতি জাকিউল ইসলাম ঢাকার শিশুদের উপর করা গবেষণায় সঙ্কেতপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। গবেষণা গুলোর জন্য ঢাকার শিশুদের উপর পরিবেশের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত ভাবে বেড়ে ওঠা আবাসিক এলাকাগুলো শিশুদেরকে ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেনা। ঢাকা শহরের ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী বিভিন্ন এলাকার ১২৫ জন শিশুর উপর গবেষণা  কার্যক্রম পরিচালনা করে দেখা যায় যে, ঢাকার শতকরা ১৬ শিশুর নিজ পাড়ায় কোন বন্ধু নাই। ৩০% শিশু বাসার বাইরে পাড়ার মধ্য এক মিনিট ও খেলাধুলা করে না। ১৬% শিশু বড়দের সাহায্য ছাড়া একা বাসার বাইরে যেতে পারে না। বাসার বাইরে খেলাধুলার এ ওভাব শিশুদের মন মানুষিকতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি ইউনিভারসিটি অফ সাউথ অষ্টলিয়া ১৯৬০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২৮টি দেশের ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের উপর গবেষণা করে দেখতে পাচ্ছে যে, এখনকার সমসাময়িক বাচ্চারা ১ মাইল দৌড় শেষ করতে তাদের বাবা-মার (বাবা-মার যখন শিশু ছিলেন) চেয়ে ৯০ সেকেন্ট সময় বেশী নিচ্ছে। এর কারন হিসাবে গবেষকরা অতি মাত্রায় ঘর মুখতা প্রয়জনীয় খেলাধুলা না করাকেই দায়ি করছেন।

বর্তমানে শহরে মাঠ দখল, খেলাধুলা বন্ধ রেখে মাঠ ভাড়া দেওয়া, সবার চোখের সামনে হরহামেশাই বিভিন্ন ধরনের নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে।মাঠের অভাব এবং অপব্যবহার একটা জাতীয় সমস্যা।পরিবেশ গবেষক ও বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট  সেফগার্ড (বি-ইয়েস) আহবায়ক ম.আব্দুর রহমান রানা বলেন, নগরের স্বাভাবিক বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য উন্মুক্ত স্থানের বিকল্প নেই। সাধারণত একটি নগরে ১০ লাখ মানুষের বসবাস হলে তা আশেপাশের গ্রামীণ জনপদের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশী ধারণ করে। সে হিসেবে ১ কোটি জনসংখ্যার নগরীকেতো একটি জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড বলতে হয়। তিনি আরও বলেন,  “বর্তমান সময়ে চার দেয়ালের ভিতর আবদ্ধ থেকে শিশুরা হয়ে উঠছে নির্জীব প্রাণীতে।”

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বর্তমানে রাজধানীর পার্ক ও মাঠগুলোর কোনোটিতেই হাঁটার পরিবেশ নেই।নেই শিশুদের জন্য খেলার ব্যবস্থা।কোনোটি দখল হয়ে গেছে।বসানো হয়েছে বাজার।কিছু পার্ক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে তারা এর অবকাঠামোই নষ্ট করে ফেলেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক স্থাপতি জাকিউল ইসলামহতাশা প্রকাশ করে বলেন, একটু লাভের আশায় মনের অজান্তে পরবর্তী প্রজন্মকে ঘর বন্ধী রাখার পাকা ব্যবস্থা করে রেখেছি। মানুষিক এবং শারীরিকভাবে হতাশা নিয়ে এক প্রজন্ম গড়ে উঠছে।

তবে হতাশার কথা শোনালেও একজন দেখালেন আশার আলো ।  পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা’র খেলাধুলা বিষায়ক সম্পাদকীয় মণ্ডলীর সদস্য শামিম খান টিটু বলেন, ঢাকা সহ সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেদখল খেলার মাঠগুলো ফিরিয়ে আনতে আমরা সরকারকে চিঠি দিয়েছি। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খেলার মাঠের একটা তালিকা চেয়েছি। সরকারের হাত থেকে তালিকা পাওয়ার পর আমরা এগুলোকে উদ্ধারের জন্য কাজ করব। পবা’র লক্ষ হচ্ছে এগুলোকে ফিরিয়ে এনে এ মাঠ গুলোতে আগামী প্রজন্মের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যাতে আগামী প্রজন্ম সুন্দর পরিবেশে খেলাধুলা করার সুযোগ পায়। শুধু শামিম খান টিটু নয় এমনটিই আশা করছেন সচেতন অভিভাবকারা।

সুত্রঃ www.bnews.asia

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।